
ইবরাহীম খাঁ ১৮৯৪ সালে জন্মগ্রহন করেন।
তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক। তিনি টাঙ্গাইল জেলার বিরামদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম শাবাজ খাঁ ও মায়ের নাম রতন খানম। তার বাবা ছিলেন একজন কৃষক। ইব্রাহীম খাঁ ১৯০৬ সালে জামালপুরের সরিষাবাড়ির পিংনা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সাহিত্যিক প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ প্রথম মুসলমান ছাত্র যিনি পিংনা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এন্ট্রাস (বর্তমান এস.এস.সি) পাশ করেন। ১৯১৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ.পাস করেন। ১৯২৪ সালে আইন পাস করে ময়মনসিংহে ওকালতি শুরু করেন। তিনি ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় তিনি লেখাপড়া করেছেন। তিনি বিয়ে করেন নি।
ইবরাহীম খাঁ ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি স্মৃতিকথা, শিক্ষা-সাহিত্য-ধর্ম-বিষয়ক প্রবন্ধ, নাটক, ভ্রমণ কাহিনী, রম্য রচনা, গল্প, উপন্যাস, ইতিহাস ও জীবনচরিত, শিশু সাহিত্য, পাঠ্য বই ও অনুবাদ মিলিয়ে শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। অনেক দায়িত্বপূর্ণ পদে কর্মব্যস্ত থেকেও অনলসভাবে তিনি বিশাল সাহিত্য ভান্ডার রচনা করেছেন। সাহিত্যের সকল শাখায়ই তিনি স্বচ্ছন্দে সফলতার সঙ্গে পদচারণা করেছেন। ব্রিটিশ ভারতে নিগৃহীত পণ্ডিতদেরকে তিনি তার কলেজে সুযোগ দিতেন। বহু ছাত্রকে তিনি বিনা বেতনে পড়িয়েছেন।
তিনি তার নিজের বিশ্বাসে দৃঢ় ছিলেন, কিন্তু অন্যের মতবাদকে বিন্দুমাত্র অশ্রদ্ধা করতেন না। অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইব্রাহীম খাঁ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন। নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে তাঁর নামে একটি কলেজ আছে।
ইব্রাহীম খাঁ ১৯১৯ সালে করটিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ প্রায় ১২০টি গ্রন্থ রচনা করেন। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র, নছর প্যায়দা, ইসলামের মর্মকথা, আনোয়ার পাশা, বাবুরনামা ও সোনার হরফে লেখা নাম। এ ছাড়া 'বাতায়ন' তার আত্মজৈবনিকমূলক গ্রন্থ। ইংরাজিতে লেখা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘এনেকডোটস ফ্রম ইসলাম' একটি মূল্যবান গ্রন্থ। এটি পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ওকালতি পেশায় সততা বজায় রেখে কাজ করা অসম্ভব বিবেচনা করে ইব্রাহীম খাঁ দু'বছর পর আইন ব্যবসা পরিত্যাগ করে ১৯২৬ সনে করটিয়ার জমিদার দানবীর ওয়াজেদ আলী খান পন্নীর অর্থ সাহায্যে করটিয়া সা'দত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। উক্ত কলেজে তিনি প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল নিযুক্ত হন। ৮৪ বছরের জীবনে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন স্কুল, কলেজ, মাদরাসাসহ, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
১৯৫৩ সনে তিনি পাকিস্তান গণ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
বিভিন্ন সময় তিনি পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসাবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সভা-সম্মেলনে যোগদান করেন। এ উপলক্ষে তিনি তুরস্ক, মিশর, লেবানন, সৌদি আরব, সিরিয়া, ইরান, চীন ইত্যাদি দেশ পরিভ্রমণ করেন। তাঁর রচিত ‘কামাল পাশা' ও ‘আনোয়ার পাশা' নাটকে তুরস্কের নবজন্মের কথা বলা হয়েছে। ১৯৬৩ সনে পাকিস্তান সরকার তাঁকে ‘তঘমা-এ-কায়দে আযম' খেতাব প্রদান করেন। ১৯৭১ সনে পাক বাহিনীর নৃশংসতার প্রতিবাদে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ‘জাদু সম্রাট' পি.সি. রায় গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তির সাথে তাঁর শিক্ষক ইব্রাহীম খাঁকে ‘হৃদয় সম্রাট' হিসাবে আখ্যায়িত করেন।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

