somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের ছোট্ট স্মৃতির স্মৃতি কথা.........

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের বাসার পাশে পল্লী বিদুৎ অফিস ছিল। সেখানে যতগুলো পরিবার এসেছে সবার সাথেই আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। একটা ভাইয়া ভাবি ছিলো যাদের ফুটফুটে একটা মেয়ে ছিলো। মেয়েটার বয়স ছিলো ২-৩ বছর্ দেখতে খুবই সুন্দর ও গোল্লা-গাল্লা ছিলো। আমাদের, বাসায় বেশী থাকা হতো না কারণ আমাদের বাইরে পড়াশোর জন্য থাকতে হতো। তো ঐ পিচিচটা সব সময় আমার মার কাছে গিয়ে বসে থাকতো। ওর আম্মু প্রায়ই ওকে জোর করে নিয়ে যেতো। যখন পারতো না, তখন আমাদের বাসায়ই সে গোসল ও খাওয়া সারতো এমনকি ঘুমিয়েও যেতো, আমার মাও একা থাকতো বলে তার একটা সাথী হলো, মা ওকে খুবই আদর করতো।ওদের বাসাটা ছিলো আমাদের বাসার পেছনের দিকে। একদিন ওকে এক রকম জোর করেই ওর আম্মু ওকে নিয়ে গেলো, গোসল করালো তারপর তাকে বসিয়ে তিনিও গোসল করতে গেলেন, এসে দেখেন স্মৃতি নাই, হ্যাঁ স্মৃতি হচেছ ঐ মেয়েটার নাম। তিনি ভাবলেন আমাদের বাসায় এসেছে। তো তিনি নামাজ শেষ করে আমাদের বাসায় এসে স্মৃতির খুঁজ করছেন, মা তখন নামাজ পড়ছিলেন , শেষ করে বললেন কি হয়েছে ? ভাবি বললেন স্মৃতিকে তো পাচিছ না! ভাবলাম আপনাদের বাসায় এসেছে, মা বললেন চলোতো দেখি পাকনা বুড়িটা কোথায় গেলো, আশে পাশে সব জায়গায় খুঁজাখুঁজির পর ও পাওয়া গেলোনা। থানায় খবর দেয়া হলো, ওর আম্মু একটু পরপর জ্ঞান হারাচেছ। বিকেলের দিকে সবাই মিলে আমাদের বাসার পেছনের পচাঁ পুকুরটাতে খুজতে লাগলো কিন্তু পাওয়া গেল না , হঠাৎ আমার মা একটা চিৎকার দিয়ে পুকুরে নেমে গেলেন , দেখলেন যে পচাঁ পুকুরের এক কোনে স্মৃতির লাশ ভাসছে। তাড়াতাড়ি উঠিয়ে মাটিতে শুইয়ে মা ওর পেটে চাপ দিচিছলেন , মা বললেন ও বেঁচে আছে একটু নরেছে, সবাই তারাতারি করে হসপিটালে নিয়ে গেলো, কিন্তু ততখনে ,সে শেষ। আমার মা প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন, খবরটা শোনে আমরাও খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম , অনেক দিন পর্যন্ত আমরাও স্মৃতির স্মৃতি ভুলতে পারিনি, কিন্ত মা বেশি কষ্ট পেয়েছেন ,তিনি ওকে খুব আদর করতেন ও ভালোবাসতেন, তিনি বারবার বলতেন এই ছোট্ট শিশুটা কি পাপ করে ছিলো যে আল্লাহ তাকে নিয়ে গেলেন ? স্মৃতির আব্বু ও আম্মু কিছুদিন পর এখান থেকে বদলি হয়ে অন্য জায়গায় চলে গেলেন , আর মাকে আমারা নিয়ে আসলাম নানা বাড়ি। আসলে মা স্মৃতির এই আকস্মিক মৃতু্টা মেনে নিতে পার ছিলেন না। ওরা চলে যাবার ২-৩ বছর পর খবর পেলাম ভাবির আর একটা ফুটফুটে কন্যা সন্তান হয়েছে। ওরা ভালই আছে। এই পল্লী বিদু্তে কতো পরিবার আসে যায়, সবাই স্মৃরি মতো স্মৃতি হয়েই রয়ে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৪:২৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×