অন্যদিকে ইতিহাসে পশ্চিমা সাংস্কৃতিক বর্ণবাদ সক্রিয় ও উজ্জীবিত থাকার পেছনে অনেক কারণ ক্রিয়াশীল রয়েছে। যেমন, অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রাগ্রসরতা, মিডিয়ার কল্যাণে বহুল প্রচারিত মিথ্যা প্রতিপাদ্যের প্রতি পশ্চিমা পন্ডিতদের সংঘবদ্ধ সম্মতি, নৈতিক তথা ধর্মীয় মূল্যবোধের অনুপস্থিতি। আবার ঠিক এ জায়গাটাতে এসে বস্তুবাদীরা দাবি করে বসেছেন, ধর্মটাই পশ্চাতপদতার মূল কারণ। অথচ মূল ব্যাপার হচ্ছে ইউরোপে ধর্মও শেষ, কমিউনিজমও খতম। এ ইস্যুতে পুঁজিবাদীরা বেশ সতর্ক। তারা বেশ সতর্কতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্দীপনার সঙ্গে ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে বলছে, আসলে যুগটা সায়েন্টিফিক টেকনিকাল রেভুলেশনের। আর কারণে শ্রমিকরা অধিকহারে ছদ্ম বেকারত্বে ভুগছে। আর শ্রমিক শ্রেণী যত বেশি ছদ্ম বেকারত্বে ভুগবে, ক্লাশওয়ারের থিউরি ততবেশি অকেজো হবে। আর ক্লাশওয়ারের থিউরিতে চিড় ধরলে সমাজতন্ত্রের দার্শনিক ভিত্তি আর হালে পানি পায় না। সোজা কথায়, পুঁজিবাদীদের যুক্তি হচ্ছে, যুগধর্মের কারণে বিশ্বে এখন শ্রেণী চেতনার চেয়ে গোষ্ঠী আনুগত্যটাই প্রবল হয়ে উঠছে। আর গোষ্ঠী আনুগত্য প্রবল যদি হয়েই থাকে, তাহলে ধর্ম থেকেই যাবে। আর থাকলেও অনুসারীর ব্যক্তিগত দুর্বলতাকে ধর্মের অন্তর্নিহিত দুর্বলতা ভাবার সুযোগ তখনও থাকবে না। কারণ ব্যক্তির অপকর্মের দায়-দায়িত্ব যে ধর্মের উপর চাপানো যায় না. তা জেনেভা প্রোটোকলেই স্বীকৃত।
আসল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। পশ্চিমাবিশ্ব কেন্দ্রিক ইতিহাস রচনা ও তা বিশ্বব্যাপী প্রচারের ঐতিহাসিক প্রকল্পগুলো উৎপাদিত ও পুনরুৎপাদিত হবার প্রেক্ষাপটে শুধু ইউরোপিয়ান উৎকর্ষ চেতনাটি শাণিত হচ্ছে না, এককালের ঔপনিবেশিক দেশগুলোর জনগণও বিশ্বায়নের কল্যাণে পশ্চিমা তত্ত্বে সম্মোহিত হয়ে নিজেরাই এসব পশ্চিমা প্রকল্পের ধারক ও বাহকে পরিণত হচ্ছে। অথচ প্রাচ্যবাসী এখনো বুঝতে শেখেনি পশ্চিমা বিশ্বের হালের পরিমিত বর্ণবাদ অতীতের মূল বর্ণবাদ থেকেও অনেক বেশি বর্ণ ভয়ঙ্কর প্রমাণিত হতে পারে। কারণ পরিমিত বর্ণবাদে পশ্চিমা অভিপ্রায়গুলোর ইঙ্গিত থাকে প্রচ্ছন্ন। আর এ কারণেই তা প্রাচ্যবাসীর বেশির ভাগ শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মন-মানসিকতায় প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে না। অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসরতার কারণে প্রতিবাদের জোরালো নৈতিক ভিত্তিও তারা খুঁজে পায় না। বরং এসব অভিপ্রায়কে অবচেতন মনে গ্রহণযোগ্য ও আদর্শ ভেবে নিয়ে তৃপ্তি পায়। তাই ধর্মনিরপেক্ষতাকে আমি কেন আইওয়াশ বলেছি, তা অনুধাবন করতে না পেরে সত্যিকারের হরিদাস পালেরা হাউকাউ বাঁধাতে চেয়েছে, যা আমার কাছে চৌরাস্তার আহত উত্তেজনা ছাড়া কিছুই নয়। (চলবে)
ইতহািসরে চরন্তিন পশ্চমি ও নতলঙ্গি আমরা-৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
২৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
এখন শুধু জায়গামত চাপ দিলেই কাজ হবে ?

অনলাইনে বরিশালের একটা ভাইরাল ভিডিও দেখলাম। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একদল মানুষ একজন বয়স্ক মানুষের অন্ডকোষে চাপ দিয়ে জোর করে স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নিচ্ছে আর টাকা দাবি করছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
অবশেষে ব্রাজিলের বিদায় ঘন্টা বাজিলো :D


অবশেষে ব্রাজিলের বিদায় ঘন্টা বাজিলো এবং নেইমার হলুদ কার্ড খাইলো। :D
ব্রাজিলের এই পরাজয়ের পিছনে অবশ্য আমার কোন দোষ নেই, আমি শুধু বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা করে বলেছিলাম ব্রাজিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
শত্রুর শত্রু
উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন
কিচ্ছু চাইনি আমি আজীবন, ভালোবাসা ছাড়া

আমি ভাই টাকা চাই।
টাকা হলে সম্মান আর ভালোবাসা অটোমেটিক চলে আসবে। হ্যা এটাই বাস্তবতা। বর্তমান যুগটা অন্য রকম। যার টাকা নাই, তার কোনো মূল্য নাই। সম্মান নাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন
রুবা

বিয়ের মঞ্চে বসে আছি। মঞ্চ বলতে চকির মতো একটা খাট, তার সম্ভাবত এক পা ছোট বা নাই, কারন সামান্য নাড়াচাড়ায় খাটা টালমাটাল হয়ে একদিকে কাত হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।