somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আঁধারের ছায়াসঙ্গীরা............(৩)

১২ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আঁধারের ছায়াসঙ্গীরা............(১)
আঁধারের ছায়াসঙ্গীরা............(২)

'ধূর...এইটা কোন কথা হইল বল, নতুন একটা ম্যাডাম আসল, তার সামনে এই রকম বেইজ্জতি...'

স্কুল থেকে ফেরার পথে..... বিকালে খেলার মাঠে কিভাবে উত্তর পাড়ার মতিনদের কিভাবে হারানো যায় তাই নিয়েই কথা হচ্ছিল।
'হুঁম...কি করবি বল..!!! কিছুই তো বলা যাবে না। পরদিন থেকেই দেখবি তোর নাম বোর্ডে....'
'চল এক কাজ করি...আজ রাতে ওকে জংলাবাড়িতে নিয়ে বেঁধে রাখি...' সাদিব সাথে সাথে বলল।
'তা রাতের বেলা কি তুই ওকে জংলাবাড়িতে নিয়ে যাবি..!!! চুপ থাক....যত্তসব আজব আজব আইডিয়া....'

উদ্ভট উদ্ভট চিন্তার জন্য যদি কোন পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকত তাহলে হয়ত সাদিব অনেক বড় কিছুই হয়ে যেত। সারাক্ষনই কিছু না কিছু ওর মাথায় গিজগিজ করছে। তবে বেশীরভাগ সময়ই এমন সব আইডিয়া দেয় যে আচ্ছা মতন প্যাদাতে ইচ্ছে করে...... X((


ন্যাড়া কাহিনী.....


এমনিতেই মন খারাপ তার উপর নিপুন বলল, আজ নাকি রাহাত স্যার ওর জুলফি ধরে একটা হ্যচকা টান দিয়ে বলেছেন কাল যেন চুল কেটে আসে.....(স্যারদের মায়াদয়া বলে কিছু কি নাই..!!!! কি যে ব্যথা লাগে....... :( )

যেহেতু আমাদের সবার চুলেরই প্রায় একই অবস্থা,শাস্থি পাওয়ার আগে সবাই মিলে ঠিক করলাম আজই সবাই একসাথে চুল কাটাব। সাদিব হঠাৎ বলল, 'চল...সবাই মিলে ন্যড়া হয়ে যাই....' ওর কথা শুনে তখনই ওকে ধরে চাবকাতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু আমরা কিছু বলার আগেই সে বলা শুরু করল, কোন এক মুভিতে নাকি দেখেছে চার পাঁচটা নায়ক সবাই ন্যাড়া....সবাইকে নাকি সেরকম লাগছিল। সায়ান গাধাটাও দেখি মাথা নাড়ানো শুরু করলো। সেও নাকি দেখেছে, তার কাছে নাকি ঔ মুভির একটা পোষ্টারও আছে। আমি কিছু বলার আগেই দেখি সবাই রাজি..!!! এরপর আমি যতই বুঝাই না কেন কেউই শুনতে চায় না। উল্টো আমাকে বলল, 'দেখ তুই রাজি কিনা বল, নয়তো আমরা তোর সাথে নাই......'
কি আর করা..!!! রাজি না হয়ে উপায় কি...... কিন্তু ন্যাড়া হওয়ার পরের কথা চিন্তা করে আমার তখনই ডাক ছেড়ে কান্তে ইচ্ছা করছিল....... :((


সঙ্গী বিড়ম্বনা.......


খুব বেশীক্ষন অপেক্ষা করতে হল না.... ন্যাড়া হয়ে বাসায় ফেরার পথেই শিবলি ভাইয়ের সাথে দেখা। আমাদের দেখেই হাসা শুরু করলেন, 'কিরে পচ্ঞপান্ডব....তোদের এই অবস্থা কেন..!!! কোথায় চুরি করতে গিয়েছিলি.....' আমার তখন সাদিবকে কি যে করতে ইচ্ছা করছিল.... কোনভাবে শিবলি ভাইয়ের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে তাড়াতাড়ি বাসার দিকে পালাব কি..!!!! সামনেই দেখি নাঈমা...... ও আমাদের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকল অবাক হয়ে, এরপর শুরু করল হাসা...... আমরা যতই বুঝানোর চেষ্টা করলাম ওর হাসি থামলই না। করুন চোখে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলাম। আর বুঝলাম সামনে আরো ভোগান্তি আছে......কাল স্কুলে গেলে যে কি হবে, চিন্তা করতেই বুক শুকিয়ে যাচ্ছে এখনই........ :|

দরজা খুলেই রুমকি আপু...... আমার দিকে কিছুক্ষন ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকল তারপর, 'কিরে হঠাৎ তোর কদবেলের মত মাথাটা দেখানোর ইচ্ছা হইল কেন...!!!' কিছু না বলে রুমের দিকে হাঁটা দিলাম..... পেছন থেকে শুনলাম রুমকি আপু, 'খালা দেখে যাও, তোমার ছেলের অবস্থা......' মা এসে পড়ার আগেই রুমে ঢুকে গেলাম। রাতে খেতে বসে দেখি মা আর রুমকি আপু আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছেন। আমি মাথা নিচু করে খেয়ে যাচ্ছি এমন সময় আমার ছোট ভাই অর্ক, 'আচ্ছা ভাইয়া...কদবেল কি...!!!!' কথাটা শুনার পর যা হল......... রুমকি আপু যথারিতী হাসা শুরু করল। মা অন্যদিকে ফিরে হাসি চাপার চেষ্টা করতে লাগল। সবচেয়ে অবাক হয়ে দেখলাম বাবাও হাসছেন..!!! আমি আর পারলাম না...... কিছু বুঝার আগেই দেখি গলা ছেড়ে কান্না শুরু করেছি...... :((
আমার কান্না দেখে আপু আরো জোরে হাসতে লাগলো......(মনুষ যে কেমনে এত নিষ্ঠুর হয়....) মা ঝাড়ি দিয়ে না থামালে আরো কতক্ষন যে হাসতো কে জানে.... অর্কটা দেখি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। মা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন..... আমার কি আর কান্না থামে..!!!

