somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

মনসা মঙ্গল কাব্য

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মনসা মঙ্গল কাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন এ জনপ্রিয় কাব্য।
সাপের দেবীর নাম মনসা। মূলত বেহুলা লখিন্দরের কাহিনী এই কাব্যের মুল বিষয় বস্তু। চাঁদ সওদাগরের বিদ্রোহ আর মনসার তেজ। মনসা মঙ্গল কাব্যের আসল নায়ক চাঁদ সওদাগরের ছেলে লখিন্দর। আজকের এই আধুনিক যুগে এসে পরিস্কার বুঝা যায়, এসব কাহিনির বানোয়াট। বাস্তব ভিত্তি নেই। এসব গল্প মানুষকে বিনোদন দেওয়ার জন্য।

কাব্যে ফিরি, পার্বতী ছাড়া শিব কারো সাথে সহবাস করতে চায় না। একদিন পার্বতী কাছে নেই। শিব বীর্য বের করেন সেই বীর্য পদ্ম পাতার রাখেন। শিবের বিন্দু থেকে মনসার জন্ম হয়। শিব মনসাকে বাড়ি নিয়ে আসেন। যাইহোক, মনসার জন্ম হলো। মনসার অন্য নাম কেতকা বা পদ্মাবতী। কিন্তু মনসাকে কেউ পূজা করতে চায় না। চাঁদ সওদাগরও না। একজন দেবতার কন্যাকে পূজা কেন করবে না চাঁদ সওদাগর?

বিশ্বে সর্বপ্রথম সর্প পূজা কে করেন?
উত্তর হচ্ছে, তুরানী জাতি। আমাদের নবীজি, যিশু এবং গৌতম বুদ্ধের জন্মের আগে তুরানী জাতি সাপের পূজা করতো। আদি কাল থেকেই দরিদ্র লোকেরা সাপের পূজা করে। পূজা করলে মনে এক ধরনের শান্তি পাওয়া যায়। ব্যস এই টুকুই, আর কিছু না। অনেকে আজও আগে চাঁদ সওদাগরের পূজা করে, পরে মনসার পূজা করে। পূজা হয় ভারতে সবচেয়ে বেশি।

মনসা মঙ্গল কাহিনী মুখে মুখে যুগ যুগ ধরে প্রচলিত।
তের চৌদ্দ শতকে কোনো এক মহান কবি এই কাহিনী লিখে ফেলেন। বাংলা, বিহার আর আসামে এই কাহিনী খুব জনপ্রিয়তা পায়। সত্য মিথ্যা মিলিয়েই এই কাহিনী তৈরি হয়েছে। যাইহোক, আলোচনায় যাই। চাঁদ সওদাগর বীর পুরুষ। সাহসী। একবার সে মনসাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। মনসা কোনো সহজ পাত্রী নয়, সে অনেক রকম রুপ ধারণ করতে পারে। মনসা চায় সওদাগর তার পূজা করুক। চাঁদ সওদাগর বলে, আমি তোমার পিতা শিবের পূজা করবো। তোমার নয়।

অনেক শাখা উপশাখা নিয়ে কাহিনী এগিয়ে যায়।
চাঁদ সওদাগরের ছেলের নাম লখিন্দর। অন্যদিকে একই সময় জন্ম নেয় বেহুলা। দুজন একই অঞ্চলের। তারা একসাথে খেলা করে। একসময় তারা বড় হয়। তাদের পরিবার তাদের বিয়ে দিতে চায়। কিন্তু কোষ্ঠী মিলে না। তারপরও যদি তাদের বিবাহ হয়, তাহলে বাসর ঘরে লখিন্দরের মৃত্যু হবে সাপের কামড়ে। মনসা কঠিন দেবী। কিছুটা নিষ্ঠুরও। অন্যান্য দেবদেবীর মতো তারও কিছু অলৌকিক পাওয়ার আছে।

মনসা সাপ পাঠায় এবং সেই সাপ লখিন্দর কে কামড় দেয়।
সেই যুগে সাপে কাটা রুগীর চিকিৎসা ছিল না। ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়। মৃত স্বামীর সাথে বেহুলা নিজেও ভেলায় ওঠে বসে। অনেক সময় পেরিয়ে যায়। লাশে পচন ধরে। বেহুলা প্রার্থনা করতে থাকে। তাতে মনসার মন কিছুটা নরম হয়। বেহুলাকে ডেকে স্বর্গে নিয়ে যায়। মনসা বলে তোমার শ্বশুর (চাঁদ সওদাগর) কে বলো আমার পূজা করতে। তাহলে তুমি তোমার স্বামীর প্রান ফিরে পাবে।

শেষমেশ চাঁদ সওদাগর মনসার পূজা করে।
মনসা তার অলৌকিক ক্ষমতা দিয়ে লখিন্দর কে বাচিয়ে দেয়। অতপর লখিন্দর আর বেহুলা সুখে শান্তিতে ঘর করিতে লাগিলো। এই যুগে এরকম লজিকহীন গল্প কেউ পড়বে না। এই কাহিনী নিয়ে সিনেমা তৈরি হয়েছে। সিনেমা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:১৫
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাজাকার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



'এই জল ভালো লাগে; বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে দিয়েছে চুল-চোখের উপরে
তার শান-স্নিগ্ধ হাত রেখে কত খেলিয়াছে, আবেগের ভরে
ঠোঁটে এসে চুমো দিয়ে চলে গেছে কুমারীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×