somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

অভিজ্ঞতা

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৫ রাত ১২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ঢাকা শহরের সব রাস্তার মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকান আছে।
একদিন দুপুরবেলা হঠাত আকাশ কালো করে ঝুম বৃষ্টি নামল। আমি ভিজতে ভিজতে রাস্তার পাশের এক দোকান থেকে এক কাপ চা খেলাম। খুব মুগ্ধ হলাম। আশ্চর্য ব্যাপার সাথে সাথে আমার রবীন্দ্রনাথের কথা মনে পড়ল! রবীন্দ্রনাথ কি কখনও বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে রাস্তার পাশের দোকান থেকে চা খেয়েছেন? খেলেও আমার মতো মুগ্ধ কী কখনও হয়েছেন! যাইহোক, আমাদের রবীন্দ্রনাথের জীবনে কিছু ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছিল। আসলে আমাদের সবার জীবনেই কম বেশি ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে। আমার জীবনের কয়েকটা ভয়ংকর অভিজ্ঞতা আছে।

১। অফিসের কাজে একবার ফরিদপুর গিয়েছিলাম।
উঠেছি ডাকবাংলোতে। সালতা নামে এক গ্রামে গিয়েছিলাম। ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হয়ে গেলো। একজন বাইকে করে ডাকবাংলোয় পৌছে দিবেন। শীতের রাত। বাইক চলছে হুহু করে। আমি শীতের জামা পড়া আছি। তবু শীতে কাপছি। ভাগ্য খারাপ রাস্তায় হটাৎ বাইক নষ্ট হয়ে গেলো। চারিদিকে অন্ধকার। কিছুতেই বাইক ঠিক করা গেলো না। বাইক চালক বলল, অনেকখানি পথ চলে এসেছি। আর দশ মিনিট হেটে গেলেই আপনি বাংলো পেয়ে যাবেন। আমি আল্লাহর নাম নিয়ে হাটা শুরু করলাম। পথ আর শেষ হয় না। শিয়াল ডাকছে। কুকুর ডাকছে। ভয়ে আমি এই শীতের মধ্যেও ঘামতে শুরু করেছি। আমি পথ হারিয়ে ফেলেছি। অনেক গুলো কুকুর আমার পেছনে এসে জড়ো হয়েছে। আমি ভীতু মানুষ। ভয়ের মুখোমুখি হলেই আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।

২। ভাটিয়াপাড়া গিয়েছি অফিসের কাজে।
তখন আমি এক পত্রিকা অফিসে কাজ করি। রাতে ভাটিয়াপাড়া গিয়েছি ডিনার করতে। ভাটিয়াপাড়াতে কিছু খাওয়ার হোটেল প্রায় সারারাত খোলা থাকে। রাত বারোটায় খাওয়া শেষ হলো। রিকশা নেই। হেটে ফিরতে হবে। আমার সাথে আরো কয়েকজন ছিলেন। গ্রামের ভিতর দিয়ে হেটে ফিরছিলাম। আমার মনে আছে পোনা গ্রামে আসা মাত্রই আমাদের ঘিরে ফেলা হলো। গ্রামবাসী আমাদের ঘিরে ধরেছে। তাদের ধারণা আমরা ডাকাত। ডাকাতি করতে গ্রামে এসেছি। আমাদের মধ্যে একজন দৌড়ে পালাতে গিয় ধরা খেয়েছে। আমাকে ইচ্ছে মতো মারছে। আমার জামা কাপড় ছিড়ে গেছে। আমি বলছি, দেখুন আমি চোর ডাকাত নই। এই যে আমার আইডি কার্ড দেখুন। গ্রামের মানুষ আমার কথা শুনে না, আমাকে সমানে মেরেই চলেছে। আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্ত পড়ছে। একজনকে বললাম, আমাকে এক গ্লাস পানি দেন। পানি না দিয়ে আমাকে লাথথি দিতে শুরু করলো। সেদিন আমি মরেই যেতাম। কিন্তু ভাগ্য ভালো পুলিশ এলো। পুলিশ এসে আমাকে থানায় নিয়ে গেলো। আমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে লকাপে ঢুকিয়ে দিলো। পানি চাইলাম, পানিও দিলো না।

