somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ করিমুল্লাহবাগে মানুষ মরে, নম্বর মরে না

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কার্তিক মাসের এক সকালবেলা করিমুল্লাহবাগের লোকেরা গলির মুখের কড়ইগাছতলায় এক অচেনা ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। তখনও তারা বুঝতে পারে না যে, এই ছেলের সঙ্গে তাদের মহল্লার কোনো পুরানো হিসাব জড়িয়ে আছে। ছেলেটা গাছের দিকে মুখ তুলে তাকিয়ে ছিল, যেন সে কোথাও থেকে গাছের বর্ণনা নিয়ে এসেছে এবং এখন মিলিয়ে দেখছে। মিলে যাওয়ার পর তার মুখে যে ভাব ফুটে উঠেছিল, আমাদের মধ্যে যারা সেদিন তাকে দেখেছিল তারা পরে সেই ভাবের দুই রকম ব্যাখ্যা দেয়। কেউ বলে তাকে খুশি দেখাচ্ছিল, আর কেউ বলে, না, ভয় পাওয়া মানুষের মুখ যে রকম হয় সে রকম। সেদিন সে কারো সঙ্গেই কথা বলে নাই। গাছতলায় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে রেলগেটের দিকে হেঁটে চলে গেছিল, এবং আমরাও তাকে ভুলে গেছিলাম। করিমুল্লাহবাগের গলিতে কত অচেনা লোকই আসে যায়, বাড়িভাড়ার খোঁজে, ইলেকট্রিকের কাজে, কিস্তি তুলতে, আমরাতো আর সবাইকে মনে রাখতে পারি না।

এক সপ্তাহ পরে সে আবার আসে। এইবার সে মোবারকের টঙে বসে এক কাপ চা আর বনরুটি খায়, পয়সা দিয়ে উঠে যায়। এবারও কারো সঙ্গে কথা বলে না। তৃতীয়বার যেদিন আসে, সেদিন চায়ের কাপ শেষ করে জুম্মনের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, “আনোয়ার হোসেনের বাসা কোন দিকে?”

জুম্মনের বয়স তখন তেরো, সে মোবারকের টঙে কাপ ধোয় আর চা এগিয়ে দেয়। সে প্রশ্ন শুনে মোবারকের দিকে তাকায়, আর মোবারক চুলা থেকে কেটলি নামিয়ে রেখে ছেলেটার দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। আমাদের মহল্লায় মরা মানুষের ঠিকানা কেউ জিজ্ঞেস করতে আসে না, কারণ মরা মানুষের ঠিকানা সবাই জানে, জুরাইন কবরস্থান, এবং আনোয়ার হোসেন তখন দুই বছর হয় সেই ঠিকানায় চলে গেছে।

মোবারক বলে, “আপনে কেডা?”
“আমারে চিনবেন না।”
“আনোয়ার ভাইরে চিনতেন?”
“না।”
“তাইলে?"

ছেলেটা তখন তার প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে টঙের বেঞ্চের উপর রাখে এবং বলে, “এই নম্বর আগে উনার আছিল।”

পরে আমরা জানতে পারি ছেলেটার নাম সেলিম, বাড়ি দক্ষিণে। কেউ বলে ভোলা, কেউ বলে পটুয়াখালী, সে নিজে কোনোদিন পরিষ্কার করে বলে নাই। সে ঢাকায় এসেছিল কাজের খোঁজে, যেভাবে সবাই আসে। এসে যাত্রাবাড়ী মোড়ের এক কাউন্টার থেকে আঙুলের ছাপ দিয়ে একটা সিম তুলেছিল, কারণ খাবার ডেলিভারির কোম্পানিতে নাম লেখাতে গেলে নিজের নামে নম্বর লাগে। নম্বর যে নতুন না, পুরানো, এই কথা তাকে কেউ বলে নাই। কোম্পানির লোকেরা বলে, নম্বর পনেরো মাস বন্ধ থাকলে সেই নম্বর আবার বাজারে ছাড়া হয়। এভাবে আনোয়ার হোসেনের এগারো অঙ্কের নম্বর, যেটা করিমুল্লাহবাগের দুইশো ঘরের দেয়ালে, খাতায়, পাশবইয়ের মলাটে, মোবারকের টঙের বাঁশের খুঁটিতে লেখা ছিল, সেটা সেলিমের আঙুলের ছাপের সঙ্গে বাঁধা পড়ে যায়।