রাতে ঘুমানোর সময় রুমকি আপু আসলেন.... 'কিরে এখনো ঘুমাস নাই....' আমি চুপ করে থাকলাম। 'আমার উপর রাগ, আরে আমি তো দুষ্টুমি করছিলাম। আর তুই বোকার মত কান্না শুরু করলি....' আমার যদিও আবার কান্না আসছিল কিন্তু কষ্ট করে চেপে রাখলাম.... 'গল্প শুনবি.....' 'হুঁ.....' রুমকি আপুর গল্প শুনতে আমার খুব ভাল লাগে। এত সুন্দর করে বলতে পারে.....সবসময় এমন ভাল থাকলে কি হয়....!!!!


নির্দোষ অপরাধ....


পরদিন স্কুলে যাওয়ার সময় দেখা গেল মোটামোটি সবারই একই অবস্থা। ক্লাসে যাওয়ার পর যে কি হবে তাই নিয়ে সবার আতঙ্ক। এমন সময় রাতুল, 'ইস্‌.... শুধু যদি একটা কাঁচি থাকত....' 'কাঁচি দিয়ে কি করবি...!!!' 'আরে বুঝলি না....ধর, কেউ আমাদের টিটকারি দিলো। তখন শুধু কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কচ্‌......' বলেই দুই আঙ্গুল দিয়ে একটা ভঙ্গী করল। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম। রাতুলের মাথা থেকে এমন ফিঁচলে কিছু বের হতে পারে বিশ্বাসই হয় না..... তখনই সায়ান, 'আরে চিন্তা করিস না....আমার ব্যাগেই একটা কাঁচি আছে....' 'তোর ব্যাগে..!!!' 'হুঁ....এই যে দেখ....' বলেই একটা কাঁচি বের করে দেখাল.... 'চিন্তা কইরা দেখ... একবার কারো চুল কাটলে তার অবশ্যই আমাদের মত হইতে হবে। আর দুই একজনরে এরকম করলেই দেখবি বাকিরা আর কিছু বলার সাহস পাবে না.....' 'কিন্তু....তোর ব্যাগে কাঁচি ক্যান..!!!' আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। 'আরে লাগে না...অনেক সময় কাগজ টাগজ কাটতে হয় না....' সায়ানের এইভাবে কথা এড়িয়ে যাওয়া দেখে আমি তো পুরাই টাস্কি...... :-* (পরে অবশ্য স্বীকার করেছিল, ওদের দুইজনকে নাকি সাদিব আগেই বলে রেখেছিল.....) তো সবার সম্মতিক্রমে সাদিক চুল কাটার এই মহান দায়িত্ব নিল..........

ক্লাসে আসার পর সবাই আমাদের দিকে কেমন ঢ্যাবঢ্যাব করে তাকাতে থাকল। নিজেরা নিজেরা হাসাহাসি করলেও সরাসরি কেউ টিটকারি দিল না। প্রথম ভুলটা করল রন্জু, 'কিরে তোরা সব হঠাৎ টাকলু হইলি কেন....' আর যায় কোথায়। ওর নাম সাথে সাথে লিস্টে উঠে গেল....(যদিও প্রথম টিটকারি মেরেছিল নাঈমা, আমাদের টেকো নাট্যদল উপাদি দিয়ে। কিন্তু মেয়েদের তো আর এই ধরনের লিস্টে রাখা যায় না........ :!> )

সাদিকের প্রথম হাতের কাজ দেখানোর সুযোগ এল টিফিন পিরিয়ডে। বেচারা রন্জু তার মাথার সম্মুখের চুল হারাল....(সাদিবের হাতের কাজ দেখে মনে হল ও জন্ম নাপিত আর রন্জু বেচারা.... মাত্র কয়েকদিন আগে নতুন স্টাইলে মাথার চুলের মাঝখানে ভাঁজ রাখা শুরু করেছিল, কি জানি এক মুভি দেখে...... ;) ) এরপর অবশ্য আমাদের আর পেছন ফিরে তাকাতে হলো না....... কখনো আমি, কখনো রাতুল, কখনো দিপ্ত, কখনো সায়ান... এমনকি আমাদের দলে উপনিত নতুন সদস্যরা মিলে আরো দশ বারো জন সদস্য যোগাড় করে ফেললাম। পুরো ক্লাস আমাদের আতঙ্কে অস্থির অবস্থা........(যদিও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যতিত আমাদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ন মহৎ ছিল। কিছু নতুন সদস্য ন্যাড়ত্বের মাহাত্ব্য না বুঝে অন্যের চুলে ঈর্ষান্বিত হয়েছিল....... :-B :P )




(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১০:৩৭
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×