somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

পৃথিবীর সব সুখ টাকা দিয়ে পাওয়া যায়, বড়ই অদ্ভুত তাই না?

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



Life is beautiful তখনই হবে, যখন আপনার পর্যাপ্ত টাকা থাকবে।
টাকা ছাড়া জীবন আনন্দময় নয়। যন্ত্রনার। টাকা থাকলে আপনার সবর্ত্র দাম থাকবে, কদর থাকবে। মানুষ আপনাকে গুরুত্ব দিবে। টাকা না থাকলে পরিবারের সদস্যরাও আপনাকে গুরুত্ব দিবে না। কাজেই ভালো ভাবে লেখাপড়া শেষ করে ভালো চাকরি করতে হবে। অথবা ব্যবসা। প্রচুর টাকা ইনকাম করতে হবে। তবে টাকা পরিশ্রম করেই ইনকাম করা উচিৎ। অসৎ পথে টাকা ইনকাম করা ঠিক না। অসৎ পথের টাকায় সত্যিকারের সুখ আসে না।

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত টাকা প্রয়োজন।
টাকা দিয়ে আনন্দ কেনা যায়, সুখ কেনা যায়, ভালোবাসা কেনা যায়। টাকা না থাকলে আপনি সব কিছু থেকে বঞ্চিত হবেন। সৎ পথে ইনকাম করেও গাড়ি বাড়ি জমিজমা করা যায়। টাকার জন্য ভালোবাসা হারিয়ে যায়। আত্মীয় স্বজনের সাথে দূরত্ব বাড়ে। কাছের বন্ধুরা দূরে চলে যায়। টাকার জন্য নিজের স্বপ্ন গুলো পূরণ হয় না। টাকার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। টাকা ছাড়া এক মুহূর্ত চলা যায় না। টাকা না থাকলে জীবনে সুখ আসে না। টাকা না থাকলে নিজ স্ত্রী পুত্র কন্যার কাছেও মূল্য থাকে না।

অবশ্য অনেক সুখ আর আনন্দের জন্য টাকার প্রয়োজন হয় না।
এই ধরুন বৃষ্টি। ঝম ঝম বৃষ্টি। যখন আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামে অতি নির্দয় মানুষের মনও নরম হয়ে যায়। একজন রিকশাচালক পর্যন্ত খুশিতে একটা বেনসন সিগারেট ধরায়, সাথে এক কাপ চা। ছেলেমেয়েরা মুগ্ধ হয়ে ব্যলকনিতে বসে বৃষ্টি দেখে। গৃহিনীরা খিচুড়ি বসিয়ে দেয়। রাতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ভাব ভালোবাসা হয়। আবার ধরেন, যখন আকাশে বড় একটা চাঁদ ওঠে। বিশ্ব চরাচর ভেসে যায় জোছনায়। কবি সাহিত্যিকেরা লিখে ফেলেন গল্প কবিতা। আহ কি সুখ! কি আনন্দ। শিশুর মুখের সহজ সরল স্বচ্ছ পবিত্র হাসি। আহ কি সুন্দর! বৃষ্টি, জোছনা আর স্বচ্ছ পবিত্র হাসি এগুলোর জন্য টাকা লাগে না। একথাও সত্য বিনামূল্যে যা পাওয়া যায় তার দাম থাকে না।

টাকা ছাড়া জীবনে আমি অনেকের ভালোবাসা পেয়েছি।
স্বচ্ছ পবিত্র ভালোবাসা। একবার এক অচেনা গ্রামে গিয়েছি। হাটতে হাটতে আমি ক্লান্ত। ভরসন্ধ্যা। বেশ ক্ষুধাও পেয়েছে। এক বাড়ির সামনে দাড়িয়ে এক গ্লাস পানি চাইলাম। মহিলা ডেকে আমাকে বাড়ির ভিতরে নিয়ে গেলেন। বসতে দিলেন। মহিলার ঘরে কোন খাবার নেই। হতদরিদ্র। মূরগীর ঘরে মহিলা হাত দিয়ে কি যেন খুজলো, পাওয়া গেলো। একটা ডিম। সেই ডিম মহিলা সিদ্ধ করে আমায় দিলো। মহিলার আন্তরিকতায় আমার চোখে পানি চলে এলো। গৃহস্থ বাড়িতে শুধু পানি দেওয়া হয় না। দিলে অকল্যাণ হয়। এক গ্লাস পানির সাথে কিছু না কিছু দিতে হয়। এটাই নিয়ম।

এক জীবনে অনেকের কাছ থেকে ভালোবাসা আন্তরিকতা পেয়েছি।
রেললাইনের ধারে একটা ছোট চায়ের দোকান। আকাশ ভরা মেঘ। চায়ের দোকানে লোকজন নেই। আমি চুপ করে এককোনায় বসে আছি। ছোট্ট একটা পরিবার। চায়ের দোকানের পেছনেই খুপরি ঘরে তারা থাকে। লোকটা অনেক আয়োজন করে খিচুড়ি রান্না করছে। সবজি খিচুড়ি। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছি। বাচ্চা দুটা অস্থির হয়ে আছে, কখন রান্না হবে খিচুড়ি! মাটির চুলায় রান্না হচ্ছে। সুন্দর গন্ধ! আকাশ ভরা মেঘ! শীতল বাতাস! রান্না শেষ। তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আমাকেও এক প্লেট খিচুড়ি দেওয়া হলো। আগ্রহ নিয়ে আমি খিচুড়ি খেলাম। দরিদ্র একটি পরিবার যে আন্তরিকতা দেখালো, সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১:২৯
১৩টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী, কিন্তু ঘরে ফিরে তিনি একজন বাবা

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২৩



বেশিরভাগ মানুষ বিজ্ঞানীদের জীবনের সাফল্যটাই দেখে; কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে কত বছরের শ্রম, ত্যাগ আর ব্যক্তিগত জীবনের কত কিছু বিসর্জন দিতে হয়েছে, সেই গল্পটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের অজানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবাদপত্র

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩



একালে কি কেউ কেউ সাতসকালে এখনো অপেক্ষায় থাকেন কখন আসবে সংবাদপত্র?
একদা যিনি সংবাদপত্র বয়ে আনতেন তার সাথে কতো মান- অভিমানের খেলা!
এমনও হয়েছে বিলম্ব দেখে তার আগমনী পথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ, উদ্বাস্তু এবং রোহিঙ্গা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২



দেশভাগের অনেক পরে আমার জন্ম।
আমি দেশভাগের ইতিহাস জানি। দেশভাগের পরে যা হয়েছে, অতি মন্দ সব ঘটনা ঘটেছে। লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার নারী নির্যাতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭


এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

একটা সময় ছিল- শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করলেই কারও চোখে ক্ষোভ, কারও মনে শ্রদ্ধা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযোদ্ধাদের তরুণ প্রজন্ম পছন্দ করে না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৮


২০২৫ সালের ডিসেম্বরের কথা। একদিন মিরপুরে গেলাম, যে স্কুলে পড়েছি সেটার কী অবস্থা দেখতে গেলাম। এখনো কয়েকজন শিক্ষক আমাকে চেনেন। পুরাতন জায়গা বলে একটা টানও ছিল। দীর্ঘ প্রায় ১৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

×