দুনর্ীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তির হুমকি দিতে আমাদের সরকার প্রধানরা ভুল করেন না। কিন্তু এটা বলেন না, 'দুনর্ীতিবাজ রাজনীতিবিদরাও শাস্তি পাবেন'। ভাবখানা যেন এই, 'রাজনীতিবিদরা তো দেশের সেবা করতে করতে হয়রান হয়ে যান, তাদের দুনর্ীতির সুযোগ কোথায়?' প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক নেতাদের দুনর্ীতি করতে দেখেই নির্দিষ্ট শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তারাও দুনর্ীতিতে আগ্রহী হয়ে উঠেন। অবসরে যাবার পর এ সরকারি কর্মকর্তাদের কেউ কেউ আবার রাজনীতিতে নাম লেখান। কারণ তারা দুনর্ীতিতে স্থায়ীভাবে জড়াতে চান। প্রশাসনের কিছু ক্ষেত্রে যিনি যত বড় দুনর্ীতিবাজ , তাকেই পরবতর্ী সরকার আরও কাছে টানেন। ডিসি আকবররা সাংবাদিক পিটিয়ে আজ পরিস্থিতির কারণে বেকায়দায় পড়ে গেছেন। সাংবাদিক না হয়ে অন্য কেউ হলে এতোক্ষণে তার প্রমোশন ছিল নিশ্চিত। কারণ রাজনীতিবিদরা ভালো করেই বোঝেন, এ জাতীয় কর্তাদের মাধ্যমে বিশেষ বিশেষ এসাইনমেন্ট কাভার দেয়া সম্ভব। এদের কদর কখনই কমে না। চাকরি নেই, ব্যবসা নেই।
মন্ত্রিত্ব শেষ হয়েছে পনের বছর আগে। তারপরও জৌলুস একটুও কমেনি, এমন মন্ত্রীর সংখ্যা বাংলাদেশে কম না। দুনর্ীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা দিয়েই এরা সারা জীবন রাজার হালে থাকেন। সমপ্রতি আওয়ামী লীগ সংস্কার প্রস্তাব মেনে নেয়ার জন্য তুমুল আন্দোলন শুরু করেছে।তেমনিভাবে সরকারও যে সংস্কার প্রস্তাব মানতে গড়িমসি করছে, তার টার্গেটও জনকল্যাণ নয়। একান্তভাবেই রাজনৈতিক। তাই সংস্কার যদি হতেই হয়, তাহলে প্রথমে রাজনৈতিক দলগুলোরই হওয়া উচিত। রাজনীতিবিদরা দুনর্ীতিমুক্ত হতে না পারলে অথবা দুনর্ীতির কারণে অভিযুক্তদের দল থেকে বহিষ্কার করার মতো উদ্যোগ না নেয়া হলে রাজনীতিবিদরা দুনর্ীতির তুফান মেইল ছুটিয়ে যাবেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০