আনোয়ার হোসেনকে আমরা চিনতাম পঁচিশ বছর ধরে। সে করিমুল্লাহবাগ জনকল্যাণ সঞ্চয় সমিতির ক্যাশিয়ার ছিল, যদিও সমিতির সভাপতি কে ছিল, কমিটিতে আর কারা ছিল, এই সব কথা আমরা এখন আর মনে করতে পারি না। সমিতি বলতে আমরা আনোয়ারকেই বুঝতাম। প্রতি বুধবার বিকালে সে তার ঘরের দাওয়ায় টেবিল পেতে বসত। টেবিলের উপর থাকত টিনের বাক্স আর একটা মোটা খাতা। মহল্লার মেয়েরা, রিকশাওয়ালার বউরা, গার্মেন্টসের মেয়েরা, বুড়িরা লাইন দিয়ে পঞ্চাশ টাকা, একশো টাকা জমা দিত, আর আনোয়ার প্রত্যেকের হলুদ মলাটের পাশবইয়ে খয়েরি কালিতে টাকার অঙ্ক লিখে নিচে একটা টানা সই দিত। সেই সই আমরা সবাই চিনতাম। খাতা যাতে না ভেজে, তাই মেঘ ডাকলে সে টেবিল গুটিয়ে ফেলত। বৃষ্টি ধরে এলে আবার টেবিল পাতত। জুরাইনের রাস্তায় যখন বছরের ছয় মাস হাঁটুপানি জমে থাকত, তখনও বুধবার বিকালে মেয়েরা কাপড় উঁচু করে ধরে সেই পানি ভেঙে আনোয়ারের দাওয়ায় আসত, কারণ তারা জানত, টাকা ঘরে রাখলে থাকে না।

তারপর এক শ্রাবণ মাসে পরপর দুই বুধবার আনোয়ারের দাওয়ায় টেবিল পড়ল না। প্রথম বুধবার আমরা ভাবলাম শরীর খারাপ। দ্বিতীয় বুধবার মেয়েরা তার দরজায় গিয়ে দাঁড়াল, দরজা বন্ধ দেখে ফিরে এল, এবং তৃতীয় দিন সকালে রুস্তম মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়ারা গন্ধ পেতে শুরু করল। আনোয়ার হোসেন রুস্তম মিয়ার আধাপাকা বাড়ির উঠানের কোণার ঘরে থাকত, একা। তার বউ তাকে ছেড়ে গেছিল বহু বছর আগে, নাকি সে-ই বউকে ছেড়েছিল, এই তর্ক আমাদের মহল্লায় কোনোদিন মেটে নাই। সেই ঘরের টিনের চালে গলির মুখের কড়ইগাছের ডাল ঝুঁকে থাকত, আর রাতবিরাতে শুকনা পাতা পড়ার শব্দ হত।

দরজা ভেঙে তাকে পাওয়া গেল চৌকির উপর। এই পর্যন্ত সবাই একমত, তারপর থেকে আর কেউ একমত না। কেউ বলে, দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল, শিকল তোলা; কেউ বলে, শিকল তোলা ছিল না, দরজা খালি চাপানো ছিল, ভাঙতেই হয় নাই। কেউ বলে, তার মুখ ঘুমন্ত মানুষের মতো শান্ত ছিল; কেউ বলে, তার চোখ খোলা ছিল এবং সে চালের দিকে তাকিয়ে ছিল, যেখানে কড়ইগাছের ডালের ছায়া পড়ে। মিটফোর্ডে লাশ কাটা হয়েছিল। রিপোর্টে কী লেখা হয়েছিল, সেই কাগজ আমাদের মহল্লার কেউ চোখে দেখে নাই। পুলিশ বলেছিল হার্টের ব্যাপার, আর আমরা যারা শুনেছিলাম তারা মাথা নেড়েছিলাম, কারণ বাহান্ন বছরের একলা মানুষের হার্টের ব্যাপার হতেই পারে। শুধু রেলগেটের সিগারেটের দোকানের কাশেম অনেক পরে একদিন বলেছিল, মরার আগের রাতে সে আনোয়ারকে রেলগেটের ওইখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিল, একা না, আরো কে যেন ছিল, অন্ধকারে চেনা যায় নাই। এই কথা কাশেম একবারই বলেছিল, তারপর আর বলে নাই।

টিনের বাক্স পাওয়া গেল খালি। মোটা খাতা পাওয়া গেল না। মহল্লার হিসাবে সমিতিতে জমা ছিল তিন লাখ বাহাত্তর হাজার টাকা, কারো হিসাবে পাঁচ লাখ, আর হাজি মকবুল বলে বেড়াত নয় লাখ ষাট, কারণ তার দাবি ছিল, সমিতির ঘাটতি মেটাতে আনোয়ার তার কাছ থেকেই সুদে টাকা নিয়েছিল। মেয়েরা তাদের হলুদ পাশবই নিয়ে থানায় গেছিল। দারোগা পাশবই উল্টেপাল্টে জিজ্ঞেস করেছিল, “সমিতির রেজিস্ট্রেশন আছে?”

