
লেখকের লেখার মধ্যে অবশ্যই সাহিত্যিক গুণাবলী থাকতে হবে।
একজন লেখকের পেশা হবে শুধু লেখালেখি। হুমায়ূন আহমেদ লেখক হওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরী ছেড়ে দিয়ে শুধু লেখালেখি নিয়ে ছিলেন। একজন ভালো লেখকের লেখা সমাজে প্রভাব বিস্তার করে। যারা ব্লগে লিখেন তারাও লেখক। ইদানিং অনেক ব্লগার তাদের ব্লগের লেখা গুলো একসাথে করে বইমেলাতে বের করছে নানান প্রকাশনি থেকে। আমি মনে করি একজন লেখন হবেন সবার থেকে আলাদা। তাদের কোনো কিছুতেই লোভ থাকবে না। লেখকদের হতে হয় অনেক উদার। ‘লেখক’ শব্দের শাব্দিক অর্থ যিনি লেখেন। একজন লেখক কখনই পেটের দায়ে লেখক হয়ে ওঠেন না বরং মনের ক্ষুধা মেটানোর তাগিদায় তিনি লেখক হয়ে ওঠেন নিজের অজান্তেই। একজন লেখকেরও উচিত পাঠকের আসনে বসে নিজের লেখার যথাযথ মূল্যায়ন করা।
ভালো লেখক হওয়ার জন্য প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়।
প্রখর কল্পনা শক্তি থাকতে হয়। সর্বদা হাস্যমুখি থাকতে হয়। মন থেকে হিংসা সম্পূর্ণ দূর করতে হয়। দেশ এবং দেশের মানুষের প্রতি এক আকাশ ভালোবাসা থাকতে হয়। কৃপণতা ধুয়ে ফেলে দিতে হয় জীবন থেকে। সমালোচকদের গালাগালি করা থেকে বিরত থাকতে হয়। নিয়মিত পাঠকদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হয়। সন্তানের প্রতি মায়ের যেমন টান সাহিত্যের প্রতি ঠিক তেমন টান থাকতে হয়। একজন লেখকে সব সময় বন্ধুসুলভ আচরণ করতে হয়। লেখকের কাছে ধর্ম কোনো ব্যাপার না। লেখকের ধর্ম হবে মানবধর্ম।
আইসল্যান্ড দেশটিতে প্রত্যেক ১০ জন লোকের মধ্যে একজনকে পাওয়া যাবেই যিনি বই প্রকাশ করেছেন। দেশটিতে লোকসংখ্যা মোটে ৩ লাখ। পৃথিবীতে কবি সাহিত্যিক হচ্ছে একমাত্র অবিনাশী সত্তা—রাজা, সম্রাট তাঁর কাছে কিছু নয়। তাই কবি বা লেখক হতে গেলে যেমন পড়াশোনা জরুরি, তেমনি দরকার লেখকের স্বাধীন সত্তা। কারও পরামর্শ নিয়ে কেউ কোনো দিন কবি সাহিত্যিক হতে পারেনি।
আদিম কাল হতেই মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য, মনের আকুতি মানুষের কাছে জানানোর জন্য কখনো পাহাড়ের গুহায়, পাহাড়ের চূড়ায়, ভূর্জপত্র, কাঠ, গাছের চামড়া, ভেলাম, কডেক্স, প্যাপিরাস, তালপাতা, কাঁদামাটির ফলকসহ আরো নানাবিধ উপকরণে লিখে রাখতো। যার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিলো তার পরবর্তী প্রজন্মকে তা জানানো। এভাবে লেখক তাঁর লেখার মাধ্যমে মানুষকে জানাতো। লেখার মাধ্যমে লেখক অন্য একজন মানুষকে বুঝানো, শেখানো সত্যিই কষ্টের ব্যাপার।
কিছু লিখতে হলে শিখতে হবে।
আর শিখতে গেলে অবশ্যই পড়তে হবে। তুমি কিছু একটা লিখতে চাও, তাহলে লিখে ফেল। কি ভাবছ? যদি ভুল হয়! হোক না ভুল। আমাদের জীবনে কত ভুল হচ্ছে আমরা কি তা ঠিক শুধরে নিচ্ছি না? ভুল হোক ভুরি ভুরি। আগে লেখাটা লেখো, তারপর কেটে ছেটে শুধরে নেবে। প্রয়োজনে লাইনে লাইনে পরিমার্জন করবে। দেখবে সেই ভুল লেখাটাও ঠিক হয়ে গেছে। মনে রাখবে প্রথম লেখার সময় সব লেখকেরই বিস্তর কাটাকাটি করতে হয়, পরে এক সময় তা বশে চলে আসে। রবীন্দ্রনাথ আজ বিশ্ব কবি, তিনি প্রথম যে কবিতাটি লিখেছিলেন তার মধ্যেও বিস্তর কাটাকাটি হয়েছিল।
আজকাল লেখক হওয়াটা কোন বিষয়ই নয়।
অধ্যবসায়ের কোন প্রয়োজন নেই, পড়াশোনার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন নেই চিন্তা-ভাবনার। লেখক হবার মূলশক্তি এখন অর্থবিত্ত। আমলার বউ, মন্ত্রীর ড্রাইভার আর এমপির মেয়েরা এখন লেখকের তালিকার শীর্ষে। এসব মৌসুমী লেখকদের জন্য প্রস্তুত থাকে মৌসুমী প্রকাশকরা। সামনের মাসে শুরু হচ্ছে একুশে বইমেলা। গত বছর বইমেলাতে দেখলাম- দুইজন বয়স্ক ভদ্রলোক একজন আরেকজনকে বলছে- এবছর আমার চারটা বই বের হয়েছে। আপনার কয়টা বের হয়েছে? আরেকজন মুচকি হাসি দিয়ে বললেন আমার সাতটা।
একজন ভালো পাঠক সব সময় ভালো লেখকে পরিণত হয় তাতে কোনো সন্দেহ নেই। লেখকের মৃত্যু নেই, লেখক অমর।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