৩। কুমিল্লা গিয়েছিলাম। ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেলো।
বেশি রাত নয়, ১০/১১ টা হবে। গুলিস্তান বাস থেকে নেমেছি। রাস্তা নিরব। পার্কের পাশ দিয়ে হেটে আসছিলাম রাজউকের দিকে। হঠাৎ অন্ধকার থেকে একটা মেয়ে বের হয়ে এলো। সস্তা মেকাপ করেছে। ল্যাম্পপোস্টের ঘোলাটে আলোয় মেয়েটাকে দেখলাম। বিকট মেকাপ না করলেই মেয়েটাকে বেশি ভালো লাগতো। মেয়েটা বলল, আদর করবেন আমায়? অল্প টাকা দিলেই হবে। আমি ভীষণ ভয় পেলাম। ভয়ে আমি কিছুটা কাপছি। আমি পকেট থেকে দুই শ টাকা বের করে মেয়েটার হাতে দিলাম। বললাম, যাও বাসায় চলে যাও। মেয়েটা বলল, কাজ না করলে আমি টাকা নিবো না। তারপর মেয়েটা আমার হাত ধরলো। বলল, ভয়ের কিছু নেই। আসেন আমার সাথে। আমি মেয়েটাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে, দিলাম এক দৌড়। এক দৌড়ে দৈনিক বাংলা চলে এলাম। বহু বছর আগের ঘটনা। কিন্তু আজও মেয়েটাকে ভুলতে পারিনি। কি সুন্দর ও সহজ করে বলেছিলো, আদর করবে আমায়!!

৪। একদিন ভোরবেলা কাপ্তান বাজারে গিয়েছি।
তখন অনেক কবুতর পাওয়া যেতো। কবুতরের হাট বসতো সপ্তাহে একদিন। দুই লোক ঝগড়া করছিলো। কেউ আমার সামনে ঝগড়া করলে, আমি চুপচাপ থাকতে পারি না। আমি চেস্টা করলাম ঝগড়া থামাতে। কিছুতেই ঝগড়া থামে না। অনেক লোক ঝমে গেলো। একদল লোক চলে এলো। তাদের হাতে চাপাতি, রামদা, চায়নিজ কুড়াল। তুমুল মারামারি শুরু হলো। ডাব কাটার দা দিয়ে একজন আমাকে তেড়েফুঁড়ে কোপ দিতে এলো। অথচ আমার কোনো দোষ নেই। আমি বরং ঝগড়া থামাতে গিয়েছিলাম।

৫। একদিন রাতে ঘুমাচ্ছিলাম।
বাসায় কেউ ছিলো না। রাত দুটায় দরজায় নক। পিনহোল দিয়ে তাকিয়ে দেখি পুলিশ। আমি ভীষণ অবাক হলাম! দরজা খুললাম। পুলিশ আমাকে হাতকড়া পরালো। এবং থানায় নিয়ে গেলো। আমি বারবার জিজ্ঞেস করলাম, আমার অপরাধ কি? পুলিশ কোনো উত্তর দেয় না। আমি বললাম, আপনাদের বোধহয় ভুল হচ্ছে। থানায় যাওয়ার পর পুলিশ বলল, আপনি মার্ডার করেছেন। আমি জীবনে একটা মূরগী জবো করিনি। গরু জবাই দেখিনি। আমি খুবই নরম মনের মানুষ। আর আমি করবো মার্ডার। অবশ্য পুলিশ চাইলে দিনকে রাত করতে পারে, রাতকে দিন। আমাকে লকাপে ঢুকিয়ে দিলো।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৫ রাত ১২:০১
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনু গল্প

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



(এক)
দশম শ্রেণির ছেলে সাদমান সারাদিন ফোনে ডুবে থাকত। বাবা-মা বকাঝকা করলে প্রায়ই অভিমান করে ভাত খেতো না। একদিন রাতে ঘরের দরজা বন্ধ। ভোরে দরজা ভেঙে সবাই স্তব্ধ। খবরের কাগজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প - ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫



আমার সাথে একজন সাবেক সচিবের পরিচয় হয়েছে।
উনি অবসরে গেছেন, ১০ বছর হয়ে গেছে। এখন উনি বেকার। কোনো কাজ নাই। বাসায় বাজার করেন অনেক বাজার ঘুরে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটু চালাক না হইলে আসলে এআইয়ের দুনিয়াতে টেকা মুশকিল।

লিখেছেন Sujon Mahmud, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:২৫



সকাল থেকে চ্যাটজিপিটি আর ন্যানো ব্যানানার কাছে ঘ্যান ঘ্যান করছিলাম, ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বলেছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার পশ্চাৎদ্বেশ চাটে, এইটার একটা ছবি তৈরি করে দাও।

শালারা দিবেই না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×