somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সজীব সিরিজঃ মন খারাপের আঁধার

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

- তুমি কোথায়?
- বসে আছি। পার্কে।
- কি কর?
- একটা চোরের সাথে কথা বলছি।
- মানে কি?
- মানে আমার সামনে একটা চোর বসে আছে। আমি তার সাথে লেকের পাড়ে বসে কথা বলছি।
- তাই?
- হ্যাঁ। জানো, আমি এই প্রথম আমি কোন চোরকে স্বীকার করতে দেখলাম সে চোর। আচ্ছা আমার চেহারার মধ্যে কি কোন জজ সাহেব রকম ভাব আছে, যে এই লোককে আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি করেন? সে বলে দিল, চুরি করে।
- না, তোমার চেহারায়ও চোর চোর ভাব আছে। সহজাতির কাছে, স্বীকার করতে তার অসুবিধা ছিল না।
- অর্পা তুমি কি আমার উপর রেগে আছ?
- নাহ। তোমার উপর আমি খুব খুশি।
- আচ্ছা। তাই বল। আমি ভাবলাম, তুমি আমার উপর রাগ করে আছ। আচ্ছা শোন, এই চোর লোকটা কাল কি চুরি করছে জানো? সে চুরি করছে, জুতা। কোথা থেকে শোন? মসজিদ থেকে। মসজিদ থেকে এক বড় লোকের জুতা নিয়ে, নিজের ছেঁড়া জুতা রেখে আসছে। এ নাকি এমন ছোট ছোট চুরি করে। এর নাকি কোন টাকা পয়সার অভাব নাই। চুরি করতে তার ভাল লাগে।
- আর কি কি বলল?
- আরও অনেক কিছু বলল। সে তার মোবাইল দেখাল। আমার থেকে অনেক দামী মোবাইল। আমার মোবাইলে তো ছবি উঠে ঘোলা ঘোলা। আর মোবাইলে ফ্ল্যাশ আছে। আমার একটা ছবি তুলে দিয়েছে। একদম চকচকা ছবি। সে বলেছে, তোমার সাথেও একটা ছবি তুলে দিবে।
- আমার সাথে মানে? আমাকে চিনে কি করে?
- না তার সাথে প্রেম ভালবাসা নিয়েও কথা হল। তারও একটা ভালবাসার মানুষ আছে। আমার যেমন তুমি। তার ভালবাসার মানুষটার নাম তিতলি। কত সুন্দর নাম। তার নামটাও সুন্দর। তার নাম ধ্রুব। একটা চোরের নাম ধ্রুব, এটা কিছু হয়?
- হুম বুঝলাম।
- আর শোন, আর ভালবাসার মানুষ জানে না সে চুরি করে। ভালবাসার মানুষের কাছে নাকি কখনও, খারাপ দিকের কথা বলতে হয় না। সবসময় নিজেকে অন্য সবার থেকে, ভাল দেখাতে হয়।
- একটা চোর তোমাকে ভালবাসা শেখাচ্ছে?
- কেন, চোরদের কি ভালবাসার অধিকার নাই?
- হ্যাঁ আছে।
- আমি তার মোবাইল নাম্বার নিলাম। মাঝে মধ্যে কথা বলব।
- কি কথা?
- তাকে আমি জিজ্ঞেস করলাম, ভাই আপনি ভদ্র মানুষ। দেখতে শুনতেও ভাল মানুষ। চুরি করেন কেন? নিজেরে চোর ভাবতে ভাল লাগে? সে বলে, চুরি করা নাকি খুব আনন্দের বিষয়। চুরি করা একটা আর্ট। আমাকে নিয়ে একদিন সে চুরি করতে যেতে চায়। চুরি যে খুব আনন্দ দায়ক জিনিস সেটা দেখাবে। আমি রাজি হয়েছি, একদিন তার সাথে চুরি করতে যাব। সেই ব্যাপারে যোগাযোগ করব। তবে সমস্যা হল ধরা পড়লে তো হাত পা ভেঙে দিবে।
- সজীব।
- বল।
- তুমি এসব উল্টাপাল্টা কথা বলা বাদ দিবে?
- আচ্ছা যাও বাদ।
- তোমার মনে আছে, তুমি কি বলছিলা?
- কি বলছিলাম?
- আজ বিকেলে কি করার কথা?
- ও ও তোমার সাথে দেখা করতে যাবার কথা।
- তা তুমি এখন কি করতেছ?
- না মানে তুমি তো......
- আমি তো কি? আমার সাথে বিকাল বেলা দেখা করতে আসার কথা। তা বাদ দিয়ে তুমি বসে বসে একটা চোরের সাথে গল্প করতেছ। তার সাথে ছবি তুলতেছ। আবার নিজে চুরি করার পরিকল্পনা করতেছ।
- আমি তো আসতাম। তুমিই তো বললে যে, আসতে হবে না।
- আমি কি বলছিলাম?
- আমি বললাম, দেখা করব। তুমি বললে, পারব না করতে দেখা।
- আমি না করছি আর আসবে না? আমি সেই কখন থেকে রেডি হয়ে বসে আছি। আশা করে আছি তুমি এসে বলবে, আমি তো আসছি, তুমি কি দেখা করবে? তুমি আসলে আমি না দেখা করে থাকতাম? আমি না করছি, আর আসবে না? আমি রাগ করে বলছি, তাও বুঝ না?
- আচ্ছা। সরি। বুঝতে পারি নাই। এখন আসছি, আচ্ছা?
- না। আমি তোমার সাথে দেখা করব না। তুমি থাক ঐ চোর নিয়ে।
- অর্পা।

