somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ১৭৫

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি কখনো রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিদ্ধ ডিম খাইনি।
অনেক এলাকাতেই রাস্তায় সিদ্ধ ডিম বিক্রি করে। আমার ইচ্ছা হয়- একদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে ডিম সিদ্ধ খাই। বহু লোক রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিদিন সিদ্ধ ডিম খায়। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মানুষের ডিম খাওয়া দেখি। বড় ভালো লাগে। হাঁসের ডিমের দাম ২৫ টাকা। দেশী মূরগীর ডিম ৩০ টাকা। ফার্মের মূরগীর ডিম ২০ টাকা করে পিছ। আজকাল সিদ্ধ ডিম মাঝখান দিয়ে কেটে পেয়াজ, মরিচ ধনিয়াপাতা আর সরিষার তেল দেওয়া ভর্তা দিয়ে দেওয়া হয়। এটার চাহিদা অনেক বেশি। একসময় সিদ্ধ ডিম মাঝখান দিয়ে কেটা শুধু লবন দিয়ে দেওয়া হতো। ধনিয়াপাতা দেওয়ায় সিদ্ধ ডিমের স্বাদ মনে হয় বেড়েছে। লোকজন আগ্রহ নিয়ে খাচ্ছে। সব সময় ডিমের দোকানের সামনে ভিড়।

সেদিন আমি সুরভি আর ফারাজা মিরপুর গিয়েছিলাম।
ভরসন্ধ্যা বেলা। সুরভি রাস্তায় ডিম দেখিয়ে বলল, খাবো। চার রাস্তায় মোড়ে দাঁড়িয়ে সুরভি সিদ্ধ ডিম খেলো। হাঁসের ডিম। বিক্রেতা ডিম দুই টুকরা করে এক চামচ ধনিয়া পাতা ভর্তা দিলো। ফারাজাকে বললাম, তুমি সিদ্ধ ডিম খাবে? ফারাজা বলল, নো নেভার। সুরভি আরেকবার ধরেপাতা ভর্তা চেয়ে নিলো ডিম বিক্রেতার কাছ থেকে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমি সিদ্ধ ডিম খেতে পারিব না। কেউ দেখে ফেললে! ছবি তুলে ফেলবে। তারপর বলে বেড়াবে বিখ্যাত রাজীব নূর রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিদ্ধ ডিম খায়! আমার মনে আছে, একবার পাবনা থেকে ঢাকা ফেরার পথে ফেরীতে একলোক সিদ্ধ ডিম বিক্রি করছিলো। তখন রাত প্রায় দুইটা। লোকজন আগ্রহ নিয়ে ডিম সিদ্ধ খাচ্ছে। শীতকালে ডিম সিদ্ধ মনে হয় বেশি মজা। আমার কাছে সিদ্ধ ডিমের চেয়ে চা বেশি ভালো লাগে।

একবার আমি আর সুরভি বরিশাল গিয়েছিলাম।
লঞ্চে করে। বিশাল লঞ্চ। লঞ্চের নাম 'কীর্তনখোলা'। বরিশালের বিখ্যাত নদী কীর্তনখোলা। শীতের সময় ছিলো। গভীর রাতে লঞ্চ চলছে। শীতের বাতাস তীরের মতোন এসে গায়ে বিঁধে। তখন আমাদের অল্প বয়স। সংসারে বাচ্চা-কাচ্চা নাই। আমরা কেবিনে না বিশ্রাম নিয়ে লঞ্চের ছাদে বসে গল্প করছি। তুমুল বাতাস! দারুন লাগছে। লঞ্চের ছাদে ডিম বিক্রেতা এলো। সিদ্ধ ডিম। সুরভি ঘরের বাইরে যে খাবারই দেখে, সে খাবে। খাবেই। অবশ্য শীতের রাতে গরম গরম সিদ্ধ ডিম খারাপ না। ডিম থেকে ধোঁয়া বের হয়। একটু লবন আর গোল মরিচের গুড়া। সেই স্বাদ। সুরভি যখন আমাদের বাসাত নতুন এলো। আমরা প্রথম প্রথম সারারাত জেগে গল্প করতাম। হঠাত সুরভিকে অবাক করে দিয়ে আমি চার পাঁচ গরম সিদ্ধ ডিম নিয়ে আসতাম। ডিমের উপর ছড়িয়ে দিতাম লবন। গোল মরিচ।

আমার কন্যা ফারাজা ডিমের কুসুম খায় না।
তাকে সিদ্ধ ডিম দিলে, সে শুধু ডিমের সাদা অংশটুকু খায়। কুসুম খায় না। আজিব! কিন্তু ডিম ভাজি করলে ডিম ভাজি খায়। কিন্তু সিদ্ধ ডিমের কুসুম খাবে না। একবার বন্ধুবান্ধব সবাই মিলে বান্দরবন গিয়েছি। রাস্তায় বাস নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য আমরা হোটেলে দেরীতে এসে পৌছাই। হোটেলে কোনো খাবার নেই। অথচ আমাদের অনেক ক্ষুধা লেগেছে। হোটেলের লোকটা বলল- ডিম সিদ্ধ খেলে খেতে পারেন। অনেক গুলো সিদ্ধ ডিম আছে। আমরা ক্ষুধা নিবারণের জন্য সিদ্ধ ডিম খেলাম। আমাদের বিয়ের পর সুরভি একদিন বলল, ফ্রিজে আর কিছু থাকুক বা না থাকুক। ডিম থাকেই। কেন? অনেক সময় ফ্রিজে মাছ মাংস শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ডিম থাকে। এর কারণ কি? আমি সুরভিকে বললাম, ফ্রিজে ডিম না থাকলে আমার ভালো লাগে না।

আজ আমার হাতে কিছু সময় আছে।
আজ আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিদ্ধ ডিম খাবো। এমনকি এক গ্লাস দুধ। অনেকে জায়গায় দেখেছি গরম দুধ বিক্রি করে। আমি কখনও রাস্তায় দাঁড়িয়ে গরম দুধ খাইনি। আজ আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে দুধ ও ডিম খাবো। কেউ দেখে ফেললে, দেখুক। তাতে আমার কি? জানি আমার কিছু না। তাতে তার কি! ব্রুস লি'র একটায় সিনেমায় দেখেছিলাম। ব্রুস লি সকালে ঘুম থেকে উঠে একটা গ্লাসে সাত টা ডিম ভাঙ্গে। তারপর সাতটা ডিম খেয়ে নেয়। একদম কাচা। একটু লবনও দেয়নি। ওয়াক ওয়াক। ব্রুস লি'র আরেকটা মুভিতে দেখেছি, সে দুধের মধ্যের কাচা ডিম মিশিয়ে খেয়ে ফেলে। ওয়াক ওয়াক। দুধ এবং ডিম মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:০৫
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতঃ স্মৃতির অর্ঘ্য

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


প্রথম থেকেই ভেবেছিলাম
ভালোবেসে তোমাতে মগ্ন থাকবো আজীবন।
জলোচ্ছ্বাসে মতো ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম যেদিকে দুচোখ যায়
অথবা
জলপ্রপাতের জল হয়ে তোমার শরীর বেয়ে গড়াতে চেয়েছিলাম আজীবন।
ছুটন্ত নদী
উড়ন্ত মেঘ
অথবা
খেজুর রসের পাটালীর মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাগরিকের অপমান ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সংকট: ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ঘটনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০

নাগরিকের অপমান ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সংকট: ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ঘটনা

ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ছবিটি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×