somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাইলাতুল ক্বদর কোন রাত ? জীবরাঈল (আঃ) নেমে আসে যে রাতে ।

১৭ ই এপ্রিল, ২০২৩ সকাল ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাত্রি হলো - লাইলাতুল ক্বদর । যে রাত্রি হলো- হাজার রাত্রি থেকেও উত্তম । এক রাতের ইবাদত - সারা জীবনের ইবাদতের সময় । আমরা হাদিস অনুসারে জানি যে, রমজানের শেষ দশ বেজোড় রাত্রিগুলোতে মহানবী (সাঃ) লাইলাতুল ক্বদর খুজতে বলেছেন ।

মহানবী (সাঃ) এর চাচাত ভাই - আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) কুরআনের লাইলাতুল ক্বদর সূরা তাফসীর করার সময় একটা বিষয় লক্ষ করেছেন যে, খুব সম্ভবত লাইলাতুল ক্বদর হলো ২৬ এর দিবাগত রাত -অর্থাৎ ২৭শে রমজান এর রাত । যেহেতু মহানবী (সাঃ) বলেন নি তাই আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না কোন রাত হলো লাইলাতুল ক্বদর । সুতরাং আমাদের এটা বলা উচিত হবেনা যে লাইলাতুল ক্বদর ২৭শে রাত । এটা শুধুমাত্র একটা অনুমান - কিন্তু রমজানের শেষ দশ রাতগুলোতেই ইবাদত করব এবং বেজোড় রাত গুলোতে তা খুজব । অনেক স্কলারদের মতে এটা রমজানের শেষ দশ রাত্রিতে বিভিন্ন বছর বিভিন্ন রাত্রিতে হয়ে থাকে । তারপরও কুরআনের এই সংখ্যাতাত্ত্বিক মিরাকল বা অলৈাকিকতা নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক ।

আসুন আমরা দেখি সেই গবেষণায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) কি বলেছেন । তিনি কুরআনের লাইলাতুল ক্বদর সূরার মোট শব্দ সংখ্যাকে গণণা করেছেন । প্রথম আয়াতে ৫টি শব্দ, দ্বিতীয় আয়াতে ৫টি শব্দ, তৃতীয় আয়াতে ৬টি শব্দ, চতুর্থ আয়াতে ৯টি শব্দ এবং ৫টি শব্দ পন্চম আয়াতে । সুতরাং মোট ৩০টি শব্দ । এর মধ্যে ২৭তম শব্দটি কি ? 'হিয়া' । এই হিয়া এর অর্থ কি ? এটাই । সুতরাং এই এটাই মানে কি এই সূরাতে ? আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) মতে তা হলো- লাইলাতুল ক্বদর ।

'এটাই শান্তি, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।' (৯৭ঃ৫)

সুতরাং ৩০টি শব্দটি হলো রমজানের ৩০টি রোজা আর ২৭তম রোজার রাতটি (হিয়া / 'এটাই' ) হলো লাইলাতুল ক্বদর । এছাড়াও তিনি আরেকটি পদ্ধতির কথা বলেছেন । সেটা হলো - এই সূরাতে লাইলাতুল ক্বদর শব্দটি এসেছে মোট তিনবার । আরবীতে লাইলাতুল ক্বদর লিখতে ৯টি হরফের প্রয়োজন হয় । لَيْلَةُ الْقَدْرِ । যেহেতু এই শব্দটি তিনবার এসেছে , ৯টি হরফে । এই ৯টি হরফকে ৩ দিয়ে গুন দিলে হয় - ৩ x ৯ = ২৭ । সুতরাং এই হিসেবেও এটা মনে করা যেতে পারে যে - লাইলাতুল ক্বদর ২৭শের রাতে । আল্লাহ ভালো জানেন । এটা সম্পুর্ণই উনার মতামত । আমরা অবশ্যই রাসূল (সাঃ) হাদিস অনুসারে শেষ দশ রাত্রিগুলোতেই লাইলাতুল ক্বদর খুজব - শুধুমাত্র ২৭শে রাতে ইবাদত করব না । কারণ তা হলে লাইলাতুল ক্বদর যদি অন্য কোন রাত্রিতে হয়- তা হলে আমরা তার কল্যাণ থেকে বন্চিত হবো ।

লাইলাতুল ক্বদর রাতে এত ফেরেশ্তা পৃথিবীতে আসে যে- পৃথিবীতে যত পাথর আছে- তার থেকেও বেশী ফেরেশ্তা নেমে আসে । এমনকি জীব্রাঈল (আঃ) পর্যন্ত নেমে আসেন - যিনি শুধুমাত্র নবীদের কাছেই আসতেন । যিনি কুরআন নিয়ে এসেছেলিন আল্লাহ সুবহানাতায়ালার কাছ থেকে । যিনি ফেরেশ্তাদের সর্দার । তিনি শুধুমাত্র এই রাত্রিতেই নেমে আসেন ।

রমজান মাসের রাত্রগুলোর মধ্যে একটি রাতকে শবে ক্বদর বলা হয় । যাহা খুবই বরকত ও কল্যাণের রাত । পবিত্র কুরআন শরীফে উহাকে হাজার মাস হইতেও উত্তম বলা হইয়াছে । হাজার মাস তিরিশ বছর চার মাস হয় । অত্যন্ত ভাগ্যবান ঐ ব্যক্তি যাহার এই রাত্রে এবাদত করার তওফিক হয় । 'দুররে মনসূর' কিতাবে হযরত আনাস (রাঃ) হইতে হুযুর (সাঃ) এর একটি এরশাদ নকল করা হইয়াছে যে, আল্লাহতায়ালা শবে ক্বদর আমার উম্মতকেই দান করিয়াছেন; পূর্ববর্তী উম্মতগণ উহা পায় নাই ।

কুরআন পাক লওহে মাহফুজ হতে এই রাত্রিতে দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ করা হইয়াছে । এই একটি মাত্র বিষয়ই এই রাত্রির ফযীলতের জন্য যথেষ্ট ছিল । তদুপরি ইহার সহিত আরও বহু বরকত ও ফযীলতও শামীল রহিয়াছে ।

হযরত আনাস (রাযিঃ) বলেন, একবার রমজান মাস আসিলে হুযুর (সাঃ) এরশাদ ফরমাইলেন, তোমাদের নিকট একটি মাস আসিয়াছে । উহাতে একটি রাত্র আছে যাহা হাজার মাস হইতেও উত্তম । যে ব্যক্তি এই রাত্র হইতে মাহরূম থাকিয়া গেল সে যেন সমস্ত ভাল ও কল্যাণ হইতে মাহরূম থাকিয়া গেল । আর রাত্রির কল্যাণ হইতে কেবল ঐ ব্যক্তিই মাহরূম থাকে যে প্রকৃতপক্ষেই মাহরূম ( তারগীবঃ ইবনে মাজাহ)

সুতরাং রমজানের শেষ দশ দিনে বেজোড় রাত্রিগুলোতে বেশী আল্লাহর জিকির, নফল নামাজ এবং কুরআন তেলাওয়াত করুন । বিশেষ করে ফজরের নামাজ এবং এশার নামাজের জামাত অবশ্যই পড়বেন । কারণ- এই দুই ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়ার মাধ্যমে সমস্ত রাতের নফল ইবাদত করার সওয়াব নিশ্চিত হয় ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৩ দুপুর ২:৫৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×