somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

" স্বপ্ন রইলো শুধুই স্বপ্ন। "

২৭ শে আগস্ট, ২০১৪ সকাল ১০:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


______________________

চায়ের স্টল থেকে চা খেয়ে বের হলো আসিফ।

ফোনের রিংটোন বেজে উঠলো।

ফোনে কথা বলতে বলতে হঠাৎ করে হাত থেকে ফোন পরে গিয়ে চেহারা ম্লান হয়ে এলো।

রক্তের মত লাল চোখে পানি ছলছল করছে,শুধু গাল বেয়ে গড়িয়ে পরার অপেক্ষা।





এ কি শুনলো আসিফ!!!!



কিছুদিন আগেও যে লাবণ্য সারাদিন আসিফের থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে সন্ধ্যার পর বাহিরে না থাকা,মেয়েদের সাথে কথা না বলা,ফেসবুকে একটিভ থাকার সময়কাল সহ সবরকম খুনসুটিতে নজরদারি করতো,সেই লাবণ্যর এনগেজমেন্ট এর খবর কিভাবে হজম করবে আসিফ!!!!



যে লাবণ্য আসিফকে বলত-“ অনেক ভালবাসি তোমাকে আসিফ। তোমার চেয়ে আমি বেশি ভালবাসি, তোমাকে ছেড়ে কখনও থাকতে পারবনা। ” ্‌ ,সেই লাবণ্য আজ অন্য কারো বাগদত্তা-কিভাবে মানবে আসিফ!!



আসিফ এখন কি করবে কিছুই বুঝতে পারছিলো না।

ফোন হাতে তুলে খবরটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আসিফ ও লাবণ্যর সম্পর্ক জানে

এমন একজন লাবণ্যর বান্ধবিকে রিং দিল সে. . . . . . . . . . .

কাপা কাপা স্বরে আসিফ বললঃ-

“হ্যাএএলো দিইইশা. . . . . লাআবণ্যর কি. . . . .”

দিশা বুঝতে পেরে আসিফের কথা শেষ না হতেই বলল-

“জী ভাইয়া, এক সপ্তাহ হল লাবণ্যর এনগেজমেন্ট হয়েছে, পরশু হলুদ সন্ধ্যা তারপরের দিন বিয়ে।“

কথাগুলো শুনে যেন আসিফের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল।

চারদিকে কেমন যেন সব ঝাপসা লাগছিল।



অনেক ভালবাসে সে লাবণ্যকে।গত ১৫ দিন যাবৎ লাবণ্যর সাথে কথা হয়না।এই জন্য অবশ্য বিন্দুমাত্র ও টেনশন হচ্ছিল না আসিফের। কারণ, ২ বছরের সম্পর্কে অগণিত বার ব্রেক আপ হয়েছে তাদের। কিছুদিন যেতেই আবার সব ঠিক।

এমন ই চলছিল।বারবার আসিফ ভুল করত,আর লাবণ্য কাঁদতে কাঁদতে “ সব শেষ।আর কখনও কথা বলবনা তোমার সাথে “ এই বলে ব্রেকাআপ করে, লাবণ্য ফোন বন্ধ করে,ফেসবুক আইডি ডিএকটিভেট করত।

প্রথম প্রথম আসিফ লাবণ্য কে আটকানোর চেষ্টা করলেও,তারপর থেকে লাবণ্যর দুর্বলতা -আসিফকে অকৃত্রিম ভালবাসা এটা জেনে নিশ্চিত থাকতো যে,লাবণ্য ফিরবেই।



আর তাই হতো। ব্রেকাআপের পর লাবণ্য নিজেই ফোন করে অভিমানের স্বরে আসিফ কে বলত- “ বেশি ভাব নিও না।একটুও ভালবাসনা আমাকে।কথা বন্ধ করে থাকো!!যেদিন অন্য কারও হয়ে যাব,সেদিন বুঝবে। চাইলেও আর কখনো কথা বলতে পারবে না। “

আসিফ শুধু বলতো- “ এমন বলে না লক্ষ্মী!সেদিন যেন কখনও না আসে।তুমি শুধু আমার। “



সেদিন যে চলে এসেছে, কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছে না আসিফ।



প্রত্যেকবারের চেয়ে শেষবারের ব্রেকআপ টা ছিল একটু অন্যরকম। এক নিঃশ্বাসে অনেক কথা বলা মেয়েটা নিশ্চুপতার মাধ্যমে কিছু একটা তো লুকাচ্ছিল। আসিফের অনেক জিজ্ঞাসা করা সত্তেও কিছু বলেনি লাবণ্য।বরাবরের মতো এবারও বলেছিল-“ আর কখনও কথা বলবনা তোমার সাথে,সব শেষ “



ব্রেকআপের পর এই প্রথম আজ লাবণ্য কে ফোন দিচ্ছে আসিফ- - -

ফোনের ওপাশ থেকে একটি মেয়ের কণ্ঠ-

কণ্ঠটি লাবণ্যর না। ওপাশ থেকে বলছে-

“দুঃখীত।এই মুহুরতে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনুগ্রহ পূর্বক একটু পরে আবার ডায়াল করুন . . . . . .”