মেয়েরা বলেছিল, “জানি না।”

দারোগা বলেছিল, “তাইলে এই বই দিয়া কিছু হইব না। এই বই শুধু বিশ্বাস, আর বিশ্বাসের মামলা আমরা নেই না।”

আনোয়ারের জানাজায় লোক হয়েছিল কম। কেউ কেউ ইচ্ছা করে যায় নাই, গেলেও কেউ কেউ কাতারে দাঁড়ায় নাই, পিছনে দাঁড়িয়ে দেখেছিল। জুরাইন কবরস্থানের ভিতরে তাকে যেখানে নামানো হয়েছিল, সেই জায়গা আমরা এখন আর বের করতে পারি না, কারণ ওই কবরস্থানে কবর বেশিদিন কারো নামে থাকে না। কয়েক বছর পরপর পুরানো কবর খুঁড়ে নতুন মরার জন্য জায়গা করা হয়।

দুই বছর ঘরে তালা মারা ছিল। রুস্তম মিয়া দুইবার ভাড়াটিয়া তুলেছিল। একজন ছিল এক দর্জি, সে এগারো দিনের মাথায় চলে যায়। কেন চলে যায় জিজ্ঞেস করলে বলেছিল, ঘরটা ঠান্ডা। আরেকজন ছিল দুই ভাই, তারা এক মাস ছিল, তারপর তারাও চলে যায়। তারা কোনো কারণ বলে নাই। এরপর রুস্তম মিয়া আর চেষ্টা করে নাই। ঘরের ভাড়া নামতে নামতে বাইশশো টাকায় ঠেকেছিল, তবু কেউ নেয় নাই, এবং কড়ইগাছের পাতা টিনের চালে জমে জমে কালো হয়ে পঁচত।

সেলিম যখন মোবারকের টঙে বসে বলে যে নম্বরটা আগে আনোয়ার হোসেনের ছিল, তখন প্রথমে আমরা তাকে বিশ্বাস করি নাই। আমরা ভেবেছিলাম, ছেলেটা হাজি মকবুলের লোক, নাইলে কোনো এনজিওর টাউট, নাইলে আনোয়ারের কোনো ওয়ারিশ, দুই বছর পরে গন্ধ পেয়ে এসেছে, যদি কিছু থেকে থাকে। কিন্তু সে কিছু চায় নাই। সে শুধু জিজ্ঞেস করেছিল, ঘর খালি আছে কি না, এবং রুস্তম মিয়া, যে দুই বছরে এক টাকা ভাড়া পায় নাই, সে বাইশশো টাকায় তাকে ঘর দিয়ে দিয়েছিল। মহল্লার কেউ কেউ রুস্তমকে বলেছিল, “ব্যাটা কেডা না কেডা, খোঁজ নিলা না।"

রুস্তম বলেছিল, “খোঁজ নিয়া আমার কাম কী? ঘর খালি থাকলে ভূতে ধরে, মাইনষে থাকলে মাইনষে ধরে।”

সেলিমের জিনিস বলতে ছিল একটা ব্যাগ, আর তার কাজের ওই গোলাপি রঙের চৌকো বাক্সব্যাগ, যেটা পিঠে নিয়ে সে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সাইকেলে করে শহরের এক মাথা থেকে আরেক মাথায় ভাত, বিরিয়ানি, বার্গার পৌঁছে দিত। মহল্লার লোকেরা প্রথম প্রথম দূর থেকে তাকে দেখত। সে কারো সাতে পাঁচে থাকত না, ফজরের আগে বের হয়ে যেত, রাত এগারোটা-বারোটায় ফিরত, গোলাপি ব্যাগটা ঘরের দেয়ালের পেরেকে ঝুলিয়ে রাখত, আর মোবারকের টঙে বসে বনরুটি দিয়ে চা খেত। সারাদিন মানুষের ঘরে ঘরে গরম খাবার পৌঁছে দিয়ে সে নিজে কী খেত, এই প্রশ্ন আমাদের মাথায় তখন আসে নাই, অনেক পরে এসেছিল।

ফোন তার সারাদিন বাজত। দিনের বেলার কলগুলা ছিল ডেলিভারির কল, কাস্টমার, ঠিকানা, কোন গলির কোন বাড়ি। রাতের কলগুলা ছিল অন্য রকম। এই কথাগুলা আমরা জেনেছি জুম্মনের কাছ থেকে, কারণ সেলিম আর কারো সঙ্গে না মিশলেও জুম্মনের সঙ্গে মিশত। রাতে টঙ বন্ধ করার আগে দুইজনে বেঞ্চে বসে থাকত, এবং সেলিম তাকে টুকরা টুকরা কথা বলত, আর জুম্মন সেই কথা আমাদের বলত। জুম্মন বাড়িয়ে বলে কি না আমরা জানি না। তেরো বছরের ছেলেরা বাড়িয়ে বলে, আবার তেরো বছরের ছেলেরাই খালি ঠিকঠাক শোনে।

জুম্মনের ভাষ্যমতে, সিম কেনার তিন দিনের মাথায় প্রথম কল আসে। এক লোক গলা নামিয়ে বলে, “আনোয়ার সাব, স্লামালিকুম, কিস্তির কথা মনে আছে তো।”

সেলিম বলে, “রং নম্বর।”

