
আমি কিছু কিছু খাবার খুব পছন্দ করি।
ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে কিছু দিন পরপর নানান রকম খাবার খাই। অবশ্য বাসায় বলি না। সুরভি শুনলে রাগ করবে। বাইরের খাবার খাওয়া আমার নিষেধ। কমলাপুরের কাছে একটা হোটেল আছে। সেখানে আমি মাঝে মাঝে সন্ধ্যার পর গরুর বট খেতে যাই। গরুর বট সাথে তন্দুর রুটি। খেতে বেশ লাগে। একদম গরম চুলা থেকে নামিয়ে দেয় বট রুটি। ঢাকার বাইরে গরুর বট খুব বেশি পাওয়া যায় না। ঝাল ঝাল বট মন্দ নয়।
পুরান ঢাকার নারিন্দা যাই নেহারি খেতে।
এই নেহারি শুধু সকালবেলা পাওয়া যায়। খুব চমৎকার বানায়। এই হোটেলে প্রচন্ড ভিড় হয়। বসার জায়গা পাওয়া যায় না- এমন অবস্থা! লোকজন পাগলের মতো খায়। সকাল দশটার আগে না গেলে নেহারি পাওয়া যায় না। নেহারির সাথে গরম তন্দুর রুটি বেশ ভালোই লাগে। পরিমানেও অনেক দেয়। গরম নেহারির উপর একটু ধনেপাতা আর আদা কুচিও দিয়ে দেয়। ঢাকার বাইরে অনেক জায়গায় নেহারি খেয়েছি। কিন্তু ভালো লাগে নি। ঢাকার মানুষ ঢাকার বাইরে গিয়ে খাবার খেয়ে আরাম পায় না।
মোহাম্মদপুরে মাঝে মাঝে যাই হালিম খেতে।
সেই রকম হালিম বানায়। সাথে তন্দুর রুটি বা পরোটা। বড় ডেগ ভরতি হালিম বানানোই থাকে। কষা মাংস থাকে আলাদা। যে যেটা খুশি খায়। কেউ মূরগী, কেউ গরু, কেউ কেউ গরুর পায়া। প্রচন্ড ভিড় থাকে। বসার জায়গা পাওয়া যায় না। অনেকে দাঁড়িয়ে দাড়িয়েই খায়। একবাটি গরম হালিম। হালিমের উপর পেঁয়াজ ভাজা, বিট লবন, আদা কুচি ছিটিয়ে দিয়ে দেয়। লেবু ও তেতুলের টকও থাকে। আমি লেবু ও তেঁতুল টক নিই না। হালিম ঢাকার সব এলাকাতেই পাওয়া যায় কিন্তু সব জায়গার হালিম খেতে স্বাদ না। ফরিদপুর আর খুলনা শহরে একবার হালিম খেয়েছিলাম। আরাম পাই নি।
মোহাম্মদপুর জেনিভা ক্যাম্প দারুন জায়গা।
বিহারিরা অনেক রকম খাবারের দোকান দিয়েছে। নানান রকম খাবার পাওয়া যায়। সন্ধ্যার পর তো সেখানে পা রাখাই কষ্ট- এত মানুষের ভিড় হয়। বাইক আর গাড়ি করে অনেক দূর দূর থেকে লোকজন আসে। লুচি, কাবাব, গ্রীল, গরু, মুরগীর চাপ সবই পাওয়া যায়। গরম গরম লুচি দিয়ে খেতে ভালোই লাগে। সাথে সালাদ দেয়, সালাদের উপর কি একটা দেয়। টক টক, ঝাল ঝাল। একসময় সুরভি আর আমি এখানে প্রতি সপ্তাহে একবার করে যেতাম'ই।
পুরান ঢাকার হানিফ বিরানিটা আমার ভালো লাগে।
