
মন আজ ভালো নেই।
ভোর রাতে আব্বাকে স্বপ্ন দেখেছি। মরা মানুষকে স্বপ্নে দেখা কি ভালো? বার বার? গত সাত দিনে তিন বার আব্বাকে স্বপ্নে দেখলাম। আব্বা যখন জীবিত ছিলো তখন তাকে স্বপ্নে দেখতাম না। পাঁচ বছর আগে আব্বা ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছিলো। আমি এড করি নি। আব্বা ম্যাসেজ দিয়েছিলো- 'প্লীজ এড মি'। আমি বলেছিলাম- নো, নেভার। আমার মোবাইলে আব্বার দুটা নম্বর এখনও আছে। নম্বর দু'টা কি রাখবো না মুছে দিবো? বুঝতে পারছি না।
স্বপ্নে কি দেখলাম সেটা বলি-
বিরাট বড় একটা বাড়ির বিশাল বারান্দা কাচের মতো স্বচ্ছ রোদে ভেসে যাচ্ছে। এত বড় বারান্দায় আর কেউ নেই। চারিদিক কেমন ভয় করা নির্জন। সবচেয়ে বড় আশ্চর্য, বারান্দার শেষ নেই। আমি হাঁটছি তো হাঁটছি'ই। বারান্দা আর শেষ হয় না, ভীষন ভয় করছিলো আমার। মনে মনে ভাবছি- এত বড় বারান্দা কে বানালো! হঠাৎ পেছন থেকে কে যেন বলল, যা না, আরও যা, একসময় শেষ হবে ঠিকই।
কে বলল কথাটা? কন্ঠ স্বর খুব পরিচিত। মুখ ঘুরিয়ে দেখি দেখি, আমার আব্বা। তেমনই ফরসা টকটকে রঙ, তেমনি সাদা পাঞ্জাবি, তেমনি সুন্দর হাসি ভরা মূখ।
আমি বললাম, লোকে যে বলে তুমি মরে গেছো?
আব্বা বললেন, দূর বোকা! মরবো কেন? এই একটু বেড়াতে বের হয়েছি।
আমি বললাম, এই বাড়িটা কে বানিয়েছে? এত বিশাল বারান্দা কেন?
আব্বা বললেন- তা ঠিক, বারান্দাটা একটু বড়। চল তোকে এগিয়ে নিয়ে যাই।
স্বপ্ন নিয়ে আমার তেমন কুসংস্কার নেই।
আবার এও মনে হয়, কী জানি, স্বপ্নের মধ্যে কোনও ইশারা ইঙ্গিত থাকতে পারে। আব্বা সব সময় বলতো- গল্প হোক মানবতার, জেগে ওঠুক বিবেক মনুষ্য হৃদয়ে। আব্বাকে একসময় দেখতাম ডায়েরী লিখতে। সেই ডায়েরীটা কোথায় আছে জানি না। ডায়েরী টা পেলে ভালো হতো। অনেক কিছু জানা যেত। একদিন আব্বা আর আমি রিকসা করে দাদীর বাসায় যাচ্ছিলাম। তখন আব্বা আমাকে বলল- জীবনে ভারসাম্য না রাখলে, না থাকলে কোনো একটি ক্ষেত্রে দারুণ গুণী হয়েও কিছুমাত্র লাভ নেই। বড় ইঞ্জিয়ার, এ্যাকাউন্টান্ট বা বড় জার্নালিস্ট খুব সহজেই হওয়া যায়- কিন্তু সুস্থ, সীমা-জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ হওয়া যায় না। সেটা বড় কঠিন কাজ।
অনেকের উপর অনেক রাগ জমে আছে অনেকদিন ধরে।
শুধু ভালো ছেলে বলে, চুপ করে আছি। কতদিন আর চুপ থাকবো জানি না। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে তো মানুষ চিৎকার করে ওঠে। আব্বার কথা আর গল্প গুলো ছাড়া আমার কাছে আব্বার আর কোনো সৃতি নেই। তার ঘড়ি, আংটি, মোবাইল, জুতো, জামা কাপড়, চশমা আমার কাছে কিচ্ছু নেই। এজন্য আমার ভীষন মন খারাপ হয়। মন খারাপ হলে আমি বই পড়ি। গতকাল পড়লাম 'রেইনকোট' নামে একটা গল্প। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা গল্প। গল্পটা পড়ে আরো বেশী মন খারাপ হয়েছে। এক বর্ষায় আব্বা আমাকে একটা রেইনকোট কিনে দিয়েছিলো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

