somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল কী?

১৪ ই জুলাই, ২০২৩ রাত ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



৭১ এ শেখ মুজিব যুদ্ধের ঘোষনা দিয়ে পাকিস্তানের কারাগারে বন্ধী হলেন।
দেশে শুরু হলো যুদ্ধ। দেশের মানুষ জানে না শেখ মুজিব কি বেঁচে আছেন? না তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। একদল মানুষ জীবন নিয়ে পালিয়ে গেলো ভারতে। অপেক্ষা করতে থাকলো দেশ স্বাধীন হওয়ার। শেখ মুজিবের সঙ্গী সাথীরাও অনেকে কলকাতা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেলো। তাজউদ্দিন সাহেব ভারতে গিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর সাথে লেগে থাকলেন। ইন্দিরা গান্ধী তাজউদ্দীনকে ভরসা দিলেন। এমনকি শরনার্থী শিবির গুলো তিনি নিজে ঘুরে ঘুরে দেখলেন। তাদের থাকা ও খাওয়ার জন্য আরো সুযোগ বাড়ানো হবে সেকথা ঘোষনা করলেন। ৭১ এ পুরো কলকাতার মানুষ যথেষ্ঠ মানবতা দেখালেন। এদিকে যুদ্ধের ময়দানে নেমে গেলেন বাংলাদেশের শ্রমিক, কৃষক, রিকশাচালক, শিক্ষক, বেকার, ছাত্র। আর এই দেশীরই কিছু জারজ সন্তান সাপোর্ট করলো পাক বাহিনীকে। তাঁরা তাদের পথ দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষতিগ্রস্ত করলো। কিন্তু সূর্যকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারে না।

যাইহোক, ১৯৭২ সালে শেখ সাহেব দেশে ফিরলেন।
তিনি বেঁচে আছেন এবং তার দেশ স্বাধীন হয়েছে এই খুশিতে তিনি আত্মহারা। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দেশের ক্ষমতা তিনি হাতে তুলে নিলেন। লেগে পড়লেন একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে দাঁড় করাতে। সব রাস্তা ভাঙ্গা, একটাও কার্লভাট, ব্রীজ ঠিক নেই। গ্রামের পর গ্রাম বিধ্বস্ত। সব ভেঙ্গে চুড়ে শেষ। একদম গজব অবস্থা। মুক্তিযোদ্ধারা তার কছে অস্ত্র জমা দিলো। শেখ মুজিব নরম মনের মানুষ তাই সাধারন রাজাকারদের প্রায় ক্ষমাই করে দিলেন। দেশ উন্নয়নের কাজ চলছে তেড়েফুঁড়ে। কিন্তু বাঁধা দিলো কিছু অপশক্তি। তাঁরা সমানে দুর্নীতি করেই চলেছে। এমনকি কেউ কেউ ডাকাতিও করছে। শেখ মুজিব একা মানুষ, কতদিক সামাল দেবেন? তিনি দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসেন। তিনি দেশের প্রধান ব্যাক্তি হওয়া স্বত্ত্বেও একজন রিকশাচালকের কাঁধে হাত রাখেন ভালোবেসে। এ দেশের সমস্ত মানুষকে তিনি বিশ্বাস করেন। অথচ এই দেশের কিছু পিশাচ তাকে মেরে ফেলল কিছু ফালতু অযুহাতে। মেজর জিয়া এবং খন্দকার মোশতাক আহমেদ আগে থেকে শেখ মুজিবের হত্যার বিষয়টা জানতেন।

দেশের মানুষ শেখ মুজিবকে ভালোবেসেছিলো।
আওয়ামীলীগকে বিশ্বাস করেছিলো। শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে পুরো বাঙ্গালী জাতির কপাল পুড়লো। এরশাদ আর খালেদা জিয়া মিলে দেশের তেমন উন্নয়ন করতে পারলো না। দেশের মানুষ হতাশ। প্রচন্ড ব্যথিত। অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলেন। কিন্তু তেমন কিছু দেশের জন্য করতে পারলেন না। আগের সরকার দেশকে তলানিতে নিয়ে গেছে। তবে পার্বত্য শান্তি চুক্তির কথা দেশের মানুষ কোনোদিন ভুলবে না। এরপর ক্ষমতায় এলেন বেগম জিয়া। এবং দেশকে প্রতিবছর উপরহার দিতে থাকলেন দূর্নীতি। দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। ফালু মালু কালুরা দেশের বারোটা বাজিয়ে দিলো। সারাদিন রোজা রেখে মানুষ সন্ধ্যায় ইফতার করতে বসেছে, নেই বিদ্যুৎ। নেই পানি। নেই গ্যাস। সে এক ভয়াবহ সময় গেছে। দেশের মানুষ বিএনপির উপর হতাশ এবং যথেষ্ঠ বিরক্ত। তাঁরা আশাহত। তাঁরা যন্ত্রনাবিদ্ধ। তাঁরা বুঝলেন শেখ হাসিনা অর্থ্যাত আওয়ামীলীগ ছাড়া গতি নাই।