এপাশ থেকে অর্পা অর্পা করে যায় সজীব। ওপাশে নীরবতা। লাইন কেটে দিয়েছে অর্পা। আবার রাগ করল। এতক্ষণ বসে বসে কথা শুনল ধ্রুব। চোর মানুষটা। সজীবের দিকে তাকিয়ে বলল, ভাই সমস্যা কোন?
- রাগ করছে ভালবাসার মানুষ।
- ব্যাপার না। করতেই পারে। ঠিক হয়ে যাবে। যত দূরে রাখতে চাইবে তত কাছে থাকবেন। কত দূরে রাখবে বলেন? ভালবাসে তো। কেউ অনেক কাছে থাকলে, একসময় তার প্রতি এমনিই ভালবাসা চলে আসে।
- ভাই, কোন পর্যন্ত পড়াশুনা করছেন?
- অনার্স করেছি পদার্থ বিজ্ঞানে।
- আপনি পদার্থ বিজ্ঞানে অনার্স করে চুরি করেন?
- ভাল লাগে ভাই। আমার কথা বাদ দেন। যা বললাম মাথায় রাখবেন। যান, ভালবাসার মানুষটাকে ঠিক করেন।
- আচ্ছা ভাই দেখি। আসি তাহলে চোর ভাই। আপনি কি আমার সাথে যাবেন?
- না, আপনার সাথে গিয়ে আমি কি করব? আমি একটু পর সামনের দোকানে ভিড় হলে, সিঙ্গারা খাব চুরি করে। খেতে ইচ্ছা করছে খুব।

সজীব হাঁটতে শুরু করল। অর্পার কাছে যাবে। রাগ ভাঙাতে যাবে। কাছে কাছে থাকলে ভালবাসা এমনিই বাড়বে। রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই দেখল, এক পিচ্চি রাস্তার ময়লার মধ্যে গড়াগড়ি খাচ্ছে।সজীব সেই পিচ্চিটার কাছে গিয়ে বলব, কি ব্যাপার কি করিস রে?
- গড়াগড়ি খাই।
- কেন?
- ভাল লাগে।
- এর মধ্যে ভাল লাগার কি আছে?
- খেয়ে দেখেন। তাহলেই বুঝবেন।

