somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

অদ্ভুত আঁধার এক

০২ রা জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


শান্ত নিস্তব্ধ শীতের রাত।
কী এক নিঃসঙ্গতায় মৌন বিশ্বচরাচর। বুকের মাঝে চিনচিন করছে দানাবাঁধা কষ্ট। কেন রৌদ্রময় দিনগুলো বৈশাখী মেঘে ডেকে যায়? কতদিন, কতকাল। সুন্দর পবিত্র স্বপ্নগুলো বাস্তবের নির্মম স্রোতে ধুয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে। অথচ কী অদ্ভূত! স্বপ্ন দেখতেই আমাদের বড় ভালো লাগে। মনীষীরা বলেন,বড় বড় স্বপ্ন দেখো প্রতিনিয়ত। স্বপ্ন না দেখলে স্বপ্ন সত্যি হবে কি করে! আগে স্বপ্ন গুলো দেখো এবং আঁকো। এবার স্বপ্ন গুলোকে সত্যি করার জন্য- জ্ঞান। জ্ঞান ও ব্যক্তিত্ব কেউ কেড়ে নিতে পারে না। জ্ঞান ব্যক্তিত্ব কে শানিত করে তোলে। জ্ঞান- অর্জনের দিকে আমাদের সকলের মনোযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে মেয়েদের।

এক ধরনের ভন্ড আছে বড় বড় নীতির কথা বলে বেড়ায়।
কিন্তু ভেতরে ভেতরে চরম বদমাশ। তারা তেল'ওয়ালা মাথায় তেল দিয়ে বেড়ায়। সবচেয়ে বড় নীতিহীন কাজ গুলো তারা'ই করে। তাদের মুখে থু। এই ধরনের লোক গুলো সাপের চেয়েও খারাপ। অন্যের ভালো দেখলে তাদের বুক জ্বালা করে। তাদের ক্ষতি সাধন করার জন্য উঠে পড়ে লাগে। কিন্তু তারা ভুলে যায় কাকের কাজ কা কা করা। এর বেশী তারা আর কিচ্ছু করতে পারে না। ভাবতে ভালো লাগে মানুষ হবে সহজ সরল। খোলা বইয়ের মতোন। আমি ধর্ম নিয়ে লিখলেই ধার্মিক হয়ে যাবো না। আবার আমি নামাজ রোজা না করলেও অধার্মিক হয়ে যাবো না। যার যার ব্যাক্তিগত ব্যাপার।

জীবনানন্দ দাশ এর একটা কবিতা আছে।
কবিতাটা আমার ভীষন পছন্দ। কবিতার নামঃ অদ্ভুত আঁধার এক। বহু যুগ আগে লেখা কবিতা। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতার সাথে মিলে গেছে। সাক্ষ্য প্রমাণহীন অবস্থায় রয়েছে কবিতাটির বক্তব্য বিষয়। সামাজিক মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা, আদর্শ ও জীবনবোধকে ভুলে ক্ষমতার লোভে কিছু মানুষের করায়ত্বের কারণে আধুনিক পৃথিবী আজ চরম সংকটের মুখোমুখি। অথচ যে মহৎ মানুষগুলোর অন্তরে মানুষকে ভালোবাসা তথা দেশপ্রেমের এক সহজাত অনুভব, উজ্জ্বল আলোর মতো জেগে আছে তারা আজ অবহেলিত, উপেক্ষিত। এই আঁধার গ্রাস করে নিচ্ছে সমস্ত সু-প্রবৃত্তিকে। লোপ পাচ্ছে মনুষ্যত্ব; মানুষের ভিতরের জানোয়ারটাকে অবাধে চলার সুযোগ করে দিচ্ছে। আদৌ কি এই আঁধার কেটে যাবে? আসবে আলোর বারতা?

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই – প্রীতি নেই – করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক ব’লে মনে হয়
মহত্‍‌ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।


জীবনানন্দ দাশ অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়।
তার মূল্যায়ন করতে গিয়ে সৈয়দ আলী আহসান বলছেন, 'বর্তমানে পৃথিবী হচ্ছে বিজ্ঞানের এবং পর্যাপ্ত সামগ্রীর। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি অসম্ভবের দ্বার উদ্ঘাটিত হয়েছে যার মধ্যে আমরা ব্যতিব্যস্ত এবং দিক-ভ্রান্ত। সমযের গতিবিধিও এখন হিসেব করা যাচ্ছে না- একটি অসম্ভব দ্রুততায় আমাদের বর্তমান সময় অতীতের অস্পষ্টতায় হারিয়ে যাচ্ছে এবং আমাদের পক্ষে কোনো বিশেষ সূত্রের মধ্যেই স্থিতিশীল হওয়া সম্ভবপর হচ্ছে না। এ সময় যাঁরা কবিতা লিখছেন তাঁদের কবিতায় কোনো সুবিন্যস্ত বর্ণনা প্রস্তাবনা নেই, একটি অস্থির বিসংবাদের রেখাঙ্কন আছে। জীবনানন্দ দাশ জীবন-বিমুখ কবি নন, বরঞ্চ জীবনকে জানেন বলেই প্রকৃতির আদিমতা এবং সজলতার মধ্যে তিনি তাঁর অস্তিস্তের সন্ধান করেছেন।





সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:৫১
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×