এবার ক্ষমতায় এলেন মহান শেখ হাসিনা।
এ এক অন্য হাসিনা। এ এক অন্য আওয়ামীলীগ। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বসেই একের পর এক ম্যাজিক দেখাতে শুরু করলেন। দেশের মানুষ পেলো আসল আওয়ামীলীগকে। শেখ মুজিবের আওয়ামীলীগকে। শুরু হলো দেশের উন্নয়ন। যা বিগত কোনো সরকার করতে পারে নাই। শেখ হাসিনার ম্যাজিকে পুরো জাতি আশা ফিরে হলো। আমাদের সবার প্রিয় শিক্ষক ও লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল একটা টিভি কিনে ফেললেন। কারন এবার শেখ মুজিবকে টিভিতে দেখা যাবে বলে। যাদুকর শেখ হাসিনা একের পর এক খেলা দেখাতে শুরু করলেন। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার হলো। রাজাকারদের বিচার হলো। জাতি কলঙ্ক মুক্ত হলো। এইভাবে একের পর এক ভালো ও মহৎ কাজ করতে শুরু করলেন শেখ হাসিনা। গ্রেট লেডি। সব রকম অসম্ভবকে তিনি সম্ভব করলো। অথচ এই বিএনপি তাকে গ্রেনেড হামলা করে মেরে ফেলতে চেয়েছে। আল্লাহ যার সহায় তার ক্ষতি কেউ করতে পারে না। নো নেভার।

তার উন্নয়ন আর থামেনি।
যেন বাংলাদেশের উপর পরম ঈশ্বরের হাত এসে পড়েছে। সারা বিশ্ব অবাক! হলো পদ্মাসেতু, হলো মেট্রোরেল। রাস্তাঘাট। একের পর এক উন্নয়ন হতেই থাকলো। বিশ্বে আজ বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সফলতা যখন আসতে শুরু করে, তখন আর থামায় কে? আজকাল গ্রামে গেলেও কাঁচা রাস্তা খুঁজে পাওয়া যায় না। আগে যে গ্রামে যেতে সময় লাগতো ১২ ঘন্টা। এখন সে গ্রামে যেতে সময় লাগে মাত্র ৫ ঘন্টা। হাসিনার এই উন্নয়ন অনেক অপশক্তি বাঁধা দিতে চেষ্টা করেছে। এবং তাঁরা ব্যর্থ হয়েছে। মূলত আল্লাহপাক শেখ হাসিনাকে এই বাংলাদেশে শুধু উন্নয়ন করার জন্যই পাঠিয়েছেন। তাই তাকে রুখবে কে? শিক্ষিত মানুষ, আধুনিক মানুষ, জ্ঞানী মানুষ, সাহসী মানুষ, তেজি মানুষ। সর্বোপরি একজন সৎ মানুষ। একজন মানবিক মানুষ। লক্ষ লক্ষ বিপদগ্রস্ত হতাশাগ্রস্ত রোহিংঙ্গাদের জায়গা দিলেন দেশে। তাদের থাকা ও খাওয়ার জন্য সুন্দর ব্যবস্থা করে দিলেন। তাঁরা আজ আমাদের দেশে সুন্দরভাবে খেয়েপরে বেঁচে আছে। কাজ করছে। লেখাপড়া করছে। নিজেরা আয় করছে।

