বর্তমানে চলমান রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতি আমার সামান্যতমও দ্বিমত নেই তবে প্রশ্ন হলো যে মহান লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই সংস্কার তা কী আদৌ কোনদিন বাস্তবায়িত হবে? ‘মহান লক্ষ্য’ শব্দটার প্রতিও আমার কিছুটা সন্দেহ আছে সে প্রসংগ আজ থাক। সংস্কারের লক্ষ্য যে আদৌ বাস্তবায়িত হবে না এ বিষয়ে আমি একশ ভাগ নিশ্চিত।
আপাতত ধারনা করা হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার সাধিত হলেই দেশে কিছুটা হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আমিও বিশ্বাস করা পরিবর্তন একটা হবে তবে এর পরিমানটা কতটুকু আর তা দিয়ে জাতিই বা কতটুকু উপকৃত হবে?
গত দুদিনের পত্রিকায় একটা ভয়াবহ খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দেড় শতাধিক ভূয়া ছাত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এর একটি অংশের ছাত্রত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিমধ্যে বাতিলও করেছেন। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতির কথা বাদ দিলেও এটি যে দেশের সর্ববৃহত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে তো কারও দ্বিমত নেই। এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতো কোন রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রীরা চালান না। তাহলে এখানে কেন এমন একটি ভয়াবহ দূর্নীতি সংঘটিত হবে আর তা দিনের পর দিন চলতেই থাকবে। ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে তো দু একজন জড়িত থাকেন না, তবে কী ধরে নেয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোটা প্রশাসন যন্ত্রটিই পচে গেছে। যদি আমার এই অনুমান সত্যি হয় অবস্থা তো তাহলে আরও ভয়াবহ। কেননা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তো এ জাতির মাথা। আমাদের এই জাতি আজ পর্যন্ত যতগুলো ভাল কাজ করেছে প্রতিটি কাজের নেতৃত্ব, পরিকল্পনা এসেছে এই প্রতিষ্ঠানটি থেকেই। তবে কী জাতির মাথায় পচন ধরে গেছে। তাহলে আর রাজনৈতিক দলের সংস্কার করে লাভ কী? রাজনৈতিক দল তো জাতির অংগমাত্র।
মাথায় পচন ধরলে পা কেটে ফেললে কী রোগী বাচে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


