somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রোস্ট পোস্ট: বাংলাদেশী ধারাবাহিক ভার্সেস ইন্ডিয়ান সিরিয়াল! আমরা কেন জনপ্রিয়তায় এত পিছিয়ে? সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে বাঁচার উপায় কি?

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :






পূর্ব রোস্ট পোস্ট: রোস্ট পোস্ট (১) - "আপনি কি কালো, বেঁটে, মোটা? তাহলে আপনার বেঁচে থাকা অর্থহীন!" ওহ মিডিয়া প্লিজ শ্যাট আপ!
রোস্ট পোস্ট (২) - বাংলাদেশী বিয়ে - দুটি মনের মিলন নাকি অপসংস্কৃতি, অসহায়ত্ব, অশ্লীলতা প্রকাশের মাধ্যম? শেম শেম!
রোস্ট পোস্ট (৩) - বিবাহ বানিজ্য, পাত্র পাত্রীর নির্বাক অসহায়ত্ব, অশ্লীলতা - ঝলমলে লাইটিং এর পেছনের অন্ধকারের গল্প!
বহুদিন পরে নিয়ে এলাম রোস্ট পোস্ট: সোশ্যাল মিডিয়া- আমাদের মন মানসিকতা কি বিকৃত হয়ে যাচ্ছে? সুস্থ হবার উপায় কি?

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

আমরা সবাই জানি ভারতীয় সিরিয়াল বাংলাদেশে কতটা জনপ্রিয়। মানুষজন আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছে পছন্দের সিরিয়াল দেখতে না পেয়ে বা সিরিয়ালের নায়িকার মতো পোশাক কিনতে না পেরে। সিরিয়ালের সাথে সাথে ভারতীয় পোশাক এবং মেকআপ স্টাইলও বাজার দখল করে নিচ্ছে। অনেকে হিন্দি ভাষায় কথা বলাকে স্মার্টনেস মনে করছেন। ভাষা, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ, পোশাক, নাটক, সিনেমা, সঙ্গীত, বিয়ের ধরণ - যেকোন সংস্কৃতির বড় একটি অংশ বা পুরো সংস্কৃতি। এক ভারতীয় সিরিয়ালের ঢিলে অনেকগুলো বাংলাদেশী পাখি মারা যাচ্ছে। এই বিশাল সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ খোঁজার জন্যেই নিয়ে এলাম রোস্ট পোস্ট।

বাংলাদেশী চ্যানেল ভারতে দেখানো: আমরা এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে ধুয়ে দেই নিত্যদিন। আমাদের নতজানু থাকার কোন কারণ নেই। কথা সোজা: আমাদের দেশে ভারতীয় চ্যানেল চালাতে হলে ওদের দেশেও বাংলাদেশী চ্যানেল চালাতে হবে। এই বিষয়টি না হওয়ার কারণে অনেকে ভারতকে দোষ দেয়। আমি ভারতের কোন দোষ দেখছিনা। ওরা নিজের দেশের লাভ দেখছে। এমন অনেক প্রোগ্রাম আছে যা কোলকাতায় চলেনা কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ হা করে গেলে। ওদের মার্কেট দ্বিগুণ করার এই সুবর্ণ সুযোগ ওরা ছাড়বে কেন ? দেশপ্রেম নামক জিনিসটি ওদের মধ্যে আছে এবং আমাদের সেই গুণটির প্রশংসা করা উচিৎ।
আমাদের কর্তৃপক্ষ যদি ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করে তবে দেশের এক অংশ গালি দেবে, যদি না করে তবে আরেক অংশ। তারচেয়েও বড় কথা বন্ধ করেও লাভ কিছু হবেনা। বাংলাদেশী চ্যানেল তবুও চলবেনা। মানুষজন ইউটিউবে সব সিরিয়ালগুলো দেখে নেবে। বিনোদনকে কখনো চাপিয়ে দেওয়া যায়না। তবুও ব্যাবসায়ীক দিকটি দেখে, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অন্যদেশে যেন না যায় সেই ব্যাপারটি ভেবে হলেও কর্তৃপক্ষ শক্ত হতে পারেন। তারা তো শক্ত হচ্ছেন না অনেকদিন ধরেই, তাই সেদিকে আশা রাখছিনা।
অন্যকোন উপায় বের করতে হবে এই সমস্যা থেকে বাঁচার। যেকোন সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে বড় ও প্রথম কাজ সমস্যাটিকে বোঝা।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে ভারতের সিরিয়ালগুলো এতটা পপুলার কেন? অনেকেই বলে থাকেন, "নারীদের অখাদ্য রুচির কারণে পপুলার!" আসলেই কি তাই? দেখা যাক। ওদের মেকআপ উদ্ভট রকমের। আমরা বিয়ে বাড়িতে গেলেও যতটা না সাজি ওরা লিটারেলি তার তিনগুণ সেজে বসে থাকে কোমা থেকে ৪ বছর পরে জাগার পরে! ভারী শাড়ি, গয়না, বড় বড় টিপ, হাতভর্তি চুড়ি, আর চুল? রান্না করতে করতেও চুলগুলো স্টাইল করে খুলে রাখে!