লাবণ্য ও আসিফ এর রিলেশন এর শুরুর দিকে আসিফ লাবণ্য কে ভালবাসার কথা জানালে প্রথম প্রথম মানা করতো লাবণ্য।তারপর আসিফের কথাবার্তা ও আচরনে আসিফ কে যত্নশীল, ভালবুঝ ও সহনশীল ভেবে ভালবাসতে শুরু করে সে। কোন স্বার্থ

ছিল না সে ভালবাসায়।

কিন্তু এই ভাবা যে একসময় ভুল প্রমাণ হবে,কখনও ভাবেনি লাবণ্য। দিন দিন আসিফ লাবণ্যর প্রতি অনেক কেয়ারলেস হয়ে যায়।আগের মতো সময় ও দেয় না বরং অন্যদের বেশি গুরত্ব দিতে গিয়ে কখনও কখনও লাবণ্যকে ইগনোর করতে শুরু করে।

লাবণ্য এতে কষ্ট পেলেও বারবার চেষ্টা করতো অগোছালো আসিফকে গোছাতে ও বোঝাতে কিন্তু আসিফ যতটা বেপরোয়া আর একটু বেশি পরিমানে আত্মবিশ্বাসি ছিল লাবণ্য কে নিয়ে,এমন দিন দেখা অস্বাভাবিক কিছু না।



সব কথা গুলো মনে করে নিশ্চুপ বসে থাকে আসিফ।



ওদিকে লাবণ্য’র বাসায় জোরেশোরে বিয়ের প্রস্তুতি চলছে।দুর-দুরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজন আসতে শুরু করেছে।

লাবণ্য ও সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলছে,চুল আঁচড়াচ্ছে,সাজগোজ করছে।গায়ে হলুদে কোন শাড়ি,বিয়েতে কোন লেহেঙ্গা, কোনদিন কোন গহনায় সাজাবে নিজেকে এসব নির্বাচনে সে যেন মহা ব্যাস্ত!সবার চোখে লাবণ্য আজ অনেক সুখী।



কিন্তু দরজা বন্ধ করে লাবণ্য’র চোখের জলে বালিশ ভেজানোর খবর লাবণ্য ছাড়া সকলের অজানা।



যার কথা ভাবতে ভাবতে লাবণ্য’র দিন-রাত অতিবাহিত হতো,যাকে নিয়ে লাবণ্য সব সপ্ন সাজাত. . .তাকে ছেড়ে বাস্তবে আজ অন্য কারও সাথে ঘরসংসার সাজাতে হবে তাকে।



চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিলনা লাবণ্যর।কিন্তু আসিফ সময় থাকতে না বুঝে মরীচিকার পিছে ছুটে,বেপরওয়া হয়ে সত্যিকারের ভালবাসা পেয়েও হারিয়ে আজ নিঃস্ব।



প্রতিটি মেয়েই চায় জীবনসঙ্গী হিসেবে নিরাপধ কাঁধ।
ইন্সিকিউর কারও সাথে ভবিষ্যৎ কল্পনা করা যখন ভয়ানক,
ভালবাসা বিসর্জন দেওয়া ছাড়া তখন আর কোন উপায় থাকে না।
আসিফ এর মতো যারা বেপরোয়া হয়ে একদিন ভালবাসা হারিয়ে ফেলে,তখন হয় তারা “ সব ছলনা ছিল “ বলে পাল্টা দোষারোপ করে নতুবা শুধু অনুশোচনায় ভোগে।
অপরদিকে লাবণ্যর মতো অন্যান্য মেয়েরা পাথার চাপা কষ্ট নিয়ে পাড়ি দেয় জীবনের তরী।

_রিমঝিম পিহু ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট টেলিফোন কম্পানি হলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



গত ব্লগে টেলিফোন নিয়ে বলেছিলাম। মোবাইল থেকে টেলিফোনে কল দেওয়া বা রিসিভ করা যেতো না। শুধু টিএনটি একটিভ করা সিমে টেলিফোনে কল করা যেতো। বা টেলিফোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×