লোকটা কেটে দেয়।

তার পরদিন আরেকজন, তারপর আরেকজন। কেউ টাকা চায়, কেউ টাকা দিতে চায়। একজন বুড়া মানুষ কাঁদে আর বলে, “আনোয়ার ভাই, আপনে এই কাম আমার লগে করতে পারলেন।”

সেলিম প্রথম প্রথম সবাইকে বলত, “রং নম্বর, এই নম্বর এখন আমার, যারে খুঁজতেছেন হে নাই।”

কেউ বিশ্বাস করত, কেউ করত না, কেউ গালি দিয়ে কাটত। আর হাজি মকবুল, যে নিজের নাম বলত না কিন্তু গলা শুনে সেলিম পরে তাকে চিনেছিল, সে ফোন করে খালি তারিখ আর টাকার অঙ্ক বলত। অমুক সালের অমুক মাসে দুই লাখ, তমুক মাসে এক লাখ ষাট, সুদে আসলে আজ পর্যন্ত এত।

সেলিম বলত, “রং নম্বর।”

হাজি বলত, “নম্বর ঠিকই আছে, মানুষ রং।”

আর ছিল সেই মহিলা।

সে ফোন করত রাত এগারোটার পরে, যখন সেলিম ঘরে ফিরে ভেজা গামছা দড়িতে মেলে দিয়ে চৌকিতে বসত। প্রথম দিন সে ধরে বলেছিল, “হ্যালো।”

ওইপাশে অনেকক্ষণ কোনো শব্দ ছিল না, খালি নিঃশ্বাসের শব্দ। তারপর মেয়েমানুষের নিচু গলা জিজ্ঞেস করেছিল, “শুনতাছেন?”

সেলিম বলেছিল, “এই নম্বর যার আছিল হে মারা গেছে, দুই বছর হয়।”

ওইপাশে আবার অনেকক্ষণ চুপ। তারপর বলেছিল, “জানি।”

“জানি।”

এই এক শব্দ জুম্মন আমাদের যতবার বলেছে, ততবার আমাদের মহল্লার হিসাব উল্টে গেছে। যে জানে মানুষ মরে গেছে, সে মরা মানুষের নম্বরে ফোন করে কী শুনতে চায়? আর যে জানে ফোনের ওইপাশের মানুষ আসল মানুষ না, সে ফোন কাটে না কেন? সেই রাতে কেউ ফোন কাটে নাই। জুম্মনের ভাষ্যমতে, অনেকক্ষণ পরে মহিলা জিজ্ঞেস করেছিল, “ভাত খাইছেন?”

সেলিম, যে সারাদিনে একটা বনরুটি ছাড়া কিছু খায় নাই, সে নিজের অজান্তে বলেছিল, “হুঁ।”

তারপর থেকে মহিলা প্রায় রাতেই ফোন করত। আমরা এই কথা জানি, কারণ সেলিমের ঘরের বেড়া ছিল টিনের, আর টিনের বেড়া কথা রাখতে পারে না। রাত বারোটায় উঠানের ওই কোণা থেকে আমরা, মানে রুস্তম মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়ারা, সেলিমের গলা শুনতে পেতাম, খালি এক পাশের গলা: “হুঁ। খাইছি। আপনে খাইছেন। ঘুমান নাই ক্যান।”

মহিলা কী বলত আমরা শুনতে পাই নাই কোনোদিন। আমরা খালি সেলিমের হুঁগুলা শুনতাম, আর সেই হুঁগুলার ফাঁকে ফাঁকে যে চুপ করে থাকা, সেই চুপের ভিতর দিয়ে দূরে পোস্তগোলার দিকে রাতের ট্রেনের হুইসেল ভেসে আসত।

মহিলাটা কে, এই নিয়ে আমাদের মহল্লায় কেউ বলে মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালের এক নার্স। আনোয়ারের মা যখন শেষ অসুখে ভর্তি ছিল, তখন পরিচয়। আনোয়ার নাকি প্রতি মাসে একবার লঞ্চে মুন্সীগঞ্জ যেত, মহল্লার লোকে ভাবত সমিতির কাজে যায়। কেউ বলে, ওইটা আনোয়ারের সেই বউ, যে সাতাশ বছর আগে চলে গেছিল, আর শেষ বয়সে গলার আওয়াজ ফেরত চাইছিল। আর কেউ কেউ বলে, মেয়েমানুষ বলে আসলে কেউ ছিল না, সেলিম একলা মানুষ, একলা মানুষ রাতের বেলা নিজের সঙ্গে কথা কয়, এতে দোষের কিছু নাই।

শীতের শুরুতে একদিন সেলিম আনোয়ারের কবর খুঁজতে গেছিল। কবরস্থানের লোকটা খাতা দেখে বলেছিল, “ওই সালের শ্রাবণের কবর ওই দিকের সারিতে। কিন্তু ভাই, ওই সারি গত বছর নতুন কইরা খোঁড়া হইছে, অহন ওইখানে অন্য মানুষ।”

