
ছবিটা দেখুন। ভালো করে দেখুন।
চিনতে পারছেন? চিনতে পারছেন না? অবশ্য চেনার কথাও না। মুখ দেখা যাচ্ছে না যে। আচ্ছা, আমিই বলে দিচ্ছি। ছবিতে আমি আর সুরভি। কি বিশ্বাস হচ্ছে না? পুরো ঘটনা বললে ছবিটা পরিস্কার হবে। তাহলে ঘটনাটি শুনুন। বিয়ের আগের ঘটনা। একদিন হুট করে ঠিক দুপুরবেলা আমি মিরপুর চলে গেলাম। মিরপুর সুরভিদের বাসা। সুরভি আমাকে দেখে প্রচন্ড অবাক। সুরভিদের বাসায় কাজ করে শাহানা বুয়া। শাহানা বুয়া আমাকে আগে থেকেই চিনেন। বুয়া বললেন, ভাইজান রান্না শেষ আগে খেয়ে নিন। আমি টেবিলে বসে পড়লাম। সুরভি বলল, আব্বা যে কোনো সময় এসে পড়বে। ভাইয়াও চলে আসবে। ভাইয়া এলে গজব নেমে পড়বে। আমি বললাম, আসলে আসুক। আমার ক্ষুধা লাগছে, এখন আমি খাবো। সকালে নাস্তাও খাই নি।
খুব আরাম করে খেলাম।
শাহানা বুয়ার রান্না খুব সুন্দর। উনার বাড়ি আমাদের বিক্রমপুর। বিক্রমপুরের মেয়েদের রান্নার হাত খুব ভালো। খাওয়া শেষ করে সুরভিকে বললাম- চলো বাইরে যাই। সুরভি বলল- আজ বাইরে যেতে পারবো না। বিকেলে বাসায় ছোট মামা-মামী আসবেন। আমি বললাম, বিকেলের আগেই তোমাকে বাসায় দিয়ে যাবো। সুরভিদের বাসা থেকে বের হলাম- দুপুর আড়াই টায়। কই যাই? কই যাই? ভাবছি। বিকেলে আবার মামা-মামী আসবেন। সুরভিদের বাসার কাছেই বোটানিক্যাল গার্ডেন। কিন্তু আমরা বোটানিক্যাল গার্ডেন গেলাম না। চলে গেলাম চিড়িয়াখানায়। সুরভি কিছুতেই চিড়িয়াখানায় যাবে না। অনেকটা জোর করেই নিয়ে গেলাম। বললাম, পশু পাখি দেখবে। অবশ্যই তোমার ভালো লাগবে। প্রেম সব জাগায় করা যায়। মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় প্রেমের সময়টা।
বিশ মিনিট হেঁটেই সুরভি বলল- আর হাঁটতে পারবো না।
আমি বললাম, এখনও হাতী দেখি নি। হাতী দেখার জন্যই চিড়িয়াখানাতে এসেছি। সুরভি বলল, যাও তুমি দেখে এসো। আমি এখানে বসলাম। অতঃপর আমরা একটা বেঞ্চে বসি। সামনে ছিলো একটা লেক। ঠিক লেক না পুকুরের মতো। তবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন না। কোনো কথা নেই। দু'জনেই চুপ করে বসে আছি। চারিদিকে কত মানুষ যাচ্ছে, আসছে। নানান রকম হকার, চিৎকার চ্যাঁচামেচি- সেদিকে আমাদের কোনো খেয়াল নেই। নিরবতারও একটা ভাষা আছে। সেই ভাষায় আমাদের অনেক কথা হলো। হু হু করে সময় চলে যাচ্ছে। দেখতে দেখতে বিকেল পাঁচ টা বেজে গেলো। আমি বললাম, তোমাকে বাসায় যেতে হবে। তোমার মামা-মামী আসবেন। সুরভি বলল, আসুক আমি যাবো না। তোমার কাছে থাকতেই বেশী ভালো লাগছে। সন্ধ্যায় আমরা চিড়িয়াখানা থেকে বের হলাম।
চিড়িয়াখানা থেকে রিকশা নিয়ে দশ নম্বর গেলাম।
সেখানে একটা রেস্টুরেন্ট আছে। এখানে আমরা প্রায়ই খেতে আসি। রেস্টূরেন্টের সবাই আমাদের খুব ভালো করেই চিনে। অনথন আর থাই স্যুপ খেলাম। সুরভিকে বললাম, সাত টা বাজে বাসায় যাবে না? সুরভি বলে আর একটু থাকি। আমি বললাম, তোমার বাসা তো কাছে, আমার বাসা এখান থেকে অনেক দূর। সুরভি বলল, আর আধা ঘন্টা থাকবো। আমরা বেনারসি শাড়ির দোকান গুলোর সামনে দিয়ে এলোমেলো অনেকক্ষন হাঁটলাম। হাঁটতে হাঁটতে এগারো নম্বর চলে গেলাম। সেখানে একটা চটপটির দোকান আছে। খুব ঝাল দিয়ে আমরা চটপটি আর ফুচকা খেলাম। তারপর হাঁটতে হাঁটতে মিপুরপুর কমার্স কলেজ পর্যন্ত চলে এলাম। সব সময় এখান থেকেই আমি বিদায় নেই। সুরভিকে রিকশা তুলে দেই। সুরভি বাসায় গিয়ে ফোন করলে তারপর আমি আমার বাসায় রওনা দেই।
রাত ৯ টায় সুরভি বাসায় পৌঁছালো।
আমি বাসায় আসলাম রাত এগারোটায়। রাস্তায় ভয়াবহ জ্যাম ছিলো। বাসা ফিরতেই মা বললেন, কোথায় গিয়েছিলি? আমি একটা হাসি দিলাম। মা বললেন, তোমার হাসি দেখে বুঝতে পারি নি- তুমি কোথায় গিয়েছিলে? আমি আগের চেয়ে বেশি করে আবার হাসি দিলাম। মা বললেন, হাসি দিচ্ছো কেন? মুখে বললে সমস্যা কি? আমি বললাম, কোনো সমস্যা নাই। আমি মিরপুর গিয়েছিলাম। মা বললেন, মিরপুর কেন? আমি বললাম, এত প্রশ্ন করো কেন? আমার কাজ ছিলো। মা বলল কি কাজ? আমি বললাম, ভাত দাও ক্ষুধা লাগছে। সাথে একটা ডিম বাজি দিও তো। অনেকদিন তোমার হাতের ডিম ভাজা খাই না। তোমার হাতের ডিম ভাজা অনেক মজা হয়। সাথে একটা শুকনা মরিচ কড়া করে বাজবে। মা বললেন, আর কি খাবেন মহারাজ। যুদ্ধ জয় করে এসেছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

