somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ভালো মানুষ, মন্দ মানুষ

১৪ ই নভেম্বর, ২০২৪ দুপুর ১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একজন মানুষের মধ্যে খারাপ দিক থাকে, ভালো দিক থাকে।
কোনো মানুষই পুরোপুরি শুদ্ধ নয়। এই সমাজে সুখী মানুষ যেমন খুজে পাওয়া যাবে না। শুদ্ধ মানুষও খুজে পাওয়া যাবে না। এই আমার নিজের মধ্যেই খারাপ দিকের অভাব নেই। অবশ্য আমি চেস্টা করি ভালো দিক গুলো দেখাতে আর মন্দ দিক গুলো লুকাতে। মানুষ সব সময় চেস্টা করে তার মন্দ দিক গুলো লুকাতে। কিন্তু পারে না। বিভিন্ন পরিবেশে মানুষের খারাপ দিক গুলো ঠিকই প্রকাশ পেয়ে যায়। ঠিক সেভাবে মানুষ তার ভালো দিক গুলোও লুকিয়ে রাখতে পারে না।

আমি কিছু মানুষের ভালো দিকের কথা বলি,
একবার দুপুরবেলা আমি কাকরাইল মসজিদের সামনে দাড়িয়ে আছি। এক রিকশাওয়ালা আর একজন যাত্রী তুমুল ঝগড়া করছে। মাত্র বিশ টাকার জন্য এই ঝগড়া। চারিদিকে মানুষ জমে গেছে। একদল রিকশাওয়ালা পক্ষে, আরেক দল যাত্রীর পক্ষে। ঝগড়া যখন মারামারি পর্যায় যাবে, ঠিক এই মুহুর্তে এক ভদ্রলোক এসে মুহুর্তের মধ্যে ঝগড়া মিটমাট করে দিলো। ভদ্রলোক রিকশা চালককে একশ টাকার একটা নোট দিলো। ঝামেলা মিটমাট হয়ে গেল। ভদ্রলোক অবশ্যই ভালো মানুষ। এই কাজটা তো আমিও করতে পারতাম। কিন্তু করি নাই। আমি হা করে তাকিয়ে ছিলাম।

মানুষ বড় অদ্ভুত প্রানী।
আমার নিজের চোখে দেখা একটা ঘটনা বলি, ভোরবেলা এক ভিক্ষুক রাস্তায় দাড়িয়ে খুব কান্না করছে। ভিক্ষুকের ব্যক্তব্য তার কাছে পাচ হাজার টাকা ছিলো। কে বা কারা যেন সেই টাকা নিয়ে গেছে। এজন্য ভিক্ষুক খুব কাদছে। অভিনয় কান্না নয়। একদম বুকের ভেতর থেকে উঠে আসা কান্না। নিবির নামের এক ভদ্রলোককে দেখলাম ভিক্ষুক মহিলাকে পাচ হাজার টাকা দিয়ে দিলো। আমি বেশ অবাক হলাম পাচ হাজার টাকা! নিবির ভাই ভালো মানুষ আমি জানি। ছোটবেলা থেকেই তাকে দেখছি। এই নিবির ভাই একদিন রাস্তার মধ্যে তার স্ত্রীর গলা টিপে ধরলো। স্ত্রীর অপরাধ সে কেন চটপটি খেতে চাইলো। একটু আগেই তো তাকে সতের হাজার টাকা দিয়ে একটা শাড়ি কিনে দেওয়া হয়েছে। মানুষ বড় অদ্ভুত প্রানী।

আমার নিজের একটা ঘটনা বলি, বেশ কয়েক বছর আগের কথা।
আমি পরীবাগ রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। শীতকাল। প্রচন্ড শীত। হঠাৎ দেখি ব্রীজের নিচে এক বুড়ি মহিলা কাপছে। তার নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। বুড়িকে দেখে ভীষণ মায়া লাগলো। বুড়িকে বললাম, আপনার অবস্থা তো গুরুতর। বুড়ি কোনো রকমে বলল, তার ইনহেলার শেষ। তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে। আমি শাহবাগ থেকে একটা ইনহেলার কিনে এনে বুড়িকে দিলাম। বুড়ি খুব খুশি হলো। মাঝে মাঝে দুই একটা ভালো কাজ করে ফেলি। বিপুল আনন্দ পাই। আসলে মানুষকে খুশি করতে খুব বেশি কিছু লাগে না।

আমার বাবার একটা কথা বলি, আমাদের বাসায় এক চোর ধরা পড়লো। ভয়াবহ অবস্থা। আশেপাশের লোকজনরা বলল, মারুন মারুন। ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। আব্বা চোরকে মারলো না। ভাত খেতে দিলো। চোরকে জামা কাপড় দিলো। হাতে কিছু নগদ টাকাও দিলো। বলল, চুরীটা ছেড়ে দাও। ভালো করে খুজে দেখো একটা কাজ ঠিকই পাবে। সেই চোর মাঝে মাঝে আমাদের বাসায় আসতো। আব্বার সাথে দেখা করতো। আব্বার মৃত্যুর পর একবার এসেছিল। আব্বার মৃত্যুর কথা শুনে খুব কাদলো। ছেলেটা চোর হয়ে জন্ম নেয়নি। এই সমাজ তাকে চোর বানিয়েছে।

মেয়েটার নাম লাবন্য। আমরা একসাথেই পড়তাম।
এমনকি একই এলাকায় থাকতাম। লাবন্য সহজ সরল মেয়ে। প্রানবন্ত, হাসি খুশি। লাবন্য কখনো খুব সাজতো না। তার সাজ বলতে চোখে মোটা করে কাজল দিতো। আর কপালে একটা টিপ। তাতেই লাবন্যকে একদম দেবী স্বরসতীর মতো লাগতো। তার মতো দরদী ও মায়াবতী মেয়ে আমি আর দেখি নাই। আমার মন খারাপ হলেই আমি লাবন্যর কাছে ছুটে যাই। লাবন্যর সাথে কিছুক্ষণ থাকলেই আমার মন ভালো হয়ে যায়। লাবন্য কে বিষয় করলে নিশ্চয়ই আমার জীবন টা অন্য রকম হতো! বড় ভুল করে ফেলেছি।

আমার মুখ দেখেই লাবন্য বুঝে যায়, আমি দুপুরে খেয়েছি কিনা।
আমাকে খুব যত্ন নিয়ে খেতে দেয়। যতক্ষণ আমি খাই, আমার পাশে বসে থাকে। যেন আমার স্ত্রী। স্ত্রীদের মতো আচরণ করে। ধমক দেয়। বিনা দ্বিধায় জড়িয়ে ধরে। মাঝে মাঝে আমি আর লাবন্য ফুলার রোড থেকে হাটতে হাটতে শহীদ মিনার পর্যন্ত যাই। লাবন্যর সঙ্গ আমার ভালো লাগে। লাবন্য বেশ ধনী মেয়ে। তাছাড়া ভালো চাকরি করছে। লাবন্য শুধু মাত্র আমাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য আমার সাথে সিগারেট খেতো। লাবন্য গতকাল ফোন করেছিল। সে তিব্বত বেড়াতে যাবে। আমাকে সাথে নিতে চায়। সব খরচ তার।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০২৪ দুপুর ২:০৮
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×