somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিম আনোয়ার
পেশায় ভূতত্ত্ববিদ ।ভালো লাগে কবিতা পড়তে। একসময় ক্রিকেট খেলতে খুব ভালবাসতাম। এখন সময় পেলে কবিতা লিখি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হল ভালো লাগে খুব। ভালোলাগে রবীন্দ্র সংগীত আর কবিতা । সবচেয়ে ভালো লাগে স্বদেশ আর স্বাধীন ভাবে ভাবতে। মাছ ধরতে

অর্কের আর্জেন্টিনা -নাইজেরিয়া ম্যাচ ও মেসি ভাবনা

২৭ শে জুন, ২০১৮ রাত ১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজকে আমি কয় লাইন লিখবো। হঠাৎ করে অর্কের লেখার ঝোঁক মাথায় চেপে বসেছে। বউ গেছে বাপের বাড়ি আসবে না আর বলে অর্ক শুধু কেঁদেছে এমন কাজ করে নারী কতটা নিষ্ঠুর হলে। দোষ অর্কের। অর্কের বউয়ের শর্ত কবিতা লেখা ছাড়তে হবে । কবিতা লেখা না ছাড়লে সোজা বাবার বাড়ি।গন গনা গন গন কেস। অর্ক শর্ত রাখতে না পারার সঙ্গে সঙ্গে বউয়ের বাবা বাড়ির যাওয়ার সিদ্ধান্ত কোন ভাবেই রুখতে পারেনা অর্ক। বউকে অবশ্য কোন সময়ই থামাতে পারে না। রেলগাড়ির মতো যে ভাবা সেই কাজ। ভুল শুদ্ধ সময় অসময়ের ধার ধারে না অর্কের বউ। অর্ক কবিতা লিখবে না তো কে লিখবে কবিতা।যাইহোক ফলাফল অর্কের বউ বাবার বাড়ি।

একাকি হয়ে যাওয়ার পর সেই কলমই অর্কের মূল ভরসা। অর্ক লিখে বস্তা পচা সব কবিতা। সেগুলোর না আছে পাঠক।না আছে কোন ফ্যান। অর্ক শুধু কানের কাছে করে ক্যান ক্যান। ব্যাটা নাম্বার ওয়ান আতেল। কি নিয়ে লেখা যায়? মাথায় ঘুরছে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা মেসি দুটোই বেশ স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে গেছে। নিজ দল ব্রাজিল নিয়ে ভাববার ফুসরত টুকু মেলছে না। বাংলাদেশের সব মানুষ আর্জেন্টিনা আর মেসি কে নিয়ে ভাবছে। মেসি সাব ভয়াবহ পাপ করে ফেলেছেন। যে পাপের শাস্তি মৃত্যু। তিনি পেনাল্টি মিস করাতে আর্জেন্টিনা ম্যাচ জিততে পারেনি । তারই ধারাবাহিকতায় আর্জেন্টিনার আজ বাঁচা মরার লড়াই। সমস্যা হলো এতাদিন মুখোমুখি দাঁড়াবার বনলতা সেন ছিলেন ব্রাজিল আর্জেন্টিনা । আর এখন হলো মেসি আর আর্জেন্টিনা।

মেসির কট্টর সমর্থক আর্জেন্টিনার কীর্তি কলাপে চরম নাখোশ। আবার আর্জেন্টিনার কট্টর সমর্থকর মেসি নামও শুনতে পারছেনা। বিস্ময়কর ভাবে কট্টর আর্জেন্টিনা মেসিকে করছে অপছন্দ আর মেসির সমর্থক আর্জেন্টিনাকে অপছন্দ করছে। এভাবেই নাটকিয়তা চরমে । এক আর্জেন্টিাইন সমর্থক আক্কাস বলেই বসলো পাতানো খেলা। মেসি ছাড়া অন্য যে কেউ পেনাল্টি শুট নিলে গোল হতো আর আর্জেন্টিনা জিতে যেত। জিতে গেলেই পরের রাউন্ডে খুব সহজেই জায়গা করে নিতে পারতো। সেই সমর্থক বুঝাতে গেলে বুঝতে চায় না। ভয়াবহ খেপা। শাউট করে। তাকে যতই বলা হলো আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে টেনে এনছে মেসি। ব্লা ব্লা ব্লা। তাতে তার রাগ প্রশমন হয় না।অবশেষে এতটুকু বুঝানোর চেষ্টা করা হলো যে দল বাছাই পর্বে কোন মতে টিকে গেছে সেটা বেশি ভালো না করতে পারলে মন খারাপ করতে নেই। কে শুনে কার কথা। তার অবস্থান স্পষ্ট মেসি একটা মাফিয়া অপশক্তি। তার অপসারণ না হলে আর্জেন্টিনা ভালো খেলবে না। আর্জেন্টিার অন্য এক সমর্থক রহিম মিয়ার মতে আজকে ফুটবলের জন্য হলেও আর্জেন্টিনার জেতা উচিৎ। অবশ্য অর্কের চাছা ছোলা কথা তাকে খুশি করতে পারে না। মুখের উপর অর্ক বলে দিয়েছে ফুটবলের স্বার্থে জিততে হলে নাইজেরিয়ার জেতা উচিৎ। আর বাংলাদেশের মেসি ভক্তদের খুশির জন্য মেসির ভালো খেলা আর আর্জেন্টিনা জেতা আবশ্যক। ফটবলের স্বর্থে নয়।

