somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও ছাত্রলীগের নেতা তিনি ,আছে চাঁদাবাজির অভিযোগও

০২ রা মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হুবহু তুলে দিলাম
সূত্র: প্রথম আলো (02/03/2010)

তিনি এখন ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) শিক্ষক। এখনো ছাত্রলীগের পদ ছাড়েননি তিনি। বরং দাপটের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক।
শিক্ষক ও ছাত্রনেতার দুটো পদ অলংকার করা এই ছাত্রনেতার নাম অমিত চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে বুয়েটের নজরুল ইসলাম হলের ক্যানটিনের তত্ত্বাবধায়ক লিখিতভাবে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেছেন। এরপর ক্যানটিনটি বন্ধ করে দেন ছাত্রলীগের নেতারা।
ডুয়েটে সূত্রে জানা গেছে, পুরকৌশল বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য সিন্ডিকেট যে তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে, এর মধ্যে অমিত কুমার ছিলেন দ্বিতীয় অবস্থানে। প্রথম জনকে বাদ দিয়ে অমিতকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন অমিত চক্রবর্তী।
ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান, ওই নিয়োগ বোর্ডের সদস্য মো. শওকত ওসমান প্রথম আলোকে প্রথম জনকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে জানান, ওই প্রার্থী ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছিলেন। কিন্তু অমিত পুরকৌশল বিভাগ থেকে পাস হওয়ায় তাঁকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনেকের ফল অমিতের চেয়ে ভালো থাকা সত্ত্বেও অমিত কেন নিয়োগ পেলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মৌখিক পরীক্ষায় অমিত ভালো করেছিলেন।
ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম সবদার আলী প্রথম আলোকে জানান, সবার মতামতের ভিত্তিতেই অমিতকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অমিত শিক্ষক হিসেবে এখানে যোগও দিয়েছেন।
এদিকে গত মঙ্গলবার অমিত কুমার চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ করেন বুয়েটের নজরুল ইসলাম হলের ক্যানটিন তত্ত্বাবধায়ক মাকসুদুর রহমান। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি, বুয়েটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও নজরুল ইসলাম হলের প্রাধং্যক্ষের কাছে পৃথক চারটি অভিযোগপত্র দেন তিনি। এতে তিনি বলেন, ১৭ জানুয়ারি নজরুল ইসলাম হলের ক্যানটিন খোলা ও নিরাপত্তার বিপরীতে মাসিক ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার চক্রবর্তী ও ড. এম এ রশিদ হলের সাবেক ছাত্র মতিউর রহমান শামীম। পরে তা ১০ হাজার টাকায় রফা হয়। সে অনুযায়ী তিনি ওই টাকা শহীদ স্মৃতি হলের ২৩০৯ নম্বর কক্ষে গিয়ে দিয়ে আসেন। লিখিত এ অভিযোগ দেওয়ার পর বুধবার রাতে ছাত্রলীগের নেতারা ক্যানটিনে গিয়ে তাঁকে হুমকি দেন। এরপর ভয়ে ক্যানটিন ছেড়ে চলে যান তিনি।
মাকসুদুর রহমান বলেন, ১৯৬৩ সাল থেকে তাঁর পরিবারের কেউ না কেউ এই ক্যানটিনটি চালিয়েছেন। বাবা মারা যাওয়ার পর পাঁচ বছর ধরে তিনি ক্যানটিনটি চালাচ্ছেন। কিন্তু ছাত্রলীগের চাঁদাবাজির কারণে নানা পরিস্থিতিতে আর পারছেন না। বরং বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভয়ে তিনি ডুয়েটে যেতে পারছেন না। তবে কারা হুমকি দিচ্ছে, তিনি সে নামগুলো প্রকাশ করতে সাহস পাননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অমিত চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কখনো নোংরা রাজনীতি করেননি। আর এটা করলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারতেন না। শিক্ষক হওয়ার পরও কেন পদত্যাগ করছেন না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের তিনি এ বিষয়ে জানিয়েছেন। তাঁরাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।
তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান বলেন, ‘অমিত বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন, সেটি জানাননি। আর শিক্ষক হওয়ার পর তাঁর এমনিতেই পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। তিনি যদি একবারও বলেন যে পদ ছাড়তে চান, অবশ্যই তা গ্রহণ করা হবে।’
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:২৫
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×