
আমি কখনো রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিদ্ধ ডিম খাইনি।
অনেক এলাকাতেই রাস্তায় সিদ্ধ ডিম বিক্রি করে। আমার ইচ্ছা হয়- একদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে ডিম সিদ্ধ খাই। বহু লোক রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিদিন সিদ্ধ ডিম খায়। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মানুষের ডিম খাওয়া দেখি। বড় ভালো লাগে। হাঁসের ডিমের দাম ২৫ টাকা। দেশী মূরগীর ডিম ৩০ টাকা। ফার্মের মূরগীর ডিম ২০ টাকা করে পিছ। আজকাল সিদ্ধ ডিম মাঝখান দিয়ে কেটে পেয়াজ, মরিচ ধনিয়াপাতা আর সরিষার তেল দেওয়া ভর্তা দিয়ে দেওয়া হয়। এটার চাহিদা অনেক বেশি। একসময় সিদ্ধ ডিম মাঝখান দিয়ে কেটা শুধু লবন দিয়ে দেওয়া হতো। ধনিয়াপাতা দেওয়ায় সিদ্ধ ডিমের স্বাদ মনে হয় বেড়েছে। লোকজন আগ্রহ নিয়ে খাচ্ছে। সব সময় ডিমের দোকানের সামনে ভিড়।
সেদিন আমি সুরভি আর ফারাজা মিরপুর গিয়েছিলাম।
ভরসন্ধ্যা বেলা। সুরভি রাস্তায় ডিম দেখিয়ে বলল, খাবো। চার রাস্তায় মোড়ে দাঁড়িয়ে সুরভি সিদ্ধ ডিম খেলো। হাঁসের ডিম। বিক্রেতা ডিম দুই টুকরা করে এক চামচ ধনিয়া পাতা ভর্তা দিলো। ফারাজাকে বললাম, তুমি সিদ্ধ ডিম খাবে? ফারাজা বলল, নো নেভার। সুরভি আরেকবার ধরেপাতা ভর্তা চেয়ে নিলো ডিম বিক্রেতার কাছ থেকে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমি সিদ্ধ ডিম খেতে পারিব না। কেউ দেখে ফেললে! ছবি তুলে ফেলবে। তারপর বলে বেড়াবে বিখ্যাত রাজীব নূর রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিদ্ধ ডিম খায়! আমার মনে আছে, একবার পাবনা থেকে ঢাকা ফেরার পথে ফেরীতে একলোক সিদ্ধ ডিম বিক্রি করছিলো। তখন রাত প্রায় দুইটা। লোকজন আগ্রহ নিয়ে ডিম সিদ্ধ খাচ্ছে। শীতকালে ডিম সিদ্ধ মনে হয় বেশি মজা। আমার কাছে সিদ্ধ ডিমের চেয়ে চা বেশি ভালো লাগে।
একবার আমি আর সুরভি বরিশাল গিয়েছিলাম।
লঞ্চে করে। বিশাল লঞ্চ। লঞ্চের নাম 'কীর্তনখোলা'। বরিশালের বিখ্যাত নদী কীর্তনখোলা। শীতের সময় ছিলো। গভীর রাতে লঞ্চ চলছে। শীতের বাতাস তীরের মতোন এসে গায়ে বিঁধে। তখন আমাদের অল্প বয়স। সংসারে বাচ্চা-কাচ্চা নাই। আমরা কেবিনে না বিশ্রাম নিয়ে লঞ্চের ছাদে বসে গল্প করছি। তুমুল বাতাস! দারুন লাগছে। লঞ্চের ছাদে ডিম বিক্রেতা এলো। সিদ্ধ ডিম। সুরভি ঘরের বাইরে যে খাবারই দেখে, সে খাবে। খাবেই। অবশ্য শীতের রাতে গরম গরম সিদ্ধ ডিম খারাপ না। ডিম থেকে ধোঁয়া বের হয়। একটু লবন আর গোল মরিচের গুড়া। সেই স্বাদ। সুরভি যখন আমাদের বাসাত নতুন এলো। আমরা প্রথম প্রথম সারারাত জেগে গল্প করতাম। হঠাত সুরভিকে অবাক করে দিয়ে আমি চার পাঁচ গরম সিদ্ধ ডিম নিয়ে আসতাম। ডিমের উপর ছড়িয়ে দিতাম লবন। গোল মরিচ।
আমার কন্যা ফারাজা ডিমের কুসুম খায় না।
তাকে সিদ্ধ ডিম দিলে, সে শুধু ডিমের সাদা অংশটুকু খায়। কুসুম খায় না। আজিব! কিন্তু ডিম ভাজি করলে ডিম ভাজি খায়। কিন্তু সিদ্ধ ডিমের কুসুম খাবে না। একবার বন্ধুবান্ধব সবাই মিলে বান্দরবন গিয়েছি। রাস্তায় বাস নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য আমরা হোটেলে দেরীতে এসে পৌছাই। হোটেলে কোনো খাবার নেই। অথচ আমাদের অনেক ক্ষুধা লেগেছে। হোটেলের লোকটা বলল- ডিম সিদ্ধ খেলে খেতে পারেন। অনেক গুলো সিদ্ধ ডিম আছে। আমরা ক্ষুধা নিবারণের জন্য সিদ্ধ ডিম খেলাম। আমাদের বিয়ের পর সুরভি একদিন বলল, ফ্রিজে আর কিছু থাকুক বা না থাকুক। ডিম থাকেই। কেন? অনেক সময় ফ্রিজে মাছ মাংস শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ডিম থাকে। এর কারণ কি? আমি সুরভিকে বললাম, ফ্রিজে ডিম না থাকলে আমার ভালো লাগে না।
আজ আমার হাতে কিছু সময় আছে।
আজ আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিদ্ধ ডিম খাবো। এমনকি এক গ্লাস দুধ। অনেকে জায়গায় দেখেছি গরম দুধ বিক্রি করে। আমি কখনও রাস্তায় দাঁড়িয়ে গরম দুধ খাইনি। আজ আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে দুধ ও ডিম খাবো। কেউ দেখে ফেললে, দেখুক। তাতে আমার কি? জানি আমার কিছু না। তাতে তার কি! ব্রুস লি'র একটায় সিনেমায় দেখেছিলাম। ব্রুস লি সকালে ঘুম থেকে উঠে একটা গ্লাসে সাত টা ডিম ভাঙ্গে। তারপর সাতটা ডিম খেয়ে নেয়। একদম কাচা। একটু লবনও দেয়নি। ওয়াক ওয়াক। ব্রুস লি'র আরেকটা মুভিতে দেখেছি, সে দুধের মধ্যের কাচা ডিম মিশিয়ে খেয়ে ফেলে। ওয়াক ওয়াক। দুধ এবং ডিম মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