কাজী আলাউদ্দিন রোডে। সিদ্দিক বাজারের ঠিক পশ্চিম পাশেই। এই খাবারটা প্রতিমাসে একবার না খেলে ভালো লাগে না। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। ওদের মতিঝিল, কাওরানবাজারেও শাখা আছে। তবে আলাউদ্দিন রোডেই যাই। একই রাস্তায় হাজির বিরানির দোকান। ওরাও ভালো বানায়। হানিফ, হাজি একই রকম বানায়। দুটোর খাবারই এক স্বাদ লাগে আমার কাছে। ছোটবেলা হাজির বিরানি বেশি খেতাম। এখন খাই হানিফ। একই নাম দিয়ে ঢাকা শহরে অনেক দোকান আছে। তবে খাবারের স্বাদ এক না।
বাসাবো আর গিলগাওয়ে প্রচুর খাবারের দোকান হয়েছে।
খাবারের মান আহামরি কিছু না। কিন্তু প্রচুর ভিড় হয়। এখন ধানমন্ডি বা বেলী রোডের চেয়ে খিলগাও বেশি জনপ্রিয়। সন্ধ্যার পর রাস্তায় লম্বা জ্যাম লেগে যায়। বিশেষ দিন গুলোতে তো এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকলেও বসার জায়গা পাওয়া যায় না। এজন্য ফোন দিয়ে আগে থেকে বসার জায়গা বুকিং দিয়ে রাখতে হয়। সেসব দোকানে খাবার তেমন স্বাদ না। বার্গার, পিজা, নুডুলস, চিকেন ফ্রাই, কাবাব বা জুস কিছুই স্বাদ না। তবে প্রচুর দাম নেয়।
ঢাকা শহরে কিছু চায়ের দোকান আছে।
এই সমস্ত চায়ের দোকানের নাম গুলো বড় অদ্ভুত। যেমন- এক কাপ চা, চায়ের বাড়ি, চা'টা, আড্ডা, ইত্যাদি। দোকান গুলোতে এত ভিড় হয়! এত ভিড় হয় যে- এক কাপ চা অর্ডার দেওয়ার বিশ মিনিট পর চা পাওয়া যায়। প্রচণ্ড ধাক্কাধাক্কি হয়। সেই চায়ের দোকানে বসার জায়গা নেই। লোকজন রাস্তায় দাড়িয়েই চা খায়। দোকানে সারাক্ষণ খুব জোরে হিন্দি আর ইংলিশ গান চলতেই থাকে। নানান রকম লাইট জ্বলে নিবে। চায়ের দাম বেশি না। ২০/৩০ টাকা করে। তবে এসব দোকানে সব ধরনের চা পাওয়া যায়। জলপাই চা, তেঁতুল চা, মালটা চা, কাঁচা মরিচ চা। লোকজন পাগলের মতো চা খায়। আসলে এসব দোকানিরা চা নিয়ে ফাজলামো শুরু করেছে। তবে তাদের বেচাবিক্রি দেখার মতোন। লাইন ধরে এসব দোকানে চায়ের অর্ডার দিতে হয়। বেচা বিক্রি ভালো দেখে দোকানিরা দোকানে এখন বার্গার, স্যান্ডউইচ, কোক আরও হাবিজাবি নানান রকম খাবার বিক্রি শুরু করেছে। সেসব খাবারও বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে।
আমি পেটুক নই। খুব সামান্য খাই।
তবে খাবার স্বাদ হতে হবে। তা না হলে আমি ছুঁয়েও দেখব না সে খাবার। হাঁসের মাংস ঢাকার সব হোটেলে পাওয়া যায় না। নতুন বাজার পার হয়ে, বসুন্ধরা পার হয়ে কিছু দূর গেলেই একটা হোটেল আছে। সেখানে হাঁসের মাংস ভূনা পাওয়া যায়। ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েরা এখানে সব সময় খেতে আসে। অনেক টাকা দাম রাখলেও খাবারটা খুব স্বাদ হয়। পরোটা বা তন্দুর রুটি দিয়ে খাওয়া যায়। ফরিদপুর শহরে বেশ কয়েকটা হোটেলে সারা বছর হাঁসের মাংস পাওয়া যায়। তবে খেতে মজা না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