আর বাংলাদেশী নাটক? মেকআপ যথেষ্ট রিয়ালিস্টিক। কিছু কিছু নাটকে বেশি মেকআপ দেখা যায়, তবে সেটা ভারতের তুলনায় কিছুই না। বৃন্দাবন দাস, ফারুকী, রেদওয়ান রনির অনেক নাটকে চরিত্রগুলোকে নো মেকআপেও দেখেছি। নিচে দু দেশের মেকআপ কম্পারিসন দেখুন।




আর গল্প? একটি এপিসোডে ৩০ মিনিটের ১০ মিনিট ধরলাম এড। বাকি ২০ মিনিটের ১০ মিনিট "ফ্ল্যাশ ফ্ল্যাশ" - প্রতিটি ব্যাপারে বাড়ির ২৫ টি সদস্যের রিএকশন। আর ৫ মিনিটি নানা ধরণের গান, আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যেমন (জয় মাতাদি জয় মাতাদি, জয় কালি জয় জয় কালি) আরো কতকি!

নিচে একটা রেগুলার সিন দেখাচ্ছি:

চৌধুরী পরিবারের ছোট বউ মালতি গরীব পরিবারের সাধারণ চেহারার মেয়ে। সে আদর্শ ও মূল্যবোধের জায়গায় অটল, এবং ঘরের কাজে নিপুণ। তার চোখে অনেক স্বপ্ন। সে ডাক্তার, পুলিশ, খেলোয়াড়, নৃত্যশিল্পী, গায়িকা ইত্যাদি যেকোন কিছু একটা হতে চায়। কিন্তু নিয়তি তাকে বড় পরিবারের বউ করে দেয়, তবুও সে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেনা। সে বাড়ির সব কাজ পারফেক্টলি করে আবার বাইরেও তার জয় জয়কার।
একদিন তার হাত থেকে চায়ের কাপ পড়ে গেল। ছোট বউ হচ্ছে দেবীর মতো পারফেক্ট, সে কোন ভুল করতে পারেনা। ভিলেনই পথে কিছু ফেলে রেখেছিল যার জন্যে চা পড়ে যায়। ৭ দিন ধরে প্রোমো যাচ্ছে, "মালতি কি পারবে প্রমাণ করতে যে ও ইচ্ছে করে চা ফেলেনি? ইচ্ছাধারী নাগিন মোহিনীর ষড়যন্ত্র কি প্রমাণিত হবে? দেখুন প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭ টায়, "মালতির পরিবার, বারবার নাগিনীর বার" সোম থেকে শনি! জীবন মানে সোনার থুক্কু জি বাংলা!

যাই হোক, মানুষজন হা করে বসে আছে ঐ চা পড়ার সিন দেখার জন্যে। কয়েক মাস জুড়ে এই কাহিনীই চলতে থাকবে। কিভাবে?

