রোজ সন্ধ্যায় রানওয়ের পাশের উঁচু রাস্তাটায় আমি হাটতে যাই। হাটতে-হাটতে রাস্তার শেষ মাথায় যাই আবার ফিরে আসে। এভাবে দুই রাউন্ড। কখনো হাটতে হাটতে ফোনে কথা বলি কখনো বা নিজের সাথেই কথা বলি। পকেটে হেডফোন আর একটা করে চকলেট নিয়ে বের হই। মাঝে মাঝে হাটতে হাটতে গানশুনি আর চকলেট চুষি। চকলেটগুলো আমার ভাতিজি আমাকে দেয়। এভাবেই কাটে রোজ সন্ধ্যা।
রানওয়েতে রোজ সন্ধ্যায় একটা ছেলেকে দেখতাম। বয়সে আমার মতোই হবে। থ্রিকোয়াটার আর গেন্জি পরে আসতো। ফোনে কথা বলতো আর হাটতো। আমার চোখে চোখ পড়লে হলে একটু হাসতো। আমরা কেউই কারো পরিচিত না। রোজ সন্ধ্যায় শুধু শহরের তিনশ তেতাল্লীশ গলী পেরিয়ে এই রাস্তাটায় আমাদের দেখা হতো। ওর সাথে আমার কথা হয়নি কখনো। কথা বলার সুযোগও হতো না, ও সবসময়ই ফোনে কথা বলতো। কথা বলতে বলতে আবার কোথায় উদাও হয়ে যেতো।
দুইদিন আগে ছেলেটাকে দেখলাম রানওয়ের রাস্তায় মাথা নিচু করে হাটছে। ওর কানে ফোন নেই। ফোনটা পকেটে। আমি পেছন থেকে কাঁদে হাত রাখলাম। হঠাৎ কেঁপে উঠলো। কেঁপে উঠে তাকালো। ওর চোখ দেখেই আমি বুঝেছি। কিছু বললাম না। আজ ওর কথা বলার মূড নেই। ছেলেটা আবার মাথা নিছু করে হাটতে লাগলো। হয়তো সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে অথবা ঝুলে আছে। আচ্ছা ছেলেটা যে মেয়ের সাথে কথা বলতো সেই মেয়ে কি করছে? হয়তো বারান্দায় বসে কাঁদছে। হয়তো নতুন কারো সাথে কথা বলছে, দেখা করছে, বেলি রোডের নীল ফাস্টফুডে বসে গল্প করছে… না, ভাববো না এসব! আমার এসব ভাবতে ভাল্লাগে না আমার!
গতকাল সন্ধ্যায় যথারিতি রানওয়ের রাস্তায় গেলাম। আমি একাই দুই রাউন্ড হাটলাম। সে ছেলেটা আসে নাই… আর হয়তো আসবেও না!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