সেলিম তবু ওই সারির মাথায় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল। কার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, সে জানে না। তারপর ফিরে এসেছিল। এই কথাও জুম্মনের কাছে শোনা। জুম্মন বলেছিল, সেলিম ভাই খালি একটা কথা কইছিল, “নম্বর যেমুন ঘুইরা আসে, কবরও ঘুইরা আসে।”

এই কথার মানে আমরা বুঝি নাই, জুম্মনও বোঝে নাই, তবে কথাটা আমাদের মহল্লায় থেকে গেছে।

শীত যত বাড়ল, হলুদ পাশবইগুলা বের হতে শুরু করল।

প্রথমে আসে আছিয়ার মা। তার বয়স তখন সত্তরের উপরে। সে সাত বছর ধরে প্রতি বুধবার পঞ্চাশ টাকা করে জমা দিয়েছিল। তার পাশবইয়ে শেষ অঙ্কটা ছিল এগারো হাজার পাঁচশো, আর তার নিচে আনোয়ারের সেই টানা সই। এক সন্ধ্যায় সে সেলিমের দরজায় গিয়ে দাঁড়ায়। সেলিম তখন সবে ফিরেছে, গোলাপি ব্যাগটা পেরেকে ঝুলাচ্ছে। আছিয়ার মা পাশবই তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে, “বাজান, বইডা রাখো।”

সেলিম বলে, “চাচি, আমি তো আনোয়ার না।”

“জানি। তুমি হেয় না, জানি। তাও রাখো। কার কাছে রাখুম আর।”

সেলিম বই নেয় নাই সেদিন, কিন্তু আছিয়ার মা বই চৌকির উপর রেখে চলে গেছিল, এবং সেলিম সেটা ফেরতও দেয় নাই। এই খবর মহল্লায় ছড়াতে তিন দিন লাগে, আর তারপর আরো পাশবই আসতে থাকে। কেউ নিজে আসে, কেউ ছেলেকে দিয়ে পাঠায়, কেউ কিছু বলে না, খালি বই দরজার ফাঁক দিয়ে ভিতরে ফেলে দিয়ে যায়। সেলিম কাউকে কিছু কথা দেয় নাই, কারো কাছে কিছু চায়ও নাই, কিন্তু সে কোনো বই ফেরতও দেয় নাই।

জুম্মন একদিন চা দিতে গিয়ে ঘরের ভিতরে উঁকি দিয়েছিল। সে বলে, চৌকির মাথার কাছে হলুদ বইগুলা সাজানো থাকত, ইটের উপর ইট রাখার মতো করে, আর দেয়ালে সে দেখেছিল লেখা।

দেয়ালের লেখার কথা আলাদা করে বলা দরকার। আনোয়ার হোসেনের মোটা খাতা কোনোদিন পাওয়া যায় নাই, কিন্তু তার ঘরের পশ্চিমের দেয়ালে, চুনের উপর পেনসিল দিয়ে, নাম আর অঙ্কের একটা লম্বা হিসাব লেখা ছিল, অর্ধেক মোছা, অর্ধেক পড়া যায়। দর্জিটা এগারো দিনে পালিয়েছিল এই দেয়াল দেখেই, কেউ কেউ বলে। রুস্তম মিয়া দুইবার চুনকাম করাতে চেয়েছিল, মিস্ত্রি ঠিক করেও কী মনে করে করায় নাই। সেলিম সেই দেয়ালের লেখা রাতে ফোনের আলো ধরে ধরে পড়ত। এই কথা সে জুম্মনকে নিজে বলেছিল। এবং মাঘ মাস নাগাদ আমরা খেয়াল করলাম, সে মহল্লার মানুষের নাম জানে, যাদের সঙ্গে তার কোনোদিন কথা হয় নাই।

রহিমের মারে সে সালাম দিয়ে বলে, “চাচি, আপনের হাঁটুর ব্যথা কমছে।”

ইদ্রিস মিস্ত্রিকে বলে, “আপনের ছোট মাইয়াটার বিয়া হইছিল শুনছি।”

এই সব কথা দেয়ালে লেখা ছিল না, এই সব কথা রাতের ফোনে কেউ তাকে বলত। আমরা তখন দ্বিধায় পড়ে গেলাম। নম্বরের ভিতর দিয়ে মহল্লা সেলিমের কাছে ঢুকছে, নাকি সে নম্বরের ভিতর দিয়ে মহল্লার ভিতরে ঢুকছে।

তারপর সে টাকা দেওয়া শুরু করল।

প্রথম টাকা পায় আছিয়ার মা। পাঁচশো টাকার নোট, সেলিম তার হাতে দিয়ে বলেছিল, “আনোয়ারের টেকা, থন।”

আছিয়ার মা নোট নিয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিল। তারপর জিজ্ঞেস করেছিল, “টেকা পাওয়া গেছে?”