এপিসোড ১: মালতি পুরো এক এপিসোড নেবে রান্নাঘর থেকে ডাইনিং রুমে আসার জন্যে।
এপিসোড ২: এরপরে ওর হাত থেকে নানা কাহিনীর পরে চায়ের কাপ পড়বে।
এপিসোড ৩: সবাই রিএকশন দেবে। ফ্ল্যাশ ফ্ল্যাশ ফ্ল্যাশ।
এপিসোড ৪: এখন কাহিনী কিছুটা এগোবে। মালতিকে বলা হবে ও যদি প্রমাণ করতে না পারে যে কাপ ফেলায় ওর দোষ ছিলনা, তবে ওকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে।
এপিসোড ৫: মালতি যাবে ভগবানের কাছে, পুরো এপিসোড জুড়ে লেকচার দেবে, রীতিমত শাসাবে যেন ওর ভক্তির ফল ওকে দেওয়া হয়। জয় জয় জয় মা চলতে থাকবে ব্যাকগ্রাউন্ডে।
এপিসোড ৬-৬০: ভগবান কিছু একটা চমৎকার করে ভিলেনের মুখোশ খুলে দেবে। (এরমধ্যে মালতী তিনবার মরে যাবে, দুবার কোমায় যাবে, একবার প্লাস্টিক সার্জারিও হবে, ওর বর মালতির অনুপস্থিতে তিনটা বিয়ে করে ফেলবে।)
এপিসোড ৬১: এখন পরিবারের সবাই ভিলেনের বিপক্ষে রিকএশন দেবে। ফ্ল্যাশ ফ্ল্যাশ ফ্ল্যাশ।
এপিসোড ৬২: একেকজন একেক রকম ডায়ালগ দিয়ে মোহিনীকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাইবে।
এপিসোড ৬৩: মহান মালতি সবার হাতে পায়ে ধরে মোহিনীকে ক্ষমা করে দিতে বলবে।
এপিসোড ৬৪: মালতি সুখী থাকবে, ওর যে বর ওকে কোন ব্যাপারে সাপোর্ট করেনি ওর জন্যে রোমান্টিক ডেট প্রিপেয়ার করে গান গাইবে। মালতি খুশি হয়ে ভগবানকে এমন বর জনম জনম দিতে বলবে!!!!
এপিসোড ৬৫: ভিলেন আরেকটি নতুন কান্ড করবে।
এপিসোড ৬৫- ১৬৫ - রিপিট, আগে যা যা হয়েছে আবারো হবে। যা মালতির সাথে হয়েছে তা ওর মেয়ের সাথে হবে, নাতনীর সাথে হবে। এভাবেই একই গল্প রিপিট হতে হতে সিরিয়াল ১০০০ এপিসোড ছাড়িয়ে যাবে।


আর বাংলাদেশী নাটকগুলো অন্যরকম। কাহিনী থাকে। তবে কমেডীর নামে ভাড়ামিপূর্ণ নাটকগুলো বিরক্তির উদ্রেক ঘটায়। কিন্তু সেগুলোতেও এত বেশি অবাস্তব সেট, মেকআপ এবং ক্যামেরার ফ্ল্যাশ ফ্ল্যাশমুখী অভিনয় থাকেনা। আর কিছু নাটক তো অসাধারণ শিক্ষনীয় ও সুন্দর। গ্রাম, মফস্বল ও বড় শহরের সব ধরণের সাধারণ অসাধারণ চরিত্রগুলোকে আমরা আমাদের নাটকে খুঁজে পাই। কেউ দেবীর মতো ভালো নয় আবার কেউ রাক্ষসীর মতো খারাপও নয়। ভালোমন্দ ঠিক ভুল মিশিয়ে সাজানো হয়ে চরিত্রগুলোকে।

কিন্তু তবুও বাংলাদেশী দর্শকেরা ভারতীয় প্রোগ্রামই বেশি দেখে। কেন? উত্তর আমার লেখায় অলরেডী ছিল, যদি আপনার চোখ এড়িয়ে যায় তবে পয়েন্ট আকারে দিচ্ছি।

১) টার্গেট অডিয়েন্স! ভারতে সকল প্রোগ্রামের একটি টার্গেট অডিয়েন্স থাকে। সিরিয়ালগুলোর টার্গেট হচ্ছেন নানা বয়সের নারীরা। মেয়েদের সিরিয়াল দেখার স্বভাব নিয়ে অনেক হাসি ঠাট্টা হয়। মেয়েদের রুচি পছন্দ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এসব করে আমরা বিলিয়ন ডলার অন্য দেশে দিয়ে দিচ্ছি। আর যারা মেয়েদের প্রেফারেন্স বুঝে ধারাবাহিক বানাচ্ছে তারা বিলিয়ন ডলার কামিয়ে নিচ্ছে।

বিদেশে আসার আগে আমি ভাবতাম শুধু বাংলাদেশ ও ভারতের নারীরাই ইন্ডিয়ান সিরিয়াল দেখেন। কিন্তু জানলে অবাক হবেন যে বিদেশের নারীরাও দেখেন! আমার এক আফ্রিকান বান্ধবী একদিন ব্রেকের মধ্যে একটি হিন্দি সিরিয়াল দেখছিল। আমি সিরিয়ালটি কখনো দেখিনি, কুমকুম নামের কি যেন একটা সিরিয়াল। শাড়ি গয়না দেখে বুঝে গেলাম এটি ভারতের, অবাক হয়ে গেলাম। ও শ্যামলা কোকড়া চুলের মেয়ে, দেখলে বাংলাদেশী অথবা ভারতীয়ও মনে হতে পারে। আমি ভাবলাম এমন হতে পারে যে ওর বাবা অথবা মায়ের কোন একদিক ভারতীয়! জিজ্ঞেস করে জানলাম যে ভারতের সাথে ওর কোন সম্পর্ক নেই। বন্ধু তাই ওর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে আমি বললাম, "ও তুমি বউমা কিভাবে শ্বাশুড়ির কাছ থেকে নিজেকে বাঁচায় সেটা দেখতে চাচ্ছ?" ও ৩২ টি ঝকঝকে সাদা দাঁত বের করে বলল হ্যাঁ। ও সাবটাইটেলগুলোর মধ্যে পারলে ঢুকে যাচ্ছিল! এত আগ্রহ নিয়ে দেখছিল যে বলার না। অবস্থাটা এবারে বুঝতে পারছেন?

