somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিম আনোয়ার
পেশায় ভূতত্ত্ববিদ ।ভালো লাগে কবিতা পড়তে। একসময় ক্রিকেট খেলতে খুব ভালবাসতাম। এখন সময় পেলে কবিতা লিখি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হল ভালো লাগে খুব। ভালোলাগে রবীন্দ্র সংগীত আর কবিতা । সবচেয়ে ভালো লাগে স্বদেশ আর স্বাধীন ভাবে ভাবতে। মাছ ধরতে

হে ক্ষণিকের অতিথি বুঝবে এখন!!!!

১৫ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হে ক্ষণিকের অতিথি,
গৃহবন্দি থাকে না পৃথিবী,
আপন কক্ষপথে অবিরাম ছুটে চলে
সুষম তার গতি,
ভেবো না তুমিই অধিপতি,
মক্কার তাওয়াফ বন্ধ হয়ে গেছে
আলোক ঝলমলে নিউইয়র্ক এখন মৃত্যুপুরী
প্যারিসের চোখ ধাঁধানো স্থাপত্য
দর্শনে নেই কোন দর্শনার্থী, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি
পাওলো পিকাসোর মাইকেল এঞ্জেলোর সব সৃষ্টি
অর্থহীন মনে হয়
ইতালির কলোসিয়াম, দিল্লির তাজমহল
এখন জনশূন্য,
স্প্যানিশ ফুটবল টুর্নামেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে
লন্ডনে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী এ যাত্রা বেঁচে গেলেন
ইতালির প্রধানমন্ত্রী তাকিয়ে আছেন
শূন্য আকাশের দিকে
সেখান থেকে যদি কোন মুক্তির বার্তা আসে।
আর কোন আশা নেই অবলা পৃথিবীর বুকে।
ফিলিপাইনে সরকারের কঠোর নির্দেশ
পথে দেখলেই গুলি,
চাইনিজ ভাইরাস খেলে যায় বউচি ডাংগুলি
হে ক্ষণিকের অতিথি হয়তো কোন দিন
নতুন সূর্য আবারও ছড়াবে দ্যুতি
তবুও তো
এখনকার আলীঙ্গনে মৃত্যুর পরোয়ানা,
এখনকার চুম্বনে ক্ষুধার্ত হায়েনা,
এখনকার সঙ্গমে সীমাহীন দূর্গতি।
এখনকার রাজপথে হাটে বাজারে জনসমাগমে
যমদূতের নিত্য আনাগোনা,
হে ক্ষণিকের অতিথি জীবনটা ক্ষুদ্র অতি
পনের দিনেই যেন শেষ হয়ে যাবে গোটা পৃথিবী,
কোভিড নাইনটিন অদৃশ্য শত্রু মানবজাতির
কুকুর ছানাটি ক্রোড়ে করে পরম আদরে
এখন আর কেউ করে না তারে
অন্ন পরিবেশন,
ক্ষুধা আর হানাহানি এখন নিত্য আয়োজন।
হে ক্ষণিকের অতিথি,
এখন গৃহবন্দি মানব জীবন
এখন আর তোমার নেই গুরুত্ব কোন
পূর্ণিমার চাঁদ তুমি খুঁজো না এখন,
অক্সিজেনের ঘাটতি মনে হলে
ভেবে নিও সময় ঘণিয়ে এসেছে
রিক্ত হাতে ছেড়ে যেতে হবে এখন
ভালোবাসার পৃথিবী।

হে ক্ষণিকের অতিথি, হয়তো সিরিয়ার শিশুটি
বলে দিয়েছে আল্লাহর কাছে
তার সব অভিযোগ;
হয়তো ফিলিস্তিনের মজলুমের ক্রন্দন রোল
পৌঁছে গেছে স্রষ্টার দরবারে,
হয়তো কাশ্মীরের নব্বই হাজার মানুষের লাশ হাজার হাজার নিষ্পাপ রমনীর শ্লীলতাহানি মজলুমের ফরিয়াদ পৌঁছে গেছে কুন ফায়াকুনের মালিকের কাছে,
হে ক্ষণিকের অতিথি হয়তো কাশ্মীরের সুদীর্ঘ সাতমাসের লকডাউনে নিপীড়িত নাফিসা ওমরদের প্রার্থনা মোতাবেক স্রস্টার চলিছে ছবক দান সুষ্পস্ট বুঝিয়ে দিতে লকডাউন
কতটা মর্মান্তিক, বুঝিতে চাহিলেনা
যুদ্ধের ভয়াবহতা অসহায় নির্যাতিত বন্দী নারী ও শিশুর ক্ষুধার্ত পাষাণ পৃথিবী, ভোগ বিলাসিতায় মত্ত থেকে বুঝোনি হায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত মানুষের করুণ পরিনতি সীমাহীন দূর্গতি।
হে ক্ষণিকের অতিথি, বুঝবে এখন।
এই সব বিলাসিতা ধন সম্পদ খুবই সাময়িক
সময় কত মূল্যবান কত মূল্যবান জীবন
গৃহবন্দি মানুষের মন,
বদ্ধ খাঁচায় বন্দী প্রাণি যেন
ইউরোপ আমেরিকা এশিয়া আফ্রিকা..
অসহায় মানুষের একই অনুভূতির সম্মিলিত একটি পৃথিবী এখন।
এখন আর কেউ নেই মানুষের শাসিত শোষিত অত্যাচারে নিষ্পেষিত ।
জনসেবা এখন
মানুষের ধর্ম তবু তো তারা গৃহবন্দি
কোভিড নাইনটিনের করাল আঘাতে
পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয়
লকডাউন মনটাউন।
পৃথিবীর সব পরাশক্তি
এখন সব থেকে বেশি
নিষ্পেষিত নিপীড়িত অসহায়
বাতাসে যেন ভেসে আসে
অসহায় মানুষের ক্রন্দন।
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×