somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ভালো লাগে

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১১:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মাঝে মাঝে আমার সব কিছু ভালো লাগে।
কোনো কিছুতেই বিরক্ত লাগে না। বরং আনন্দ লাগে। সহজ সরল আনন্দ। আমার ব্যলকনিতে একটা ছোট রেইনলিলি গাছ আছে। বৃষ্টির পানি পেলেই রেইন লিলিতে ছোট ছোট ফুল ধরে। দেখতে ভালো লাগে। আমি প্রতিদিন দশ মিনিট এই রেইন লিলির পাশে বসে থাকি। ভালো লাগে। ছয়তলা থেকে নামতেই তিন তলার নাসিমা বুয়াকে দেখি। সে সিড়ি ঝাড়ু দিচ্ছে। গুনগুন করে গানও গায়। অতি সাধারণ একটা দৃশ্য। এই দৃশ্যটি দেখতে ভালো লাগে। নীচ তলায় মা তার স্কুল লাইফের বান্ধবীর সাথে গল্প করছে। দুজন মিলে চা বিস্কুট খাচ্ছে। এই দৃশ্যটাও আমার ভালো লাগে। পরী বিছানায় শুয়ে রঙ তুলি নিয়ে ছবি আঁকে। পরীর আঁকা ছবি গুলোও ভালো লাগে। বাসা থেকে বাইরে বের সময় কলাপসিবল গেট খুলতেই ক্যাচ ক্যাচ শব্দ হয়। এই নিরীহ ক্যাচ ক্যাচ শব্দটা বেশ লাগে।

বাসা থেকে বের হয়ে কিছু দূর গেলেই-
একটা দোকান আছে। সেই দোকানে অন্যান্য জিনিসের সাথে ডাব বিক্রি করে। কচ কচ করে মুহুর্তের মধ্যে ডাব কেটে ফেলে। ডাব কাটা দেখতেও ভালো লাগে। ডাবের দোকানের পাশেই আছে পুরী, পিয়াজু আর আলুর চপের দোকান। আগে তিন টাকা পিস বিক্রি করত। এখন প্রতি পিছ পাঁচ টাকা করে। ভর সন্ধ্যায় এই দোকানে খুব ভিড় হয়। লোকজন পাগলের মতো গরম গরম পুরী, পিয়াজু, আলুর চপ, বেগুনী কিনে- দেখতে ভালো লাগে। বড় রাস্তায় আসতেই এক বুড়োকে প্রতিদিন দেখি। সেই বুড়ো কলা বিক্রি করে। আমি মাঝে মাঝে এই বুড়োর কাছ থেকে কলা কিনি। লোকজন কলা কিনে আমি দাড়িয়ে দেখি। দেখতে ভালো লাগে। কলা বিক্রেতার পাশেই একলোক সিদ্ধ ডিম আর দুধ বিক্রি করে। লোকজন রাস্তায় দাড়িয়েই সিদ্ধ ডিম খায়। কেউ হাঁসের ডিম, কেউ দেশী মূরগীর ডিম, কেউ ফার্মের মূরগীর ডিম। কেউ কেউ খায় দুধ খায়। গরম দুধ।

রেললাইনের জায়গাটা আমার খুব ভালো লাগে।
ট্রেন আসার আগ মুহুর্তে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। মুহুর্তের মধ্যে পুরো রাস্তা রিকশা, গাড়ি, বাইক দিয়ে পুরো রাস্তা ভরে যায়। লম্বা ট্রেন হেলে দুলে যায়। এই দৃশ্য দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। রেল লাইনের পাশেই প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাজার বসে। লোকজন পাগলের মতো মাছ কিনে। লাইটের আলোতে মাছ গুলো ঝকমক করে। এই দৃশ্যটা আমার ভালো লাগে। আমি দূরে দাড়িয়ে মানুষের মাছ কেনা দেখি। মাছ কাটা দেখি। ভালো লাগে। রেললাইনের ওপারে লম্বা লাইন ধরে ভ্যান গাড়িতে করে ফল বিক্রি করে। পুলিশ আসলেই ফলের গাড়ি গুলো গলির ভেতরে পালিয়ে যায়। আবার পুলিশ চলে গেলে মেইন রাস্তায় চলে আসে। এই লুকোচুরি খেলা দেখতে ভালো লাগে। যদিও পুলিশ এই ফল বিক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নেয় প্রতিদিন। এক মহিলা পিঠা বিক্রি করে। সে আমার পরিচিত। আমাকে দেখলেই বলেন, বাজান পিঠা খেয়ে যান।