আচ্ছা আফ্রিকার বা অন্য দেশের মেয়েরা কেন দেখে সেটা বাদ দেই। একজন বন্ধুকে দেখে জাজ নাই করি। আমি আমার দেশের মেয়েদের নিয়ে বলি। কেন আমাদের দেশের নারীরা ভারতীয় সিরিয়াল দেখেন?

কেননা এদেশে একজন মেয়েকে অন্ধকার হবার আগেই বাড়িতে ফিরতে বলা হয় নিরাপত্তার খাতিরে। একটি ছেলে রাত ১০ টা পর্যন্ত গলির মোড়ে আড্ডা দিতে পারে বন্ধুদের সাথে, ক্লাবে যেতে পারে, বাইক চালাতে পারে, ক্যারাম, ক্রিকেট, ফুটবল খেলতে পারে। কিন্তু একটা মেয়ে কিশোরীর হতে হতেই তাকে খেলতে, নাচতে মানা করা হয়, তার পরিবর্তিত শরীরকে নোংরা চোখগুলো থেকে বাঁচানোর জন্যে। সব পরিবার এক নয়, তবে রক্ষনশীল পরিবারগুলো, "তুমি মেয়ে, একটু সামলে চলো!" নীতিতে চলে। দরকার ছাড়া এবং মেইল গার্ডিয়ান ছাড়া অনেক মেয়েই সন্ধ্যার পরে বাড়ির বাইরে পা রাখতে পারেনা। যদি রাখে আর তার কোন ক্ষতি হয় সমাজ তাকে স্লাটশেম করবে। কোন পরিবারই নিজের মেয়েকে এমন বিপদে দেখতে চায়না। সবমিলে মুক্ত বাতাস নারীর জন্যে নয়।
ছেলেদের বিনোদের অনেক মাধ্যম আছে, যখন তখন বাড়ির বাইরে, "মা যাচ্ছি" বলে চলে যায়। কিন্তু বন্দি নারীজাতি সময় কাটাতে কি করবে? টিভি দেখবে।

টিভিতে সে কাকে দেখতে চাইবে? অবশ্যই নিজেকে। এই মালতির কথাই ধরি। সাধারণ পরিবারের গরীব মেয়ে যে বড় একটি পরিবারের সুদর্শন ছেলের বউমা হয়, এবং সফলতার সাথে ডাক্তার/পুলিশ বা তেমন কিছু হয়ে যায়। আমাদের দেশের অনেক মেয়েই শ্বশুড়বাড়ির মানুষের দ্বারা নির্যাতিত হয়, আর অনেক মেয়ে শ্বশুড়বাড়ির মানুষকে নির্যাতন করে। তাই বড় একটি পরিবারের সবার মন জুগিয়ে বারবার মহৎ ও ঠিক প্রমাণিত হবার দৃশ্যগুলো মেয়েটিকে আনন্দিত করে। যতবার ভিলেনকে পরাজিত করে মালতি জেতে, ততবার দর্শক মেয়েটির মনে হয় সেই জিতে গিয়েছে। বাস্তব জীবনে বারবার হারতে থাকা মেয়েটি টিভির সেই চরিত্রের মধ্যে জিতে ওঠে। একটি এপিসোড মিস করলে তার মনে হয় সে নিজের জীবনের একটি দিনকে মিস করে ফেলেছে!