সজীব একবার ভাবল, একটু গড়াগড়ি খেয়ে দেখবে নাকি? ভাল লাগতেই পারে। আবার ভাবল, না থাক অর্পার রাগ ভাঙাতে যাক। হাঁটতে হাঁটতে যেতে দেখল, তিন চারটা কুকুরের বাচ্চা নিজেদের মধ্যে কামড়া কামড়ি করছে। ঝগড়া করছে। হয়ত ভাল লাগছে। আসলেই চারপাশে ভাল থাকার কত উপাদান। ইচ্ছে করলেই একটা জিনিস নিয়ে ভাল থাকাই যায়। শুধু শুধু মন খারাপের জায়গা দেবার কি দরকার মনে? আজ অর্পার রাগ ভাঙার পর অর্পাকেও বলবে, ভাল থাকার জিনিস গুলোর কথা। অর্পা মেয়েটা হুটহাট রাগ করে মন খারাপ করে বসে থাকে। সজীবের তাতে মন খারাপ হলেও, একটু পরেই কিছু না কিছু দিয়ে ভাল হয়ে যায়। ঠিক না। ভালবাসার মানুষের মন খারাপে নিজেরও মন খারাপ করে থাকা উচিৎ। কিন্তু সজীব পারে না। কেন যেন মন খারাপ করে বেশিক্ষণ থাকতে পারে না। তাই ভেবে নিল, নিজের মন ভালর ব্যাপারটা ছড়িয়ে দিবে অর্পার মাঝে। দল বেধে মন খারাপ করে থাকার চেয়ে, দল বেধে মন ভাল করে থাকা ভাল। দুজন মিলে মুখ গোমড়া করার চেয়ে, দুজন মিলে হাসবে। সেই তো বেশ।

চুপিচুপি মেঘেদের আনাগোনা শুরু হয়ে গিয়েছে আকাশে। ঝিরিঝিরি বা ঝুম বৃষ্টি হবে হয়ত। সজীব সেই বৃষ্টির মাঝেও খুঁজবে ভাল লাগার কিছু। অর্পার রাগ ভাঙাবার কিছু। একটা ছাতার নিচে গুটিসুটি মেরে দুজন হাঁটলে হয়ত অর্পার মন ভাল হবে। নয়ত অর্পাকে বলবে, চল কাদায় গড়াগড়ি খাই। কিংবা দুজন মিলে একটু ঝগড়া করি, বা এক দোকান থেকে চা খেয়ে পালিয়ে যাই। একটু চল ভাল থাকি। ভাল থাকার কত কিছু চারপাশে।

ভাল থাকার জিনিস গুলো চারপাশে থাকেই। একেক জনের ভাল থাকার ধরণ গুলো একেক রকম। এই অনেক রকম ভাল থাকা গুলো থেকে, একটা নিয়ে ইচ্ছা করলেই ভাল থাকা যায়। মন খারাপের গুমোট অন্ধকার সরিয়ে দেয়া যায়। আঁধার সরাতে শুধু রোদ লাগে তা না। চাঁদের আলোও অনেক মিষ্টি। রাস্তার পাশের ল্যাম্পপোস্টেও আঁধার সরে যায়। কিংবা ছোট একটা মোমবাতি, দেয়াশলাইয়ের কাঠির আগুনে, সরিয়ে দিতে পারে আঁধার। মন খারাপের আঁধার। রোদের অপেক্ষায় সময় গুলো শুধু আঁধারে কাটে না। ইচ্ছা করলেই আঁধার গুলো সরিয়ে দেয়া যায়। ইচ্ছা করলেই ভাল থাকা যায়।

( সজীব সিরিজের গল্প গুলোতে কিছু নেই, সেটা আমিও জানি। থাকার কথাও নয়। তবুও কোন এক অকারণ কারণে সেই সিরিজের গল্প গুলো লেখার সময়, মনটা ভাল থাকে। সে ভাল থাকাটা আমার কাছে বড় দামী। বড্ড বেশীই দামী। এটি ছিল সজীব সিরিজের প্রথম গল্প। )
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট টেলিফোন কম্পানি হলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



গত ব্লগে টেলিফোন নিয়ে বলেছিলাম। মোবাইল থেকে টেলিফোনে কল দেওয়া বা রিসিভ করা যেতো না। শুধু টিএনটি একটিভ করা সিমে টেলিফোনে কল করা যেতো। বা টেলিফোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×