খিলগাও চৌরাস্তায় দেখার জিনিসের অভাব নাই।
সারাদিনে পুলিশ অসংখ্য রিকসা আটকে রাখে। সন্ধ্যায় দেনদরবার হয়। যারা টাকা দেয়। তারা রিকশ ফেরত পায়। যারা টাকা দেয় না তারা রিকশা ফেরত পায় না। সেই সব রিকশা বড় গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। কোথায় নিয়ে যায় কে জানে! প্রতিদিন এই রকম হাজারও নানান রকম দৃশ্য দেখি। ভালোও লাগে। আমি যে দোকানে চা খাই। সেই ছেলেটা সারাক্ষণ কানে মোবাইল দিয়েই রাখে। কার সাথে কথা বলে কে জানে! ফোনে কথা বলতে বলতে চা বানায়। এই দৃশ্যটা দেখতে ভালো লাগে। চায়ের দোকানে নানান রকম মানুষ আসে, নানান রকম তাদের কথাবার্তা। ভালো লাগে। চায়ের দোকানের কাছে একলোক কাবিল নাম। কাবিল ভাই ভ্যানে করে পেঁয়াজ, আদা, রসুন বিক্রি করে। কখনও কখনও ফুলকপি, বাঁধা কপি আর আলুও বিক্রি করে। একসময় কাবিল ভাইয়ের চায়ের দোকান ছিলো। তার দোকানে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিতাম। তার দোকানে চা সিগারেট খেয়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বাকি করেছিলাম। কাবিল ভাইয়ের হাসিটা ভালো লাগে।

চারপাশে যা দেখি তা-ই আমার ভালো লাগে।
এ আমার কেমন অসুখ হলো! আমি খুব মন দিয়ে দেখি। উপভোগ করি। সেদিন দেখলাম একমেয়ে রিকশা চালকের সাথে ঝগড়া করছে। আমার ইচ্ছা করলো এদের দুজনকে ডেকে চা খাওয়াই। তাদের সাথে গল্প করি। আমাদের বাসার সামনে গলিতে রাত আট টার দিকে সিটি করপোরেশনের লোকেরা এসে রাস্তা ঝাড়ু দেয়। একসময় ভোরের দিকে ঝাড়ু দিতো। এখন রাতে ঝাড়ু দেয়। রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার দৃশ্য টা দেখতেও ভালো লাগে। সেদিন সরকারী লোক এসে রাস্তার লাইট ঠিক করছে। তারা তিনজন ছিলো। একজন মই বেয়ে উপরে উঠে লাইট ঠিক করছে। নীচে একজন মই ধরে দাড়িয়ে আছে। আরেকজন কাগজে কলমে কি যেন লিখছে। যে কাগজে লিখছিলো- তাকে বললাম, ভাই সাহেব লাইট লাগিয়ে দিয়ে যান, দুই দিন পর তো লাইট আর জ্বলে না। যে লোক মইয়ে উঠে লাইট ঠিক করছিলো- সে খুব রেগে গেলো। মই থেকে খুব দ্রুত নেমে এলো আমার কাছে। তার ভাব এরকম আমি খুব অন্যায় করে ফেলেছি, এখন আমাকে মারবে। তারা তিনজন মিলে আমাকে ধরেছে। এখনই আমাকে মারবে। খুব মারবে। এই দৃশ্যটা ভালো লাগলো।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১১:১৭
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×