২) প্রোমো! প্রোমোর ব্যাপারে ভারতীয় মিডিয়া বস। যেকোন সাধারণ বিষয়কে সারা সপ্তাহ "মহা এপিসোড" বলে চালাতে থাকবে। মালতির চা ফেলার মতোই ছোট ছোট সব ব্যাপার। কিন্তু ওরা এমনভাবে প্রচার করে যে মনে হয় সিরিয়ালের চরিত্রগুলো জীবন্ত কিছু! সিরিয়ালের ছেলে জাতির ছেলে, সিরিয়ালের বউ জাতির বউ! মানুষজন মোহাবিষ্ট হয়ে অপেক্ষা করতে থাকে, পরের এপিসোডে কি হবে জানার জন্যে!
এ বিষয়ে আমাদের দেশের একটি উদাহরণ দেই। একটা অসাধারণ নাটক ছিল "সানফ্লাওয়ার" নামে। তারিন "সানফ্লাওয়ার ইলেকট্রনিক্স" নামে একটি ওয়ার্কশপ চালায়। নানা ধরণের ইলেকট্রনিক জিনিস ঠিক করে। তথাকথিত পুরুষের পেশাটিকে আপন করে নেবার কারণে পাড়ার মানুষজন ওর দিকে কেমন চোখে তাকায়। সে সব প্রতিকূলতকাকে ছাপিয়ে ওপরে ওঠে। এটাই একটি রিয়েল নাটক যা নারীদেরকে মোটিভেট করতে পারে। কিন্তু এই নাটকটির কথা নিশ্চই অনেকেই জানেন না? কিভাবে জানবেন, পাবলিসিটি তো ০!
একবার তারিনকে অফিসের মেইল স্টাফ বন্ধ করে দেয় একটি রুমে। এটাকে একটা সাসপেন্স হিসেবে রাখা উচিৎ ছিল কিন্তু তা না করে, সেই এপিসোডেরই "পরে দেখুন" অংশে দেখানো হয় যে একজন নারী সহকর্মী দরজা খুলে তারিনকে উদ্ধার করে। তো পরের এপিসোড মানুষ আর দেখবে কেন? ধারাবাহিকে পরের পর্বে কি হবে এই সাসপেন্স না রাখা গেলে দর্শক তো চলে যাবেই।

আমরা প্রোমোর নামে যেটা দেখাই সেটা প্রোমো না। পুরো নাটকের বেশ কিছু ছন্নছাড়া দৃশ্য একের পর এক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সাথে বাজতে থাকে। মানুষজন আঁচই করতে পারেনা কাহিনীটা কি নিয়ে, কাকে নিয়ে! প্রোমো, ট্রেইলারই তো মানুষকে পুরো জিনিসটি দেখতে মোটিভেট করে, সেখানে ফেইল করি আমরা বারবার।

পরের এপিসোডে কি হতে পারে সেটাকে হাইলাইট করে বারবার চ্যানেলগুলোতে প্রোমো দিতে হবে। মানুষজনের যেন মনে হয় তারিন আমাদের পাশের বাড়ি মেয়ে যে সত্যিই আটকে গিয়েছে অফিসে। একটা সময়ে "বাকের ভাই" যেমন সবার মহল্লার ভাই হয়ে গিয়েছিল! যার ফাঁসির রায়ে মানুষজন রাস্তায় নেমেছিল! আজকাল এত চ্যানেলের ভীরে সেই ম্যাজিক তৈরি করা কঠিন। কিন্তু ঠিকমতো পাবলিসিটি করতে পারলে আমরা কাছাকাছি তো যেতে পারব। মানুষজনকে ঢাকঢোল পিটিয়ে নিজের প্রোডাক্টের ব্যাপারে জানানো কি খুব কঠিন কিছু?

৩) সময়! আমাদের দেশে ধারাবারিকগুলোর সময় অদ্ভুত! কোনটা মঙ্গল বুধ, কোনটা শনি সোম বুধ, কোনটা ৮:১৫, তো কোনটা ৯:০৫! সিরিয়াসলি? ব্যস্ত জীবনে কে এভাবে সময় মনে রাখতে পারে?
ভারতের ঐ সোম থেকে শনি, ৭ টা বা সাড়ে ৭ টা বা ৯ টার সময়গুলো মানুষের জন্যে সুবিধাজনক। একটা অভ্যাসের মধ্যে ফেলে দেয় মানুষকে।
ভারতের বেশিরভাগ সিরিয়ালের প্রথম ৩০ এপিসোড ভালো থাকে। বেশ বাস্তবঘেষা, প্রতিবাদী নায়িকার মধ্য দিয়ে নারী স্বাধীনতা দেখায়, ওয়ার্কিং ওম্যানকে স্বামীর সাহায্য, গৃহবধুর সম্মান পাবার সংগ্রাম, কালো মেয়ের বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, নিচু জাতের মেয়ের শিক্ষা অর্জনের লড়াই সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ টপিকের প্রমিস নিয়ে শুরু হয়। সাধারণের সমস্যাগুলোকে তুলে ধরায় সাধারণেরা ম্যাগনেটের মতো আকর্ষিত হয়।
কনটেন্ট ব্যাস প্রথম ৩০ এপিসোডই থাকে। তারপরে ভারতের প্রত্যেকটি সিরিয়াল (আই মিন প্রত্যেকটি চ্যানেলের প্রত্যেকটি সিরিয়াল) একই কূটিল শ্বাশুড়ি, বদ ননদ, পরকীয়ায় আসক্ত বর, কোমা, প্লাস্টিক সার্জারি, ভূত প্রেত নাগিনের ফরমুলায় চলতে থাকে। প্রথম ৩০ এপিসোডের প্রতিবাদী নায়িকাটি হুট করে সকল বড় বড় স্বপ্ন বাদ দিয়ে নতজানু "আদর্শ বউ" হয়ে যায়! অনেকটা ফেয়ারনেস ক্রিমের মতোই ধোঁকাবাজি বলতে পারেন।
কিন্ত মানুষ তো অভ্যাসের দাস! দিনের অন্যসব কাজ শেষ করে বা একদিকে রেখে একটা টাইম রাখা হয়েছিল সিরিয়ালটি দেখার জন্যে, এখন সেই সিরিয়াল যতই বাজে দিকে যাক অভ্যাসবশত মানুষজন হাজার হাজার এপিসোড গিলতেই থাকবে।

