somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভিতে এডিয়ে যাওয়া কিছু না বলা কথা - রিচার্ড পার্কার' নামকরণের সত্য ঘটনা

০৯ ই আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৩:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



'মুভিটি দেখেনি এই রকম মানুষ খুব কমই আছে বলে মনে হয় । সৌভাগ্যক্রমে আমি সে সংখ্যালঘুদের মধ্যে নেই । ঘটনাক্রমে 'ইয়ান মারটেল'-এর 'লাইফ অফ পাই' বইটি আমার হাতে আসে । যদিও আগে থেকে জানা ছিল 'লাইফ অফ পাই' মুভিটি ২০০২ সালের বুকার পুরস্কার প্রাপ্ত 'লাইফ অফ পাই' বা 'পাইয়ের জীবন' থেকে অনুসারিত । তবে যেটা জানা ছিল না সেটা হল বইটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত এবং ... রিচার্ড পার্কার নামের রয়েল বেঙ্গল টাইগারটি একসময় সত্যি সত্যি অস্তিত্বশীল ছিল । যাকে বাংলাদেশের সুন্দরবন থেকেই ধরা হয়েছিল । কেবল তাই নয় - তাকে ধরা আর রির্চাড পার্কার নামকরণের এক অসাধারণ কাহিনী আছে । যা মুভিতে খুব স্বাভাবিকভাবেই এড়িয়ে গেছে । প্রকৃতপক্ষে মুভি দেখাটাই যথেষ্ট নয় বরঞ্চ মুভির পেছনের কাহিনীটি জানাটা মুভি দেখার সার্থকতা । কাহিনীটি নিম্নরূপ -


.
সময় আনুমানিক ১৯৭৪ সাল । সুন্দরবনের কোল ঘেষে এক মেহেদী রাঙা রমনীর লাশ পাওয়া যায় । রমনীটি ছিল এক মানুষখেকো চিতাবাঘের ৭ম শিকার । চিতাবাঘটির দৌরাত্ম্য ছিল বিভীষিকাময় । একে একে আরো অনেকেই চিতাবাঘটির হাতে মারা যায় যাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়ে । তারা এক পেশাদার শিকারী নিয়োগ করে । শিকারীটি শেষ দুই শিকারের দেহাবশেষ যেখানে পাওয়া গিয়েছিল , তার কাছে এক নদীর তীরের একটি গাছে মাচা বানিয়ে একটা ছাগল বেঁধে রেখে অপেক্ষা করতে শুরু করেন । এইভাবে কয়েকটা রাত কেটে যায় ।
.
এক রাতে দেখা গেলো এক অল্পবয়সী মাদী বাঘ এসেছে । সাথে তার শাবক । অনুমানিক ৩ মাস বয়স । বেড়ালছানাটি অবাক কাজ করলো । সে ছাগলটির দিকে তাকালোই না বরঞ্চ দ্রুত দৌড়ে গিয়ে নদীর তীরে পানি পান করতে শুরু করলো । যেন তার ভীষণ তেষ্টা পেয়েছে । অগত্য বেড়ালের মাকেও তাই করতে হলো । এই ব্যবহার প্রমাণিত হলো বাঘটি মানুষখেকো নয় । তাই শিকারীটি বন্দুক থেকে মাদী বাঘটির গায়ে অজ্ঞান করার ডার্ট ছুঁড়ে দিলো । পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় মাদী বাঘটিকে বেহুশ অবস্থায় ধরা গেলো আর তার ভীত সন্ত্রস্ত শাবকটিকেও খুঁজে বের করা গেলো । শিকারীটির নাম ছিল রিচার্ড পার্কার । তিনি ছোট বিড়ালছানাটিকে কোলে তুলে নিলেন । শিকার ছেড়ে দৌড়ে নদীর পানি পান করার সেই দৃশ্যের কথা স্মরণ করে তার নাম দিলেন থার্স্টি । এইভাবে দুই মা-ছেলের জায়গা হয় ভারতের পন্ডিচেরি চিড়িয়াখানায় । তবে কলকাতার এক গর্দভ শিপিং ক্লার্ক একটা গোলমাল পাকিয়ে ফেলে । সে শাবকটির নামের জায়গায় লিখে রিচার্ড পার্কার আর শিকারীটির নাম লিখে থার্স্টি এবং পারিবারিক পদবী লিখে 'নান গিভেন' । সে হতে 'থার্স্টি' হয়ে গেলো 'রিচার্ড পার্কার' আর নামটি দ্যা গ্রেট রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জন্য নিঃসন্দেহে মানানসই । কে জানতো একদিন এই প্যানথেরা টাইগ্রিসটিকে পেসিফিক ওসানের এক গ্রেট এডভেঞ্চারে সাক্ষী হবে । :-)


.
আর হ্যাঁ । সেই 'থার্স্টি নান গিভেন' (!) নামক শিকারীটি মানুষখেকো চিতাবাঘটিকে মারতে পেরেছিলেন কিনা জানা নেই । :-)
.
বিঃদ্রঃ - নেটে এই অবিশ্বাস্য কাহিনীর সত্যতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুললেও লেখকের দাবী মতে ঘটনাটি সত্য এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে লেখকের কাহিনী বিশ্বাস করছি । কারণ এটা ভাবতে শিহরিত হতে হয় এই রকম একটা ঘটনা ঘটেছে :-)

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৩:১৯
৮টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ১৭ই মার্চ ১৯২০

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪১




একটা সোনার ছোট্ট ছেলে জন্ম নিলো এই  দিনে,
স্বভাবগুনে স্থান পায় সে কোটি জনতার মনে।

সেই ছেলেটি জন্মেছিল টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।
মুক্তিরই এক বার্তা নিয়ে এলো ধরাধামে।

অন্তরটি তাঁর বিশাল বড়ো,বুক ভর্তি  মায়া,
সব মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে ওঠলাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×