সেলিম এর উত্তরে বলেছিল, “অল্প অল্প কইরা আসে।”

এই কথাই সে পরে সবাইকে বলত। কারো হাতে একশো, কারো হাতে দুইশো, মাসে একবার, দুই মাসে একবার, যেদিন যা পারত। সে নিজের হিসাব রাখত সেই একই দেয়ালে, আনোয়ারের হিসাবের নিচে, নিজের পেনসিলে। এবং জুম্মন বলে, দুই হাতের লেখা নাকি দিনে দিনে এমন মিলে যাচ্ছিল যে কোনটা কার বোঝা যেত না।

আমরা হিসাব করে দেখেছি, খাবার ডেলিভারি করে দিনে তার আসত বড়জোর পাঁচশো-ছয়শো টাকা, তার ঘরভাড়া বাইশশো, সে খেত বনরুটি, তার গায়ের জামা দুইটা, এবং তবু প্রতি মাসে মহল্লার বুড়িদের হাতে হাতে দুই-তিন হাজার টাকা চলে যেত। বলতো, “আনোয়ারের টেকা থন, অল্প অল্প কইরা আসে।”

একটা গরিব ডেলিভারির পোলা নিজের কামাই দিয়া মরা মানুষের দেনা শোধ করে, এই কথা বিশ্বাস করার চেয়ে সাত লাখ টাকার কথা বিশ্বাস করা সহজ ছিল। কে প্রথম বলেছিল আমরা আজ আর মনে করতে পারি না, তবে ফাল্গুন মাস নাগাদ করিমুল্লাহবাগের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছিল যে সেলিম টাকা পেয়ে গেছে।

কেউ বলল, মেঝের নিচে, ঘরের সেই কোণায় যেখানে চৌকি থাকে। কেউ বলল, দেয়ালের ভিতরে, আর সেই জন্যই আনোয়ার দেয়ালে হিসাব লিখত, দেয়ালই ছিল তার খাতা, তার সিন্দুক। কেউ বলল, কড়ইগাছের কোটরে, আর সেই জন্যই ছেলেটা প্রথম দিন গাছের দিকে ওই রকম করে তাকিয়ে ছিল।

যত দিন যায়, অঙ্ক তত বাড়ে। সাত লাখ থেকে দশ, দশ থেকে বারো। এবং এক সময় আমাদের মহল্লার লোকদের চোখে সেলিমের প্রতিটা কাজের মানে পাল্টে যেতে থাকে। সে বুড়িদের টাকা দেয়, কারণ পুরাটা মেরে দেওয়ার আগে মুখ বন্ধ রাখা দরকার। সে বনরুটি খায়, কারণ যার ঘরে বারো লাখ, তার সাবধানে থাকা লাগে। সে রাতে ফোনে ফিসফিস করে, কারণ টাকার ভাগ নিয়া কার সঙ্গে যেন তার কথা চলে।

এক রাতে তার ঘরের তালা ভাঙা হল। সেলিম তখন ডেলিভারিতে। ফিরে এসে দেখে, দরজা হাঁ করা, চৌকি উল্টানো, মেঝের দুই জায়গায় খোঁড়া, হলুদ পাশবইগুলা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। সে কাউকে কিছু বলে নাই, থানায় যায় নাই, রুস্তম মিয়াকে পর্যন্ত না। সে সারা রাত ধরে ঘর গোছাল, পাশবইগুলা আবার ইটের মতো সাজাল, মেঝের গর্ত নিজের হাতে মাটি দিয়ে বুজাল, এবং পরদিন ভোরে যথারীতি গোলাপি ব্যাগ পিঠে বের হয়ে গেল।

আমরা যারা সকালে গর্তবোজা মেঝের কথা শুনলাম, তারা কেউ জিজ্ঞেস করলাম না কারা ভাঙছিল, কারণ প্রশ্ন করলে উত্তরের ভাগে আমাদের নিজেদের নামও এসে পড়ে কি না, এই ভয় আমাদের ছিল। এই কথা হাজি মকবুলের কান পর্যন্ত কেমনে গেছিল আমরা জানি না, তবে আমাদের মহল্লা থেকেই গেছিল, এইটা আমরা জানি।

হুমকির কলগুলা তখন থেকেই ঘন ঘন আসে। জুম্মনের ভাষ্যমতে, ফোন করে খালি বলত, “টেকা কই?”