আমরা যদি ধারাবাহিক গুলো মানুষের সুবিধাজনক সময়ে দেখাতে পারি এবং শেষটা এমন জায়গায় করতে পারি যার জন্যে পরের পর্ব দেখার আগ্রহ হয়, তবে আমাদের দর্শক বাড়তে বাধ্য।

৪) খবর! প্রতি চ্যানেলে ঘন্টায় ঘন্টায় খবর ও টকশো দেখানো বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের খবর ভারতে দেখানো হয়না, শুধুমাত্র ওটুকুই আমাদের টিআরপি গেইনের আশা ভরসা। কিন্তু এই পন্থায় আমরা এক পয়সার দিকে ছুটে পেছনে ফেলে আসছি লাখ টাকা! আমাদেরকে ধৈর্য্য ধরে খবর নামক অত্যাচারের পরিমাণ কমাতে হবে। নাটক সিনেমার মাঝখানে হুট করে খবর অন্য কোন দেশে শুরু হয়ে যায় কিনা জানিনা।
আরেক অত্যাচারের কথাও বলে ফেলি এই সুযোগে। নিচে বারবার ব্রেকিং নিউজ দেখাতে থাকে।
অপূর্ব মেহজাবিনের দূর্দান্ত আবেগীয় রোমান্টিক দৃশ্য দেখতে দেখতে নিচে পড়বেন, "বাগেরহাটে বউকে কুপিয়ে হত্যা করে স্বামী পলাতক!" ব্যাস, আপনার রোমান্টিক নাটক দেখার মুড আর রুচি দুটোই শেষ হয়ে যাবে।

৫) বিজ্ঞাপন বিরতি! আমাদের দেশের নাটকগুলো কতটা উন্নতমানের তা আমি বুঝতে শুরু করেছি ইউটিউবে নাটক দেখতে শুরু করার পরে। নাটকের মধ্যে বিজ্ঞাপন নয় বিজ্ঞাপনের মধ্যে অনুষ্ঠান দেখতে হয়! কি ভয়ানক ব্যাপার! তবুও আজকাল অনেক চ্যনেলে, "ফিরছি এত মিনিটে" দেবার কারণে একটু সুবিধা হয়েছে। কিন্তু তবুও অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের কারণে কি দেখছিলাম সেটাই ভুলে যাই বা অন্য চ্যানেলে অন্য কোন অনুষ্ঠানে বিজি হয়ে যাই।
ভারতের অনুষ্ঠানগুলোতে এটা খুব নিয়ম মাফিক হয়। দর্শক জানে ৮ টায় অনুষ্ঠান শুরু হলে ৮:১০ এ বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে এবং সেটা এত মিনিট ধরে হবে, আবারো ফিরতে হবে ৮:১৫ তে। মানুষ ফিরবেও কেননা একটা সাসপেন্সের জায়গায় রেখে দেয় প্রতি বিজ্ঞাপনের মাঝেমাঝে।
আমাদের দেশে চ্যানেলগুলোর আয়ের প্রধান উৎস বিজ্ঞাপন। সেখানেও ভাগ বসাচ্ছে ভারতীয় মিডিয়া। খেয়াল করে দেখবেন প্রাণ, আরএফএল সহ নানা বাংলাদেশী প্রোডাক্টের এড দেখা যাচ্ছে ভারতীয় চ্যানেলগুলোতে। ওদের বেশ জনপ্রিয় প্রোগ্রামগুলোর স্পন্সরও হচ্ছে আমাদের প্রোডাক্ট। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের চ্যানেলগুলো বন্ধ হবার জোগাড় হবে।
বিজ্ঞাপন থাকতে হবে এবং আমাদের দেশে বেশ ভালো মানের বিজ্ঞাপন হয়ও। তবে একটা নিয়মের মধ্যে। দর্শককে অভ্যস্ততায় ফেলে দিতে হবে অপেক্ষায় নয়।

