somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বাধীনতা"

০৫ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বুঝ জ্ঞান হবার পর থেকে ১৭বছর বাবার শাসনের মধ্যে ছিলাম। কখনো বাবার মুখের উপর কথা বলিনি বলার সাহস হয়নি। যখন চুল কাটার বয়স হয়েছে তখন দুলাল নামের একজনের সেলুন দোকানে বসিয়ে দিয়ে নিজেও বসে থাকতেন। ক্লাস টেনে পড়ার সময় মোটামুটি বড় হয়েছি সেই এক সেলুনেই চুল কাটতে হতো বাবা বসেই চুল কাটাতেন। নিজের পছন্দ মতো কখনো চুল পর্যন্ত কাটতে পারিনি। চুলের আগা মাথা সব সমান ভাবে কাটতে হতো..!!
.
কখনো ক্লাস ফাঁকি দিলে সেদিন আর আমার রেহায় ছিলোনা। মাইরের উপর রাখতেন। ১৮বছর বয়স পর্যন্ত মেরেছেন প্রতিটা অন্যায়ে কখনো অন্যায় না করেও। কারণ কারো সাথে বিনা অপরাধে মারা মারি করলেও বাবা আমাকে মারতেন। তার মানে এই নই বাবা আমাকে ভালোবাসতেননা! সবার চেয়ে বেশি আমাকেই ভালোবাসতেন বাবা আর তাই আমার ছোট অপরাধেও বাবা খুব মারতেন। কতো রাত শীতের মধ্যে বাহিরে বেঁধে রাখছেন তার কোনো হিসেব নেই..!!
.
হ্যাঁ বাবা খুব শাসনের মধ্যে রেখেছেন। কারণ আমি মোটেও ভদ্রটাইপের ছেলে ছিলাম না। এলাকায় এমন কোনো ছেলে নাই আর এমন কোনো খেলার মাঠ নেই যেখানে আমি মারা মারি করিনি। এমন কোনো নারিকেল গাছ নেই যে গাছের নারিকেল শীত কালে চুরি করিনি। খেজুর রসতো নিত্যদিনের ব্যাপার রস এনে পানি রেখে দেওয়া। প্রাইমারি জীবনে এমন কোনো মেয়ে নেই যাকে মাত্র ১২বছর বয়সে আই লাভ ইউ বলিনি..!!
.
বাবা মায়েরা হয়তো সব বুঝতে পারতেন। কোন ছেলেটা কেমন হবে? তাই হয়তো আমাকে খুব শাসনের মধ্যেই রেখেছেন। শাসনের মধ্যেও থেকে কম ঘটনা ঘটায়নি। আর স্বাধীনতা দিলে আমিতো দেশের রাজা। মনে আছে ক্লাস সেভেনের বছর একটা জামা সবাই ছোট গায়ে দেই দেখে বাবার কিনে দেওয়া জামা কেটে ছোট করেছিলাম দর্জি কাকার হাতে, সেদিন কি মারটা দিলো আমারে কিন্তু রাতে আমার পাশে শুয়ে খুব কেঁদেছিলেন বাবা..!!
.
আমার বাবা চাইতেননা আমি আধুনিক হয়। আমি কোনো খারাপ বন্ধুর পাল্লায় পড়ি তাই সব সময় তার নিজের সামনেই রাখতেন। প্রতিটা মা বাবাই তার সন্তানের ভালো চাই যেটা আমরা সন্তানরা জল গোলা করে বুঝি একটা সময়..!!
.
মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নিয়েও খুব আধুনিক হয়ে চলতে ইচ্ছে হতো। চুলের কাটিং মেরে ফিটিং করতে মন চাইতো কিন্তু সেলুন যে সেই মনদাতার আমলের দুলাল কাকা, সেকি আর হয় চুলের আগা মাথা এক। কেনো জানি তখন মনে হতো দুনিয়ার সব চেয়ে খারাপ বাবা আমার। কিন্তু এখন বুঝি দুনিয়ার সব চেয়ে সেরা বাবা আমার..!!
.
বাবা এখন প্রবাসী, আমাকে কেউ শাসন করেনা। মনেও পড়েনা মা কখনো মেরেছে কিনা। কিন্তু সেই শাসন গুলো খুব মিস করি। আসলে আমাকে যদি তখন স্বাধীনতা দেওয়া হতো তাহলে পড়াশুনা সেই ক্লাস সেভেনেই থমকে থাকতো। বাবার শাসনের মধ্যে ছিলাম বলেই অন্তত এইটুকু পড়েছি। না হলে সেই কবে রিক্সা অথবা বাসের ড্রাইবার হতাম..!!
.
আসলে স্বাধীনতার সবার জন্য প্রযোজ্য নই মশাই। কিছু ক্ষেত্রে শাসনের উপর রাখতে হয়। কারণ স্বাধীনতা সবাইকে ভালো পথে রাখতে পারেনা। স্বাধীনতার মধ্যে থাকলে হয়তো আজকে আমি এই সময় হয়তো কোনো নেশার আসরে পড়ে থাকতাম কিংবা রিক্সার প্যাড়েল মারতাম যাত্রী নিয়ে..!!
.
বাবা তুমি আমার সেরা বাবা, তুমি আমার হিরো গো... তুমি তোমার মতোই তুমি তোমার মতো আর একটা হয়না। শত সাধারনে তুমি অসাধারন অনেক ভালোবাসি তোমায় অনেক অনেক মিস করি। তোমার শাসনটা আমার আরো একবার দরকার গো বাবা..!! :'(
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১২:৫৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৩

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট’ একটি বহুল ব্যবহৃত পরিচয়। সামাজিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিচয়ের কদর দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×