সেলিম বলত, “রং নম্বর।”

ঐপাশ থেকে হাসত, বলত, “নম্বর ঠিকই আছে।”

এক রাতে বলেছিল, “নম্বর ছাইড়া দে, নাইলে আনোয়ারের লগে দেহা হইয়া যাইব।”

এই কথা শোনার পর আমাদের কারো কারো সেই পুরানো খটকা ফিরে আসে। দরজা আসলে ভিতর থেকে বন্ধ ছিল, নাকি খালি চাপানো ছিল? আর কাশেম সেই যে বলেছিল, মরার আগের রাতে রেলগেটে আনোয়ারের পাশে আরো কে যেন দাঁড়িয়ে ছিল, অন্ধকারে চেনা যায় নাই। রুস্তম মিয়াকে সেই রাতের কথা কেউ জিজ্ঞেস করলে সে বলে, “আমি কিছু দেহি নাই।” এবং এমনভাবে বলে যে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা করে না।

চৈত্র মাসে মহিলার ফোনগুলা পাল্টে গেল। টিনের বেড়ার এইপাশ থেকে আমরা টের পেতাম, সেলিমের হুঁগুলা কমে আসছে, চুপগুলা বড় হচ্ছে। তারপর এক রাতে আমরা শুনলাম, সে বলছে, “আইয়েন না।”

থামল। আবার বলল, “না, আইয়েন না।”

আবার অনেকক্ষণ চুপ। তারপর গলা এত নিচু হয়ে গেল যে আর কিছু বোঝা গেল না। খালি শেষে একবার শোনা গেল, “বিষুদবার।”

সেই সপ্তাহের বিষুদবার সকালে সেলিম কাজে গেল না। জুম্মন তাকে টঙে চা খেতে দেখেছিল, অন্য দিনের চেয়ে ধোয়া জামা গায়ে। জুম্মনকে সে বলেছিল, “সদরঘাট যামু।”

জুম্মন জিজ্ঞেস করেছিল, “ডেলিভারি?”

সেলিম বলেছিল, “না।”

আর কিছু বলে নাই। সে গোলাপি ব্যাগ নেয় নাই, এইটা জুম্মন খেয়াল করেছিল। আর ঘরের জানালার ফাঁক দিয়ে পরে সে আরেকটা জিনিস দেখেছিল, চৌকির উপর ফোন পড়ে আছে। যে ফোন ছাড়া সেলিমের এক বেলার কামাই নাই, যে নম্বরের জন্য এত কিছু, সেই ফোন ফেলে সে সদরঘাটের দিকে হেঁটে গেল, কড়ইগাছতলা দিয়ে, যেখানে সে প্রথম দিন দাঁড়িয়ে ছিল, এবং গাছতলায় সে একবারও থামল না।

সে আর ফিরে নাই।

সেই রাতে আর তার পরের রাতে বন্ধ ঘরের ভিতরে ফোন বাজতে শুনেছি আমরা। টিনের দরজার ওইপাশে রিংটোন বাজত, থামত, আবার বাজত, রাত একটা-দুইটা পর্যন্ত। এবং উঠানে দাঁড়িয়ে আমরা কেউ কেউ শুনেছি, কিন্তু দরজায় তালা, আর তালা ভাঙার সাহস অথবা অধিকার আমাদের কারো ছিল না।

কে ফোন করত ওই দুই রাতে, মহিলা, না হাজির লোক, না পাওনাদাররা, আমরা জানি না। তৃতীয় দিন রুস্তম মিয়া তালা ভাঙল। ঘরের ভিতরে সব আগের মতো: পেরেকে গোলাপি ব্যাগ, চৌকির মাথায় হলুদ পাশবইয়ের সারি, দেয়ালে দুই হাতের হিসাব, আর চৌকির উপর ফোন, ততক্ষণে চার্জ শেষ, কালো হয়ে আছে।

রুস্তম মিয়া ফোন নিজের কাছে নিয়ে গেছিল। পরে সে ফোন চার্জ দিয়ে দেখেছিল কি না, দেখলে কী দেখেছিল, কার কার নম্বর, কী কী কথা, সে কোনোদিন বলে নাই। আর তার মুখ দেখে জিজ্ঞেস করার সাহসও কারো হয় নাই।

সেলিমের কী হয়েছিল, এই নিয়ে করিমুল্লাহবাগে তিনটা কথা চালু আছে, এবং তিনটাই আমরা বিশ্বাস করি, একেক দিন একেকটা। কেউ বলে, সেই বিষুদবার সন্ধ্যায় পোস্তগোলার দিকে লাইনের উপর লাশ পাওয়া গেছিল, চেনার উপায় ছিল না, পকেটে ফোন ছিল না, কাগজ ছিল না। আর যার পকেটে ফোন নাই, তার নাম নাই। লাশটা বেওয়ারিশ গেছে, আঞ্জুমানের গাড়িতে করে, কোন কবরস্থানে কে জানে।

কেউ বলে, তাকে দেখা গেছিল সদরঘাটে, চাঁদপুরের লঞ্চের ডেকে, পাশে সবুজ পাড়ের শাড়ি পরা একটা মানুষ, বয়স বোঝা যায় নাই। লঞ্চ ছেড়ে দিছিল।

আর কাশেম, সিগারেটের দোকানের সেই কাশেম, সে বলে, সেই রাত এগারোটায় রেলগেটের কাছে একটা সাদা হায়েস দাঁড়িয়ে ছিল। ভিতরে কারা ছিল দেখা যায় নাই, আর গেট পড়ার একটু আগে গাড়িটা চলে যায়। কাশেমের কথা আমরা এইবারও একবারই শুনেছি, তারপর সে আর বলে নাই।

