somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এল আঁধার ঘিরে (শেষাংশ)

০৯ ই মে, ২০২২ রাত ১০:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আগের পর্বের লিঙ্ক: Click This Link
সপ্তাহে সাত দিন। প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা করে। আর যাওয়া আসা এক ঘণ্টা। একমাস চলল অমানুষিক পরিশ্রম। এবার পারিশ্রমিকের অপেক্ষা।

তূর্য কোচিংয়ে ক্লাস করাচ্ছিল। পরিচালক মহাশয় সাড়ে তিন হাজার টাকা তূর্য’র হাতে গুঁজে দিলেন। বললেন, বাকিটা পরে দেবেন।

কথায় বলে ‘কম শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর’। তূর্য’র পাথর হওয়ার দশা। কোনো কথা বেরোচ্ছে না মুখ থেকে। সামনে ইদ। পকেটে নেই কানাকড়ি। ধার-দেনায় জর্জরিত। এই অবস্থায় সাড়ে সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে কী করবে সে? একটা মেসে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সেখানে থাকা-খাওয়া বাবদই পাঁচ হাজারের ওপর যায়। হাত খরচ বা অসুখ-বিসুখ বা অন্যান্য খরচ বাবদ কমপক্ষে হাজার তিন যায়।

ছোটন স্যারের কাছ থেকে হাজার পাঁচেক টাকা ধার নেওয়া। ইদের আগে শোধ দেওয়ার কথা। ওনি নিজেও ধার করে টাকাটা তূর্যকে দিয়েছেন। বান্ধবী রনিয়ার কাছ থেকে হাজার দুই ধার নেওয়া। তাকেও টাকাটা ফেরত দেওয়া প্রয়োজন। এখন এসব টাকা সে ফেরত দেবে কীভাবে? বাড়ির জন্যও তো কিছু কেনাকাটা প্রয়োজন।

ঘরের ভেতর পায়চারি করছে তূর্য। প্রেশার লো হয়ে গেছে। টেনশন বাড়লে মাঝেমধ্যে এমন হয় তার। ‘প্রাণ’ এ সপ্তাহখানেক চাকরি করার স্মৃতিটা মনে পড়ল।

মালিবাগ থেকে টানা সাত দিন রামপুরায় গিয়েছে। প্রতিদিন ডিউটি ছিল নয় ঘণ্টা। যাওয়া আসা বাবদ বা অতিরিক্ত সময় ব্যয় করাসহ সময় গিয়েছে মোট দশ ঘণ্টার ওপর। সাত দিন ডিউটি করার পর চাকরিটা ছেড়ে দেয় সে। শরীর কুলায়নি। আবার বেতনও ছিল মাত্র দশ হাজার। সাত দিন ডিউটি করায় কানাকড়িও পায়নি সে। পণ্ডশ্রম গেছে।

তূর্য ভাবে এই সাত দিনে সত্তর ঘণ্টা অহেতুক ডিউটি না করে ঘুমালেও উপকার হতো। আবার মনকে প্রবোধ দেয় এই বলে যে, টিকে থাকার চেষ্টা তো কম করল না।

বাড়ি থেকে ফোন আসে; জিগ্যেস করে, “কবে বাড়ি আসবি?” তূর্য সিদ্ধান্ত নেয় বাড়ি যাবে না। শুধু শুধু খরচ। ইদের সময় ভাড়াও তো বেশি। কিন্তু যাওয়া ছাড়া উপায় যে নেই। একা একা ঢাকায় থেকেই বা কী করবে?

ট্রেনে যাওয়ার বন্দোবস্ত হলে ভালো হয়। কম পয়সায় যাওয়া যাবে। কিন্তু সমস্যা হলো, ট্রেনের টিকিট শেষ। অগত্যা বাসে যাওয়াই স্থির করল।

শেষ ভরসা ছিল টিউশন তিনটে। টিউশন ভাগ্য বরাবরই খুব খারাপ তূর্য’র। কোনো সময়ই সব টিউশন থেকে টাকা পায় না। ঢাকায় এসেছে ছয় মাস। আগে এলাকায় থেকে টিউশন করত। এখনও অনেকের কাছে টাকা পাওনা। তূর্য টাকা চাইতে পারেনি, টাকাও উদ্ধার হয় নি। চাইলেও পেত কি না কে জানে। একবার এলাকায় যাওয়ার পর ছেলেমেয়েরা তাকে কিছু উপহার দিল। খুশি হওয়ার কথা, অথচ খুশি হওয়ার সুযোগ কই? তার পাওনা টাকা থেকেই তো উপহার।

যাহোক, ইদের সময় ঘনিয়ে আসে। কবে টিউশনির টাকা হাতে আসবে, সে আশায় বসে আছে তূর্য। ইদ তিন তারিখ। হাতে সময় মাত্র দুই দিন।

ইংলিশ ভার্সনের স্টুডেন্টের বাসা থেকে পেল চার হাজার টাকা। সাথে শার্ট এবং প্যান্টের পিস উপহার। মনটা ভরে গেল তূর্য’র। সপ্তাহে পাঁচ দিন করে পড়াতে হয়। রাতের খাবারটাও দেওয়া হয়। মোটামুটি পুষিয়ে যায়। মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীকে পড়িয়ে পেল হাজারখানেক। বেশিদিন হয়নি অবশ্য। পনেরো দিন পড়িয়েছে। সপ্তাহে তিন দিন। আর
মুগদার টিউশনি থেকে এলো চার হাজার। সপ্তাহে চার দিন পড়াতে হয় এখানে।

১ তারিখ সকালে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেয় তূর্য। সেখানে তার বৃদ্ধ মা-বাবা তার অপেক্ষায় বসে আছে। চিরচেনা গাঁয়ে ফিরে গিয়ে মাটির সোঁদা গন্ধ নিতে মন আনচান করছে তার।


২৬ বৈশাখ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
মালিবাগ, ঢাকা।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:৫৬
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×