অর্কের মনে আশংকা আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি মেসিকে ঘিরে। অর্কের মেসির জন্য খুব মায়া লাগছে। ৯০এর বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার এসকোবার আত্নঘাতি গোল দেয়ায় প্রাণ হারাতে হয়েছিল। এবার মেসি যা করেছে সেটিও কম অপরাধ নয় । মেসিকে বাঁচানোর জন্য বোধহয় রোনাল্ডো পেনাল্টি মিস করেছে ইরানের সঙ্গে। তাতেও যদি মেসির রক্ষা হয় । মেসি একটি গোল করে ফেললেও ক্ষোভ কিছুটা প্রশমন হবে। নাইজেরিয়ার উচিৎ খেলায় মেসিকে একটা গোল দিতে দেয়া । খেলার ১৪ মিনিটের মধ্যে মেসি গোল করেছে।অর্ক মনে মনে দোয়া করেছে আজকের খেলায় আর যা হোক কোন পেনাল্টি যাতে না হয়। পেনাল্টি পেলে মেসি যদি আবারো মিস করে। তাহলে মরা ছাড়া তার আর গতি থাকবে না। অন্য কোন খেলোয়াড় পেনাল্টি মিস করলেও মেসির ঘাড়ে দোষ চাপবে। মেসি আবার চাপের মুখে ভেঙে পড়ে। আর এখন শুধু চাপ আর চাপ। দলের স্বার্থে নিজের স্বার্থে ভালো খেলার বিকল্প নেই মেসির। অর্ক কবিতা লিখে

জন্ম থেকে জ্বলছি একা একা
৩২ বছর হয়ে গেলে নেই কাপের দেখা
বাছাই পর্বের সেরা সেরা মোরা
চূড়ান্ত পর্বে হারিয়ে ফেলি খেই
আর্জেন্টিনা দলের ব্যথার অন্ত নেই
।

অর্ক মনে মনে প্রমোদ গনে। আচ্ছা মেসি যাদের রক্তে মিশে গেছে তাদের বউ কি চলে যাবে? কিংবা আর্জেন্টিনা যাদের রক্তে। যায়না বোধ হয়। কিসের মধ্যে কী পান্তা ভাতে ঘি। মরক্কো যে খেলা খেলেছে স্পেনের বিরুদ্ধে স্পেন জীবনে এমন খেলা দেখেছে কি না সন্দেহ। আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ফুটবলের বিতর্কের চেয়ে উপভোগ্য আর কিছু এমুহুর্তে পৃথিবীতে এক্সিস্ট করে না। আর্জেন্টিনা হারলে এর সমর্থকরা জার্মানির সমর্থন করবে। স্রষ্টার খেলা বুঝা বড় দায়। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জার্মানির কৃতিত্ত্ব সেভেন আপ বন্দনা করতে করতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ললাটে জার্মানির সমর্থন করার ব্যাপারটি স্রস্টা চাপিয়ে দেন কিনা কে জানে? সেখানেও রক্ষা নেই জার্মানির রক্ষণ ভাগ নেই বললেই চলে। দেখা যাবে ব্রাজিলের সঙ্গে জার্মানির খেলা পড়লে ওল্টো জার্মানি ৭টি গোল খেয়ে বেসামাল হয়ে পরেছে। আর ব্রাজিল তার প্রতিশোধ নিয়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিয়ে দিয়েছে । অর্কের বউ অসুস্থ। ব্রাজিলের সমর্থক। তার সুস্থ থাকা ও মানসিক প্রশান্তির জন্য ব্রাজিলের জেতা উচিৎ। লিখবে না লিখবে না করেও আরও লিখে অর্ক ।বস্তাপচা কবিতা ।

কবিতা ভালোবাসা বুঝলে না,
মনের মানুষ খুঁজলে না,
এখনই শেষ সময়,
কাছে এসে ভালোবেসে কবির হৃদয়
করো হে বাঙময় !!!


বারোটা বেজে গেছে। খেলা শুরু হয়ে গেছে। খেলা দেখতে হবে। নাইজেরিয়া-আর্জেন্টিনা ম্যাচ অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
(আর্জেন্টিনা ভালো খেলছে বিধায়(১-০ তে এগিয়ে) আর্জেন্টিনাকে কিঞ্চিৎ খোঁচা দেয়া হলো। ভামোস আর্জেন্টিনা। (মেসি বাঁচলেন আমাদের বাচালেন আর্জেন্টিনা বাঁচলো রেফারির দয়ায় ২-১ গোলে #:-S )


সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০১৮ রাত ৩:৫০
১৫টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা অপরাধ দশটা অপরাধের সুযোগ করে দিতে পারে ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


রাড্ডা হাসপাতালে লুটপাট
ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে গেছে! গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ১৫০-২০০ জন দুর্বৃত্ত রাড্ডা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×