হে ক্ষণিকের অতিথি,
গৃহবন্দি থাকে না পৃথিবী,
আপন কক্ষপথে অবিরাম ছুটে চলে
সুষম তার গতি,
ভেবো না তুমিই অধিপতি,
মক্কার তাওয়াফ বন্ধ হয়ে গেছে
আলোক ঝলমলে নিউইয়র্ক এখন মৃত্যুপুরী
প্যারিসের চোখ ধাঁধানো স্থাপত্য
দর্শনে নেই কোন দর্শনার্থী, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি
পাওলো পিকাসোর মাইকেল এঞ্জেলোর সব সৃষ্টি
অর্থহীন মনে হয়
ইতালির কলোসিয়াম, দিল্লির তাজমহল
এখন জনশূন্য,
স্প্যানিশ ফুটবল টুর্নামেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে
লন্ডনে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী এ যাত্রা বেঁচে গেলেন
ইতালির প্রধানমন্ত্রী তাকিয়ে আছেন
শূন্য আকাশের দিকে
সেখান থেকে যদি কোন মুক্তির বার্তা আসে।
আর কোন আশা নেই অবলা পৃথিবীর বুকে।
ফিলিপাইনে সরকারের কঠোর নির্দেশ
পথে দেখলেই গুলি,
চাইনিজ ভাইরাস খেলে যায় বউচি ডাংগুলি
হে ক্ষণিকের অতিথি হয়তো কোন দিন
নতুন সূর্য আবারও ছড়াবে দ্যুতি
তবুও তো
এখনকার আলীঙ্গনে মৃত্যুর পরোয়ানা,
এখনকার চুম্বনে ক্ষুধার্ত হায়েনা,
এখনকার সঙ্গমে সীমাহীন দূর্গতি।
এখনকার রাজপথে হাটে বাজারে জনসমাগমে
যমদূতের নিত্য আনাগোনা,
হে ক্ষণিকের অতিথি জীবনটা ক্ষুদ্র অতি
পনের দিনেই যেন শেষ হয়ে যাবে গোটা পৃথিবী,
কোভিড নাইনটিন অদৃশ্য শত্রু মানবজাতির
কুকুর ছানাটি ক্রোড়ে করে পরম আদরে
এখন আর কেউ করে না তারে
অন্ন পরিবেশন,
ক্ষুধা আর হানাহানি এখন নিত্য আয়োজন।
হে ক্ষণিকের অতিথি,
এখন গৃহবন্দি মানব জীবন
এখন আর তোমার নেই গুরুত্ব কোন
পূর্ণিমার চাঁদ তুমি খুঁজো না এখন,
অক্সিজেনের ঘাটতি মনে হলে
ভেবে নিও সময় ঘণিয়ে এসেছে
রিক্ত হাতে ছেড়ে যেতে হবে এখন
ভালোবাসার পৃথিবী।
হে ক্ষণিকের অতিথি, হয়তো সিরিয়ার শিশুটি
বলে দিয়েছে আল্লাহর কাছে
তার সব অভিযোগ;
হয়তো ফিলিস্তিনের মজলুমের ক্রন্দন রোল
পৌঁছে গেছে স্রষ্টার দরবারে,
হয়তো কাশ্মীরের নব্বই হাজার মানুষের লাশ হাজার হাজার নিষ্পাপ রমনীর শ্লীলতাহানি মজলুমের ফরিয়াদ পৌঁছে গেছে কুন ফায়াকুনের মালিকের কাছে,
হে ক্ষণিকের অতিথি হয়তো কাশ্মীরের সুদীর্ঘ সাতমাসের লকডাউনে নিপীড়িত নাফিসা ওমরদের প্রার্থনা মোতাবেক স্রস্টার চলিছে ছবক দান সুষ্পস্ট বুঝিয়ে দিতে লকডাউন
কতটা মর্মান্তিক, বুঝিতে চাহিলেনা
যুদ্ধের ভয়াবহতা অসহায় নির্যাতিত বন্দী নারী ও শিশুর ক্ষুধার্ত পাষাণ পৃথিবী, ভোগ বিলাসিতায় মত্ত থেকে বুঝোনি হায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত মানুষের করুণ পরিনতি সীমাহীন দূর্গতি।
হে ক্ষণিকের অতিথি, বুঝবে এখন।
এই সব বিলাসিতা ধন সম্পদ খুবই সাময়িক
সময় কত মূল্যবান কত মূল্যবান জীবন
গৃহবন্দি মানুষের মন,
বদ্ধ খাঁচায় বন্দী প্রাণি যেন
ইউরোপ আমেরিকা এশিয়া আফ্রিকা..
অসহায় মানুষের একই অনুভূতির সম্মিলিত একটি পৃথিবী এখন।
এখন আর কেউ নেই মানুষের শাসিত শোষিত অত্যাচারে নিষ্পেষিত ।
জনসেবা এখন
মানুষের ধর্ম তবু তো তারা গৃহবন্দি
কোভিড নাইনটিনের করাল আঘাতে
পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয়
লকডাউন মনটাউন।
পৃথিবীর সব পরাশক্তি
এখন সব থেকে বেশি
নিষ্পেষিত নিপীড়িত অসহায়
বাতাসে যেন ভেসে আসে
অসহায় মানুষের ক্রন্দন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