৬) শিল্পীদের ঠিকমতো ব্যবহার! ভারতে একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী শুধু একটিই সিরিয়াল করেন, ক্যারেক্টার আর্টিস্টদের বেশ কয়েকটি সিরিয়ালে দেখা গেলেও নায়ক নায়িকা সহ মূল চরিত্রগুলোকে সাধারণত দুটো সিরিয়াল একসাথে করতে দেখা যায়না। এতে একটা বড় লাভ হয়। মানুষজন ঐ চরিত্রটিকে (যতই অবাস্তব) হোক না কেন বিশ্বাস করতে থাকে। সিরিয়ালের চরিত্রের নামেই সবাই মানুষগুলোকে চেনে, আসল নামে নয়।

আমাদের দেশে চঞ্চল চৌধুরী বা মোরাররফ করিমকে কোন চ্যানেলে গ্রামের অশিক্ষিত চরিত্রে দেওয়া হয়, অন্য চ্যানেলে শহুরে শিক্ষিত চরিত্রে। আবার অনেক সময় একই রকম চরিত্র একই লুকে নানা নাটকে করে যান। চ্যানেল পাল্টালে বোঝাও যায়না যে নাটকটা আলাদা। আমরা এজন্যে তারকাদের নামেই তাদের চিনি, চরিত্রের নামে নয়। মানছি আমাদের অভিনেতা অভিনেত্রীরা মারাত্মক ট্যালেন্টেড যে একসাথে এত রকম চরিত্র করছেন। কিন্তু পন্ডশ্রম। মানুষজন যে ঢুকতে পারছেনা, মানতে পারছেনা, বিশ্বাস করতে পারছেনা। অনেক শিক্ষিত ছেলেমেয়ে মিডিয়ায় ঢোকার চেষ্টা করছে। সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। একেক নাটকে একেক কাস্টিং লাগবে এবং সেই ধারাবাহিক শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য ধারাবাহিক না করার চুক্তি করতে হবে।

এতে করে লাভ হবে তিনটা।

১) ইন্ডাস্ট্রি নতুন নতুন আর্টিস্ট পাবে এবং বড় হবে। দু একজনকে বিশ তিরিশটা নাটক করে পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে টানতে হবেনা। ইন্ডাস্ট্রি তারকা নির্ভর না হয়ে শীল্পি নির্ভর হবে।
২) দর্শকেরা চরিত্রগুলোকে বিশ্বাস করবে। ভাববে যে এই ব্যক্তি অভিনয় করছেনা, এ আসলেই আমাদের গ্রামের সরল ছেলেটি বা পাশের ফ্ল্যাটের ভদ্র মেয়েটি - ইত্যাদি।
৩) নতুন ছেলেমেয়েরা প্রচুর সুযোগ পাবে। আর পুরোনরা একটি চরিত্রকে নিয়ে বেশি করে ভাবতে ও কাজ করতে পারবে। আমাদের দেশের বড় তারকারা মেশিনের মতো কাজ করেন। এতে করে তাদের কাজের মান কমে যায়। তাদের ট্যালেন্ট অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারিনা আমরা। এই সমস্যা কমে যাবে।

আমি যে জিনিসগুলো বললাম সেগুলো করা খুবই সহজ। না করার কারণ আমাদের ব্রেইন না খাটানো বা হয়ত এমন কোন টিম না থাকা যারা এ বিষয়টি দেখবে। যেকোন ধারাবাহিকের করার আগে সার্ভে করতে হবে, টার্গেট অডিয়েন্স সেট করতে হবে, সেই অডিয়েন্স কখন ফ্রি হয়ে টিভি দেখতে পছন্দ করেন সেটা জানতে হবে। তারপরে বারবার প্রোমো চালিয়ে মানুষজনকে জানাতে হবে ধারাবাহিকটির ব্যাপারে।
আমাদের অনেক নাটক কোলকাতায় জনপ্রিয় ইউটিউবের কল্যাণে। মেহজাবিন, অপূর্ব, মোশাররফ করিমকে ওখানকার অনেকেই জানেন। যেহেতু প্রোডাক্ট নয় আমাদের প্যাকেজিং এ মেইন ঘাটতি, তাই আস্থা রাখছি ছোট ছোট কিছু উদ্যোগই পারবে বাংলাদেশী মানুষকে আবারো নাটকমুখী করতে।

