somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

২০২০ যেমন গেলো

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৩:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই বছরটা খুবই খারাপ গেলো।
বছরের শুরুতেই চাকরী হারালাম। অথচ আমার চাকরী চলে যাওয়ার পেছনে কোনো কারন ছিলো না। অফিসও কোনো কারন বলে নি। অফিসে আমি প্রচুর কাজ করতাম। কোনোদিন অফিসে লেট করে যাই নি। আবার অফিস টাইম শেষ হবার আগে বের হয়ে যাই নি কখনও। এমন কি কোনো ছুটি কাটাই নি। বরং অফিস টাইমের চেয়ে বেশি কাজ করতাম। অফিসের সবাই আমাকে খুবই পছন্দ করতো।
তবে আমার অফিসে তিনজন লোক আমাকে হিংসা করতো। এই তিনজন আমার চাকরী খেয়ে দিয়েছে- এই কথাটা আমাকে অফিসের অনেকেই বলেছেন। অবশ্য এজন্য আমি অফিসের কারো উপর কোনো রাগ রাখি নি।

নতুন চাকরীর জন্য আমি কোনো চেষ্টা করি নি।
জানি, চেষ্টা করে কোনো লাভও হবে না। এর মধ্যে দেশে শুরু হলো করোনা। লকডাউন। ভয়াবহ অবস্থা। ক্ষমতাবান মামা চাচা না থাকলে এদেশে চাকরী পাওয়া বেশ শক্ত। অবশ্য বহু লোক ক্ষমতাবান মামা চাচা ছাড়াও চাকরী পাচ্ছেন। তাছাড়া চাকরীর উপর আমার মন উঠে গেছে। কারন লোকজনের অতি নিম্ম মন মানসিকতা। কত রকমের চাটুকারিতা, কত রকমের দালালি দেখতে হয়। এমন কি চাটুকারিতা দালালি করতেও হয়। না করলে চাকরী টিকিয়ে রাখা মুশকিল। মাস শেষে কিছু টাকার জন্য নিজেকে এত নীচে নামানো সম্ভব না। আমার মাস শেষে বাড়ি ভাড়া দিতে হয় না। কাজেই এত প্যারা না নিলেও হয় আমার।

সুখে দুঃখে যেভাবেই যাক, বছরটা চলেই গেলো।
চাকরী যাওয়াতে আমি কোনো দুঃখ পাইনি। কারন আমার অফিসের লোকজন ছিলো বিরাট বদ। তারা এতই বদ ছিলো যে আমি ঠিক করে নিঃশ্বাস নিতে পারতাম না। ওদের কর্মকান্ড দেখে আমার দম বন্ধ হয়ে আসতো। অফিস থেকে পরে অবশ্য আমাকে ফোন দিয়ে জয়েন করতে বলেছিলো। আমি যাই নি। চাকরী যাওয়ার পরও আমার জীবনে খুব একটা কোনো কিছুর অভাব বোধ হয়নি। প্রতিমাসে আব্বা পনের/বিশ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিতো। মাসে দুইবার বাজার করে দিতো। ঘর সংসারের খরচ নিয়ে আমার কোনো চিন্তা ভাবনা ছিলো না। একমাসের বাজার আমার ঘরে সব সময় মজুদ থাকতো। ক'দিন পরপর'ই বাসায় অনুষ্ঠান লেগেই থাকতো।

কিছু দিন আগে আব্বা হঠাত মারা গেলেন।
অথচ এত দ্রুত আব্বার মরার কথা ছিলো না। উনি শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন না। আব্বা মরে যাওয়াতে আমি সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আব্বা মরে গিয়ে আমাকে বিরাট বিপদে ফেলে গেছেন। একমাত্র আব্বা'ই সর্বদা আমার খোঁজ খবর রাখতো। কোনো দিন তার কাছে কিছু চাইতে হতো না। চাওয়ার আগেই সব দিয়ে দিতেন। আব্বা জানতেন আমার কি লাগবে। আমি কি চাই। আব্বা সব সময় বলতেন, তোমার কোনো চিন্তার দরকার নাই। আমি এখনও বেঁচে আছি। আমি থাকতে তোমার কোনো সমস্যা হবে না। তোমার চাকরী নাই- এটা নিয়ে মন খারাপ করবে না। আমি ইচ্ছা করলে আগামীকালই তোমাকে একটা চাকরী দিতে পারি।

নতুন বছরটা কিভাবে যাবে- আমি জানি না।
আমার মাথার উপর থেকে বটগাছ নাই হয়ে গেছে। ভীষন রকমের অসহায় হয়ে গেছি। আমার পুরো শরীর যেন অবশ হয়ে গেছে। মাথা কাজ করছে না। নিজেকে পঙ্গু বলে মনে হচ্ছে। আব্বা এমন একজন মানুষ ছিলো- তাকে যদি বলতাম আমি একটা খুন করেছি। সে বলতো কোনো অসুবিধা নাই। তোমার কোনো চিন্তা করতে হবে না। যা করার আমি করছি। তুমি টেনশন ফ্রি থাকো। নাও চা খাও। সেই লোক দুনিয়া থেকে চলে গেছে। আমার আব্বা কোনো মন্ত্রী মিনিস্টার ছিলেন না। কিন্তু সে তিনজন মন্ত্রীর ক্ষমতা পকেটে রাখতো। আমার যত রকমের সমস্যা ছিলো তাকে একবার বলতাম এবং সাথে সাথে আমি নিশ্চিন্ত হয়ে যেতাম।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৩:৪০
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×