
ডুগডুগি বাজিয়ে হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালা খেলার মাঠে যাচ্ছেন । কতটা আমোদে নেইমার ভাবেন তো । মাঠে তাকে প্রচন্ড ফাউলের জন্য মুখিয়ে আছে কঠিন প্রতিপক্ষ তিনি সেটা জানেন।
আমার বাঁশির সুরে
ভালোবাসার অচিনপুরে
লাগলো কিরে দোলা?
দখিনের বাতায়ন এসে
জুড়োবে এই প্রাণ
যায়না তারে ভোলা ।

মাঠে সবচেয়ে বেশি ফাউলের স্বীকার
আমায় সবাই মারছো
মেরে মেরে সঙ্গে আবার
গালমন্দ করছো
তোমরা যতই মারো
লক্ষ্য অব্যর্থ আমারো
অগণিত ভক্তের ভালোবাসার রসে
সিক্ত আমায় করছো ।

এটা অভিনয় নয় ।তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত।
এই কী তব বিধান?
যে মেরেছে আমারে
করছো কেবল তুমি
তার রক্ষাবিধান ।

ঈশ্বর আছেন। ঈশ্বর রক্ষা করলেন। গোল হলো।

এইবার কবিতা। কান্নায় ভেঙে পড়লেন নেইমার। কত বাঁধা, কত আঘাত, উল্টো রেফারির চোখ রাঙানো হলুদ কার্ড প্রদর্শন প্রাণে কি আর শয়। কতকিছুর পর কষ্টার্জিত জয়।
নেইমার নিজেই ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে জানিয়েছেন এই কান্না আনন্দের, ‘এখানে (রাশিয়া) আসতে আমি কিসের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, তা সবাই জানে না। এই কান্না আনন্দের, সমস্যা কাটিয়ে ওঠার এবং জয়ের ইচ্ছা প্রকাশের।’
বাজলো খেলা শেষের বাঁশি খেলা শেষে
নেইমার তখন হাঁটুগেড়ে সবুজ মাঠে বসে
বিশ্বকাপ নামের রমনীটারে
ভালোবাসার অর্ঘ্য করিছে নিবেদন
যার দিকে দু'হাত বাড়িয়ে
শত যুবক নিত্য দেখিছে স্বপন ।
দু'চোখে তার অশ্রুকণা
নিজেকে পেয়েছেন ফিরে
বুকে তাঁর লেগেছিল বুঝি সুখের মতন ব্যথা,
সে জানে যেতে হবে তার অনেকদূরে
মনে তার রিনরিনিয়ে বাজে কতো কথা।
বন্ধুর পথ আরো আাছে
স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছতে হলে
আরো অনেক বাঁধা আছে
বিজয়মাল্য সহজে আসে না গলে ।

উচ্ছ্বাস । গোল উৎসব । বিজয়ের উচ্ছ্বাস।
ব্যথায় ব্যথায় জর্জড়িত- আমিতো
তোমার আঘাতে আঘাতে ধূলিধূসরিত
কতোদিন ধরে হেচকা টানে
আটকে দিয়ে - বায়ে ডানে
ধাক্কা দিয়ে দিয়েছো ফেলে সবুজ ঘাসে
সতর্ক করে চোখ রাঙিয়ে
ধমকে দিয়ে চমকে দিয়ে
হলুদ কার্ড দেখিয়ে দিয়ে
লক্ষ্যভেদী শট গুলো একে একে
দক্ষ হাতে- দিয়ে আটকিয়ে
অবশেষে একি দেখি অক্ষি মেলিয়া?
গোলপোস্টটা খোলেই দিলে
আমিও তৃপ্ত গোল দিয়ে।
আমার সব ক্লান্তি গুলি ।
এভাবেই করো হে দূর
ভালোবাসা জাল ফেলিয়া
যৌবনের অনুরাগে তোমার ঐ খানে মৌবনে টেনে
তবে কী সখি এটাই রীতি
সাফল্য গাঁথা অমরগীতির
দারুন সুখ - গোলপোস্ট
পারো যদি দাওনা রেখে যতনে
তোমারটা কেবল আমার লাগি।
--------------------------------------
বিশ্বকাপ ২০১৪ বিশ্বকাপের শুরুতে সেই কি আলোচনা। এবারের বিশ্বকাপ মেসির তথা আর্জেন্টিনার। ব্রাজিলের সমর্থকরা কাপের দাবী জানালে গোলক ধাধা উত্তর রাশিয়ার বিশ্বকাপটা ব্রাজিলের। ২০১৪ তে মেসির শেষ বিশ্বকাপ। পরেরটায় বয়স হয়ে যাবে। খেলার মাঠে মেসিকে অন্য দলের খেলোয়াড়রা পারলে পূজা আর্চনা করে। আর নেইমারের বেলায় ঠিক উল্টো। তার বেলায় ভালো খেলতে মানা। ফাউলের পর ফাউল। রেফারি সেগুলো আমলে নেয়না। ফাউলে ফাউলে জার্মানির বিপক্ষে খেলতেই পারল না নেইমার । ব্রাজিল ৭-১ গোলে হেরে গেলো। নেইমার থাকলে এমনটি হতো না । জার্মানি হারতো। মোদ্দাকথা ব্রাজিলকে বাইরে ফেলে দেয়া হলো। আর্জেন্টিনা রানার আপ। মেসি সেরা খেলোয়াড়। তার অনেক পরে চমকে গেলাম মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছেন। মেসি ফিরলেন কিন্তু পেনাল্টি মিস করলেন। বাজে খেললেন। বাজে খেলে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরোধের চেষ্টাও করলেন না। তার এমন খেলার শর্তে কি এর আগের বিশ্বকাপের সাফল্য? ব্রাজিলের বঞ্চনা আর আর্জেন্টিনার পুরষ্কার। মেসি এখনো ফুটবল গড বাংলাদেশের মানুষের কাছে। আর্জেন্টিনার কাছে নয় । আর্জেন্টিনার মানুষ চায় মেসির অবসর ঘোষণা। জাতীয় দলে মেসি আর না ।
আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ সাংবাদিক ফার্নান্দো নিয়েম্ব্রো জানিয়েই দিয়েছেন, ‘বার্সেলোনার জার্সি গায়ে মেসি যেমন খেলেন, তার কানাকড়িও আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে খেলেন না। মেসির এখন অবসর নিয়ে নেওয়া উচিত। ওর দেশকে দেওয়ার মতো আর কিছু নেই।’সূত্র প্রথম আলো। উল্লেখ্য আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে মেসি অবসর নিলে দেশের প্রেসিডেন্ট এর অনুরোধে তিনি আবার জাতীয় দলে ফিরে আসেন। এখন সেদেশের মানুষের দাবী মেসির অবসর।

অবণীর বুকে
করিতে পারো হে অর্জন
ক্ষণিকের সফলতা,
একদিন তা শেষ হয়ে যায়
সফলতা মিশে যায় অবজ্ঞায়
থাকে পরে শুধু খড়কুটোর মতো ব্যর্থতা।
১৯৮২ এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপেও ব্রাজিল ছিল শক্তিশালী দল ।বিশ্বকাপ জেতার মতো ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




