
এই বছরটা খুবই খারাপ গেলো।
বছরের শুরুতেই চাকরী হারালাম। অথচ আমার চাকরী চলে যাওয়ার পেছনে কোনো কারন ছিলো না। অফিসও কোনো কারন বলে নি। অফিসে আমি প্রচুর কাজ করতাম। কোনোদিন অফিসে লেট করে যাই নি। আবার অফিস টাইম শেষ হবার আগে বের হয়ে যাই নি কখনও। এমন কি কোনো ছুটি কাটাই নি। বরং অফিস টাইমের চেয়ে বেশি কাজ করতাম। অফিসের সবাই আমাকে খুবই পছন্দ করতো।
তবে আমার অফিসে তিনজন লোক আমাকে হিংসা করতো। এই তিনজন আমার চাকরী খেয়ে দিয়েছে- এই কথাটা আমাকে অফিসের অনেকেই বলেছেন। অবশ্য এজন্য আমি অফিসের কারো উপর কোনো রাগ রাখি নি।
নতুন চাকরীর জন্য আমি কোনো চেষ্টা করি নি।
জানি, চেষ্টা করে কোনো লাভও হবে না। এর মধ্যে দেশে শুরু হলো করোনা। লকডাউন। ভয়াবহ অবস্থা। ক্ষমতাবান মামা চাচা না থাকলে এদেশে চাকরী পাওয়া বেশ শক্ত। অবশ্য বহু লোক ক্ষমতাবান মামা চাচা ছাড়াও চাকরী পাচ্ছেন। তাছাড়া চাকরীর উপর আমার মন উঠে গেছে। কারন লোকজনের অতি নিম্ম মন মানসিকতা। কত রকমের চাটুকারিতা, কত রকমের দালালি দেখতে হয়। এমন কি চাটুকারিতা দালালি করতেও হয়। না করলে চাকরী টিকিয়ে রাখা মুশকিল। মাস শেষে কিছু টাকার জন্য নিজেকে এত নীচে নামানো সম্ভব না। আমার মাস শেষে বাড়ি ভাড়া দিতে হয় না। কাজেই এত প্যারা না নিলেও হয় আমার।
সুখে দুঃখে যেভাবেই যাক, বছরটা চলেই গেলো।
চাকরী যাওয়াতে আমি কোনো দুঃখ পাইনি। কারন আমার অফিসের লোকজন ছিলো বিরাট বদ। তারা এতই বদ ছিলো যে আমি ঠিক করে নিঃশ্বাস নিতে পারতাম না। ওদের কর্মকান্ড দেখে আমার দম বন্ধ হয়ে আসতো। অফিস থেকে পরে অবশ্য আমাকে ফোন দিয়ে জয়েন করতে বলেছিলো। আমি যাই নি। চাকরী যাওয়ার পরও আমার জীবনে খুব একটা কোনো কিছুর অভাব বোধ হয়নি। প্রতিমাসে আব্বা পনের/বিশ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিতো। মাসে দুইবার বাজার করে দিতো। ঘর সংসারের খরচ নিয়ে আমার কোনো চিন্তা ভাবনা ছিলো না। একমাসের বাজার আমার ঘরে সব সময় মজুদ থাকতো। ক'দিন পরপর'ই বাসায় অনুষ্ঠান লেগেই থাকতো।
কিছু দিন আগে আব্বা হঠাত মারা গেলেন।
অথচ এত দ্রুত আব্বার মরার কথা ছিলো না। উনি শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন না। আব্বা মরে যাওয়াতে আমি সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আব্বা মরে গিয়ে আমাকে বিরাট বিপদে ফেলে গেছেন। একমাত্র আব্বা'ই সর্বদা আমার খোঁজ খবর রাখতো। কোনো দিন তার কাছে কিছু চাইতে হতো না। চাওয়ার আগেই সব দিয়ে দিতেন। আব্বা জানতেন আমার কি লাগবে। আমি কি চাই। আব্বা সব সময় বলতেন, তোমার কোনো চিন্তার দরকার নাই। আমি এখনও বেঁচে আছি। আমি থাকতে তোমার কোনো সমস্যা হবে না। তোমার চাকরী নাই- এটা নিয়ে মন খারাপ করবে না। আমি ইচ্ছা করলে আগামীকালই তোমাকে একটা চাকরী দিতে পারি।
নতুন বছরটা কিভাবে যাবে- আমি জানি না।
আমার মাথার উপর থেকে বটগাছ নাই হয়ে গেছে। ভীষন রকমের অসহায় হয়ে গেছি। আমার পুরো শরীর যেন অবশ হয়ে গেছে। মাথা কাজ করছে না। নিজেকে পঙ্গু বলে মনে হচ্ছে। আব্বা এমন একজন মানুষ ছিলো- তাকে যদি বলতাম আমি একটা খুন করেছি। সে বলতো কোনো অসুবিধা নাই। তোমার কোনো চিন্তা করতে হবে না। যা করার আমি করছি। তুমি টেনশন ফ্রি থাকো। নাও চা খাও। সেই লোক দুনিয়া থেকে চলে গেছে। আমার আব্বা কোনো মন্ত্রী মিনিস্টার ছিলেন না। কিন্তু সে তিনজন মন্ত্রীর ক্ষমতা পকেটে রাখতো। আমার যত রকমের সমস্যা ছিলো তাকে একবার বলতাম এবং সাথে সাথে আমি নিশ্চিন্ত হয়ে যেতাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

