somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...(১৭)

১৮ ই মে, ২০০৮ রাত ৯:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...(১৭)

তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল,১৯৯৩)


মানুষ বুঝি জন্মগতভাবেই স্বার্থপর হয়, রূপা ? যুবকটি তো বটেই। নাস্তিক্য দর্শনে বিশ্বাসী এই যুবক ধর্মতত্ত্বের অনেক কিছুই একবাক্যে মেনে নিতে পারে না। ভাবের গভীরতাকে খাটো না করেও সে কথিত নিষ্কাম-কর্মে একাত্ম হতে পারে না। এটাই কি যৌবনের ধর্ম ?

‘ফলের আশা না করে কাজ করে যাওয়া’-এর সাথে এখনো আমি একমত নই। এটা যে কী ধরনের কর্ম, তা আমার অগভীর উপলব্ধিতে আসে না। অনুভবে যা আসে তা এতো ভয়ঙ্কর মনে হয় যে, মরে গেলেও আমি তা নিজের জন্য মানতে পারবো না। আমার কল্পনার বাইরে উঁচুদরের কেউ পারেন কি না আমার জানা নেই ; ঐ যুবকও জানে না। ঈশ্বরের চরণ বন্দনায় সরলমনা ভক্তরা সর্বস্ব বিলিয়ে দেন- এটা কী ধরনের নিষ্কাম কর্ম, যুবকের সরল চিন্তায় আসে না। তাইলে এক বুক ভালোবাসার বিনিময়ে যুবকটি যে তার প্রেমাস্পদকে পেতে চায়, ওটা কী ধরনের কর্ম হবে ? লক্ষ্যবিহীন কৃতকর্মের অনুপ্রেরণা বা শক্তির উৎস কোথায় থাকে ? না এড়িয়ে এর উত্তর কে দেবে ? রূপা, তুমিই বলো তো, গন্তব্যহীন পথ চলা ভবঘুরেমি নয় কি ?

ইহজগতে কে কবে প্রিয়জনকে কামনা না করে ভালোবেসেছে ? সাফল্য ব্যর্থতা সে তো পরের কথা। আর পরজগতের অতিকল্পনায় বুঁদে থাকা আমার কর্ম নয়। মিথ-সদৃশ এমন কল্পনার যৌক্তিকতার সামাজিক প্রয়োজন হয়তো অস্বীকার করি না, তবে চূড়ান্ত দৃষ্টিতে তা পুরোপুরি অলীক নয় কি ? তত্ত্বের কচকচানি পণ্ডিতের কাজ বটে ; কিন্তু হৃদয়ের কারবারে এদের স্থান কোথায়।

তাই রূপা, অতীন্দ্রীয়রূপে নয়, ইন্দ্রীয়গ্রাহ্য তোমাকেই চাই আমি। আমাকেও তেমনি করে ডেকো।

‘লগা নহ্ দিলকো কহীঁ, কেয়া সুনা নহীঁ তুনে
জো কুছ কেহ্ মীর কা ইস্ আশিকীনে হাল কিয়া ?’


(মন দিও না কাউকে, তুমি কি শোন নি- প্রেমে পড়ে মীরের কী দশাটা হলো ?)... মীর তকী মীর।


চলবে...

আগের পর্ব (১৬): Click This Link
পরের পর্ব (১৮): Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০০৮ রাত ১২:০৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফিরছে অনলাইন ক্লাসঃ বাস্তবতা অফলাইনে কিন্তু সিদ্ধান্ত অনলাইনে

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪০




সরকার তিনদিন অনলাইন, তিনদিন অফলাইনে ক্লাস চালুর কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস, ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এসব কি সবার নাগালে আছে? নাকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

ছবি, অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

পানি এই একটি শব্দে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির রহস্য, জীবনের ধারা এবং মহান আল্লাহ তাআলার অফুরন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূলের (সা.) একমাত্র অনুসরনীয় আহলে বাইত তাঁর চাচা হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব (রা.)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩




সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোরগের ডাক , বিজ্ঞানের পাঠ এবং গাধার প্রতি আমাদের অবিচার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৫


গ্রামে বেড়ে ওঠা মানেই একটা অসাধারন শৈশব। আমাদের সেই শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মক্তবের মৌলভি সাহেবদের গল্প। তারা বলতেন, ভোররাতে মোরগ ডাকে কারণ সে ফেরেশতা দেখতে পায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×