আওয়ামীলীগের অবশ্যই কিছু ভুল আছে।
আওয়ামীলীগে কয়েকজন দুর্নীতিবাজ আছে। তাঁরা দূর্নীতি করে দলের বদনাম করছে। আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় থেকে কতিপয় সুবিধাবাদী সীমাহীন টাকা দূর্নীতি করেছে। গ্রামে রঙমহল তৈরি করেছে। কলকাতা থেকে বাইজি এনে নাচায়। জোর করে দরিদ্র ও অসহায়দের জমি দখল করে। ছাত্রলীগ বহু অপকর্ম করেছে। এদের অফ করে দেওয়া দরকার। শেখ মুজিব বেঁচে থাকলে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দিতেন। খোঁজ নিলে জানা যাবে প্রতিটা ছাত্রলীগ নেতা গাড়ি, বাড়ি, জমি, ফ্লাট ও ব্যাংকে অনেক নামে বেনামে টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছে। খোঁজ নিলে আরো জানা যাবে নতুন কেনা ফ্ল্যাটের জন্য কেউ কেউ এক কোটি টাকার ফার্নিচার কিনেছে। দেশে লেখাপড়ার মান কমেছে। মাদ্রাসা বেড়েছে। হত দরিদ্রদের সংখ্যা বেড়েছে। ভিক্ষুকদের সংখ্যা বেড়েছে। নব্যধনী সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ হঠাত এত ধনী হয়েছে যে, দেড় লাখ টাকা দামের বাইকে করে লুঙ্গি পরে গ্রামের বাজারে যায় সবজি কিনতে। আবার অনেকে কথিত প্রেমিকা নিয়ে যায় ইউরোপ ট্যুরে। এদের বিষয়ে শেখ হাসিনার সাবধান থাকতে হবে।

শেখ হাসিনা অসৎ মানুষদের পছন্দ করেন না।
সে সাথে অযোগ্য ও অদক্ষদের তিনি পছন্দ করেন না। শেখ মুজিবের মতোন তিনিও একজন খাঁটি মানুষ। তার শুদ্ধি অভিযানটা আবার চালু করা দরকার। সরকার সঠিক ভাবে বাজার নিয়ন্ত্রন করছে না। সমস্যা হলো দেশের নেতারা মানুষের প্রতিদিনের জীবনের সাথে নিজের জীবনকে মিলিয়ে দেখেন না। আওয়ামী লীগের প্রচুর লোকজন চাকুরী করে না, এরা ব্যবসার নামে সিন্ডিকেটবাজী করে। কতিপয় বদলোক আওয়ামীলীগের নামে চাঁদাবাজি করে সবকিছুর দাম বাড়াচ্ছে। শেখ হাসিনা বাজারের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকে বুঝতে পারছেন না অথবা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এটার ফল ভয়াবহ হওয়ার সম্ভবনা আছে। অতীতে অনেক ভুলের কারনে অনেক মহান নেতাও গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে ছিলেন। শেখ হাসিনার ভালো কাজের অভাব নেই। কিন্তু দলে থাকা কতিপয় দুষ্টলোক আওয়ামীলীগের সর্বনাশ করছে। এরাই এই মহৎ দলটির ভালো কাজ গুলো প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আশা করি শেখ হাসিনা বদলোকদের থামাবেন। ইন্দিরা গান্ধীর চেয়ে হাজার গুণ বেশি বুদ্ধিমতি আমাদের শেখ হাসিনার। তার উপর তার বাবার দোয়া আছে। দেশবাসীর দোয়া আছে। কাজেই শেখ হাসিনার কোনো ভয় নেই। দয়াল মুরশিদ যার সহায়, তার কিসের ভাবনা।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০২৩ রাত ১২:৫২
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছাতিম গাছের ছায়ায়

লিখেছেন আবু সিদ, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৩


সূর্যটা আজ যেন আগুনে আগুন। মাথার ওপর তামাটে আকাশ। নিচে তপ্ত পিচঢালা পথ। এই কাঠফাটা দুপুরে একদল কিশোর লক্ষ্যহীন হেটে চলেছে । রনি, রাহাত, ওলি আর আশফাক। তাদের পদক্ষেপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের ওভারব্রীজ

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৪

বেশ অনেকদিন আগের কথা। আমি কোন এক দুর্ঘটনায় পা এ ব্যাথা পাই। হাসপাতালে ইমারজেন্সি চিকিৎসা নেই। কিন্তু সুস্থ হতে আরো অনেক দেরী। সম্ভবত চিটাগাং রোডে (নারায়ণগঞ্জ) এ রাস্তা পার হবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৈচিত্রে ভরা মহাবিশ্ব, তবে মানুষ কেন একই রকম হবে?

লিখেছেন মিশু মিলন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৩৯



এবার শেখরনগর কালীপূজার মেলায় গিয়ে সন্ধ্যার পর ভাগ্নি আর এক দাদার মেয়েকে বললাম, ‘চল, তোদের অন্য এক জীবন দেখাই।’
সরু গলি দিয়ে ওদেরকে নিয়ে গেলাম পিছনদিকে যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×