থানা পর্যন্ত ব্যাপারটা যায় নাই। কে নিয়ে যাবে, সেলিমের ওয়ারিশ বলতে করিমুল্লাহবাগে কেউ ছিল না, আর করিমুল্লাহবাগ নিজে কারো ওয়ারিশ হয় না। ঘরে রুস্তম মিয়া আবার তালা দিল। হলুদ পাশবইগুলা সে কাউকে ফেরত দেয় নাই, সেগুলা ঘরের ভিতরেই থেকে গেছিল।

পরের বর্ষায়, জুরাইনের রাস্তায় যখন বুকপানি, আর রুস্তম মিয়ার উঠান দিয়ে যখন ড্রেনের পানি ঘরে ঢুকল, তার কিছুদিন পরে আমরা গলির কাদায় দুই-একটা হলুদ মলাট ভাসতে দেখেছিলাম। ফুলে ঢোল হয়ে গেছে, লেখা ধুয়ে হয়েছে সাদা। আছিয়ার মা একটা মলাট কাদা থেকে তুলে নিয়ে গেছিল, ধুয়ে তার টিনের চালে শুকাতে দিয়েছিল। কার বই সে জানে না, অঙ্ক নাই, সই নাই, তবু।

মহিলাটা আর কোনোদিন ফোন করেছিল কি না, এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো ফোন আর করিমুল্লাহবাগে ছিল না।

তারপর মাসের পর মাস গেল। নম্বর বন্ধ পড়ে রইল, যেমন আনোয়ারের মৃত্যুর পর পড়ে ছিল। পরের বছর মাঘ মাসের এক রাতে জুম্মন, যার বয়স ততদিনে পনেরো, যে এখনো নম্বরটা মুখস্থ বলতে পারে, সে টঙ বন্ধ করে একা বসে নম্বরটায় ডায়াল করল।

এতদিন ডায়াল করলে যান্ত্রিক গলা বলত, “সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

সেই রাতে রিং হল। জুম্মনের বুকের ভিতর লাফ দিয়ে উঠেছিল। সে আমাদের বলেছে, “রিং হচ্ছে, দুইবার, তিনবার।”

তারপর ওইপাশে একটা লোক ধরল, ঘুমজড়ানো বিরক্ত গলায়, “কেডা?”

জুম্মন বলল, “সেলিম ভাই?”

লোকটা বলল, “রং নম্বর।”

কেটে গেল।

জুম্মন আর ফোন করে নাই, কিন্তু নম্বরটা সে ফোন থেকে মুছেও নাই। সেভ করা আছে, কোনো নাম ছাড়া, খালি এগারোটা অঙ্ক। এবং শহরের কোথাও কেউ এখন সেই অঙ্কগুলা পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, ভাত খায়, ঘুমায়, এবং জানে না।

মোবারকের টঙের বাঁশের খুঁটিতে নম্বরটা এখনো লেখা আছে। সেলিম নিজের হাতে মার্কার দিয়ে লিখেছিল। উপরে লেখা, “ডেলিভারি লাগলে”; নিচে নম্বর। রোদে-বৃষ্টিতে কালি উঠে যাচ্ছে, প্রথম দিকের অঙ্কগুলা আর পড়া যায় না, শেষের তিনটা এখনো যায়: চার তিন শূন্য।

মহল্লায় নতুন ভাড়াটিয়া এলে কেউ কেউ জিজ্ঞেস করে, “এইটা কার নম্বর?”

আমরা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলি, “কারো না।”
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:১৯
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের বিরুদ্ধে মরণোত্তর মামলা করা হোক।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

আ ন ম সিরাজুর রহমান (১৯৩৪ – ১ জুন ২০১৫) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর বিবিসি বাংলা বিভাগে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করেছিলেন.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন, তা নিয়ে অনেক অপরাজনীতি হয়েছে। সরকার এই অপরাজনীতি খুব সহজে বন্ধ করতে পারেন। যদি ১৯৭১-এ নিহতদের একটি ডাটাবেইজ তৈরী করা যায় তাহলেই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ অপ্রত্যাশিত উপহার

লিখেছেন সামিয়া, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪০




সৌদি আরবের রিয়াদের একটা পাঁচ তারকা হোটেলে আমার চাকরি। চাকরিটা খুব কঠিন কিছু না। প্রতিদিন একটা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার হাতে নিয়ে হোটেলের কার্পেট পরিষ্কার করি। লবি, করিডোর, হলরুম, অতিথিদের বসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরিয়ম খাতুন জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৮



মরিয়ম খাতুন। মাত্র ১৯ বছরের একটি মেয়ে। ৭৫ বছরের বুইড়া পাঁঠা গাজী নজরুলের লালসার শিকার হয়ে জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে। শুধুমাত্র একটি ছোটখাটো চাকুরী সুপারিশের জন্য গিয়েছিল। তখনই ১৯... ...বাকিটুকু পড়ুন

×