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

আমি রোস্ট কাকে করেছি এই পর্বে? ভারতকে নয়, কেননা ওরা স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের লাভ দেখছে। দর্শককে নয় কেননা সারাদিন সংগ্রাম করা মানুষগুলো বিনোদনের নামে টর্চার পছন্দ করবেন না। কর্তৃপক্ষকে বেশি রোস্ট করিনি কেননা এসব বিষয়ে বলতে বলতে জাতির মুখ ব্যাথা হয়ে গেছে কিন্তু তাদের টনক নড়েনি। ব্রিক ওয়ালে মাথা ঠুকে মরা অর্থহীন।
আমি আমাদের মিডিয়াকেই রোস্ট করেছি। আমাদের দেশে প্রচুর ভালো ভালো কাজ হচ্ছে। কিন্তু একটি খাবার যতোই টেস্টি হোক না কেন পরিবেশন ভালো না হলে খেতে রুচি হবেনা। তাই গুণী মানুষদের শ্রম বিফলে যাচ্ছে। প্রতিটি ধারাবাহিকের একটি ক্রিকেটিভ টিমের পাশাপাশি মার্কেটিং টিম থাকতে হবে যারা দেখবে যে কিভাবে ঐ ক্রিকেটিভ জিনিসটিকে বেঁচা যায়। যদি বাংলাদেশী মিডিয়া সকল সমস্যা ঝেড়ে উঠতে পারে, দর্শকেরা সিরিয়াল ছেড়ে নাটক দেখবে। আর ভারতীয় ব্যাবসায়ীরা যদি দেখেন যে ওনাদের চ্যানেল আমাদের দেশে ব্যাবসা করছেনা, ওনারা আমাদেরকে অখাদ্য কুখাদ্য গেলানোর সুযোগ পাবেনা। ভারতীয় সিরিয়ালকে এবং তাদের দর্শককে সমালোচনা করে কিছুই পাবনা আমরা। আগে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়তে হবে, তারপরে অন্যদের সমালোচনা করতে হবে। আশা করছি, একদিন না একদিন এদেশের ঘুমন্ত চ্যানেলগুলো জেগে উঠবে। ব্যাবসাকে ব্যাবসার মতো করে দেখতে শিখবে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বন্ধ হয়ে জীবন মানে জি বাংলা নয় সোনার বাংলা হবে সেই আশায় লেখা শেষ করছি।


ছবি সূত্র: অন্তর্জাল!
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:০০
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৪৫ বছরের অপ-উন্নয়ন, ইহা ফিক্স করার মতো বাংগালী নেই

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:০৫



প্রথমে দেখুন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো; উইকিপেডিয়াতে দেখলাম, ১০৩ টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আছে; ঢাকা ইউনিভার্সিটি যাঁরা যেই উদ্দেশ্যে করেছেন, নর্থ-সাউথ কি একই উদ্দেশ্যে করা হয়েছে? ষ্টেমফোর্ড ইউনিভার্সিটি কি চট্টগ্রাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ মাতানো ব্লগাররা সবাই কোথায় হারিয়ে গেল ?

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৪

ইদানিং সামু ব্লগ ব্লগার ও পোস্ট শূন্যতায় ভুগছে। ব্লগ মাতানো হেভিওয়েট ব্লগাররা কোথায় যেন হারিয়ে গেছেন।কাজের ব্যস্ততায় নাকি ব্লগিং সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আমি কিছু ব্লগারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ৬৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৫



সুরভি বাসায় নাই। সে তার বাবার বাড়ি গিয়েছে।
করোনা ভাইরাস তাকে আটকে রাখতে পারেনি। তবে এবার সে অনেকদিন পর গেছে। প্রায় পাঁচ মাস পর। আমি বলেছি, যতদিন ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ অমঙ্গল প্রদীপ (পাঁচশততম পোস্ট)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:১৪

প্রদীপের কাজ আলো জ্বালিয়ে রাখা।
কিন্তু টেকনাফের একটি ‘অমঙ্গল প্রদীপ’
ঘরে ঘরে গিয়ে আলো নিভিয়ে আসতো,
নারী শিশুর কান্না তাকে রুখতে পারতো না।

মাত্র বাইশ মাসে দুইশ চৌদ্দটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া দেশে চাকরি সংকট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১১ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:২০



গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া সরকার মন্ত্রী পরিষদে কতোজান বিসিএস অফিসার আছেন? তাছাড়া সততার সাথে সোমালিয়া সরকার চাইলেও সঠিক ও যোগ্য মন্ত্রীপদে কতোজন বিসিএস অফিসার দিতে পারবেন?

(ক) মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় - একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×