somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জীবনানন্দ দাশের অজানা বিষয়

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জীবনানন্দকে নিয়ে লেখার ইচ্ছা আমার দীর্ঘদিনের।
সাত আট বছর আগে লেখা শুরু করেছিলাম। ৩/৪ পর্ব লিখেছিলাম এই সামুতেই। এরপর আর লেখা হয় নাই। বইপত্র যোগাড় করতে পারি নি। ১০৮ টা বইয়ের লিস্ট করেছিলাম। কিন্তু বই গুলো সংগ্রহ করতে পারি নি। এর আগে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লেখা শুরু করি। এবং ১০০ পর্ব লিখি সামু ব্লগেই। পরে সেটা বই আকারে প্রকাশিত হয়। যাই হোক, ভবিষ্যতে হয়তো জীবনানন্দকে নিয়ে লিখবো। জীবনানন্দের গল্প-উপন্যাস আর কবিতায় বারবার উঠে এসেছে- দাম্পত্য জীবনের সঙ্কট, হাহাকার, নরনারীর মনস্তত্ত্ব, প্রকৃতি, পাওয়া না পাওয়া, অদেখা ভুবন ও যৌন সম্পর্কের জটিলতা এবং সমকালের আর্থসামাজিক কাঠামোর বিপর্যয়।

আমার মতে, জীবনানন্দের সেরা কবিতা- 'আকাশলীনা'।
''সুরঞ্জনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি, বোলোনাকো কথা ওই যুবকের সাথে;
ফিরে এসো সুরঞ্জনা, নক্ষত্রের রূপালি আগুন ভরা রাতে''। লেখক শাহাদুজ্জামান জীবনানন্দের জীবনী নিয়ে চমৎকার একটি গ্রন্থ "একজন কমলালেবু" রচনা করেছেন। ২৪০ পৃষ্ঠার বই। অতি চমৎকার একটা বই। জীবনানন্দকে জানতে হলে এই বইটি পড়লেই হবে। আরেকটি বইয়ের নাম উল্লেখ করতে চাই। লাবণ্য দাশের লেখা 'মানুষ জীবনানন্দ'। বইটি লিখেছেন জীবনানন্দের স্ত্রী। নীচের তথ্যা গুলো আমি কোথায় পেয়েছি? বইপত্র, পত্র পত্রিকা থেকেই পেয়েছি।

১। জীবনানন্দ দাশ এর পারিবারিক নাম ছিলো- মিলু।
২। ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারিতে আট বছরের মিলুকে ব্রজমোহন বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয়।
৩। জীবনানন্দ ডিম খেতে খুব পছন্দ করতেন। হোক, সিদ্ধ বা ভাজা।
৪। তার পারিবারিক উপাধি ‘দাশগুপ্ত’। অথচ তিনি ‘দাশ’ লিখতেন।
৫। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের ৯ মে জীবননন্দ দাশ লাবণ্য দেবীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের বিয়ে হয়েছিল ঢাকা শহরে, পুরান ঢাকায় সদরঘাট সংলগ্ন ব্রাহ্ম সমাজের রামমোহন লাইব্রেরিতে। লাবণ্য গুপ্ত সে সময় ঢাকার ইডেন কলেজের ছাত্রী ছিলেন।
৬। ১৯৩৮ সালে রবীন্দ্রনাথ একটি কবিতা সংকলন সম্পাদনা করেন, যার নাম ছিল ‘বাংলা কাব্যপরিচয়’ এবং এতে জীবনানন্দের ‘মৃত্যুর আগে’ কবিতাটি স্থান পায়।
৭। কবি চাকরির প্রয়োজনে বরিশাল, কলকাতা আর ঢাকা ঘুরে বেড়িয়েছেন অসংখ্যবার। সুযোগ হলেই স্টিমারে বরিশাল থেকে খুলনা তারপর ট্রেনে বেনাপোল হয়ে কলকাতায় পাড়ি দিতেন। কলকাতা তার প্রিয় শহর।
৮। দেশভাগের পরে কবি তার প্রিয় শহর বরিশাল আর ফিরে আসেন নি।
৯। ট্রাম দুর্ঘটনায় কবি জীবনানন্দ আহত হন। পরে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন কবি। এবং মারা যান। ট্রাম্প দূর্ঘটনার সময় কবির দুই হাতে চারটা ডাব ছিলো।
১০। ছোটবেলা জীবনানন্দ খুব অসুস্থ ছিলেন। চিকিৎসার জন্য কলকাতা থেকে দেওঘর, লক্ষ্ণৌ থেকে আগ্রা, দিল্লী থেকে মাদ্রাজ মায়ের কোলে শুয়ে শুয়ে এভাবেই পুরো ভারত চষে বেড়িয়েছেন।

১১। জীবনানন্দের বাবা সত্যানন্দরা ছিলেন সাত ভাই। জীবনানন্দেরা দুই ভাই, এক বোন।
১২। কাউকে দেখানোর জন্য নয়, তিনি লিখতেন নিজের জন্য। লিখে ট্রাঙ্ক ভর্তি করে রেখে দিতেন।
১৩। 'ব্রহ্মবাদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় জীবনানন্দের প্রথম কবিতা।
১৪। ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয় জীবনানন্দের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ঝরাপালক'। রবীন্দ্রনাথকে গ্রন্থের একটি কপি পাঠিয়েছিলেন কবি। জবাব দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তাতে প্রশংসার থেকে সমালোচনাই ছিল বেশি। জবাবে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, 'তোমার কবিত্ববোধ আছে এতে সন্দেহ নাই। কিন্তু ভাষা প্রবৃত্তি নিয়ে এত জবরদস্তি কর কেন বুঝতে পারি নে।
১৫। অনেকে সম্পাদক তাঁর কবিতা প্রকাশে অসম্মতি প্রকাশ করেন। তবু দমে যাননি জীবনানন্দ। লাগাতার লেখা চালিয়ে গিয়েছেন।
১৬। তিনজন নারী জীবনানন্দের জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে। মা কুসুমকুমারী, স্ত্রী লাবণ্য আর কাকাতো বোন শোভনা দাশ।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:২৭
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবননগর

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



গ্রাম দেখতে কোলাহলের বাইরে গিয়ে দেখি-
কোথাও নেই একরত্তি গ্রাম!
বিলুপ্ত হয়েছে যাবতীয় সবুজ সুন্দর;
সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে কংক্রিটের বন!
ভ্রমণক্লান্তিতে খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে-
জলপানাঙ্ক্ষা জানাতেই পেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।



বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বা বড় ধরনের নগর দুর্যোগ আঘাত হানে, তাহলে দেশটি নেপালের অভিজ্ঞতার চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির বন্যা আসার আগেই চাকরির বাজারে খরা!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬



জুলাইয়ের পর বলা হয়েছিল দেশে নাকি চাকরির বন্যা বয়ে যাবে। অর্থনীতি ঘুরে দাড়াবে, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাবো। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিও হবে।

দেশে এমনিতেই কর্মসংস্থানের অবস্থা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি তাহলে গুহা যুগে ফেরত যাচ্ছি?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫০



বিশ্ব যেখানে উন্নতির প্রতিযোগিতা করছে, কীভাবে জীবনমান আরও উন্নত এবং সহজ করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে আর আমরা ঠিক তার উল্টো পথে হাঁটছি। চারদিকে ভয়াবহ অবস্থা!! চাঁদাবাজি, খুন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

।। রাশিয়ার মতো বাংলাদেশে হামলা করুক ভারত।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১২


আমি আজ পর্যন্ত আম্লিগে কোন ভালোমানুষ খুঁজে পাইনি। আম্লিগ মানেই ইয়ের বাচ্চা। আম্লিগ মননে মগজে ধর্ষক, লুন্ঠনকারী, দেশদ্রোহী ও পাচারকারী। এদের মাঝে কোন কালেই কোন ভালোমানুষ ছিলোনা বর্তমানেও নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×