somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফার ছাত্র/ছাত্রীদের নিয়ে চলছে মনোপোলি খেলা

১২ ই জানুয়ারি, ২০০৬ সকাল ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারনের লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ সরকার আজ থেকে আরো কয়েক বছর আগে থেকে দেশে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় চালু করার সিদ্ধান্ত নেন। যার ফলস্বরূপ বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় চালু হয় নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। এরই লাইন ধরে চালু হয় আরো অনেক অনেক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, যেমন: এআইইউবি, আইইউবি, কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়, সাউথইষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি। বেশ কিছু বছর এসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ম অনিয়মের মধ্য দিয়ে নির্ভিঘ্নে চলার পর হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কি মনে হলো কে জানে, তারা অনিয়ম করে চলা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে হঠাৎ করে বন্ধ করে দেয়ার সিন্ধানত্দ নিলো। এতে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন-1992 এবং বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধিত) আইন-1998 এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন, নূন্যতম শিক্ষার পরিবেশ না থাকা, বাণিজ্যিক মনেবৃত্তি নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাসহ নানা অনিয়মের কারণে 8টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন বাতিল ও এগুলোর কার্যক্রম বন্ধের সুপারিশ করা হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী উক্ত রিপোর্ট আবার একজন বিচারপতি দিয়ে পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। বিচারপতি দীর্ঘ দু'মাস পর সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেন। এতে আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য থেকে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সুপারিশ করা হয়। সুপারিশকৃত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- কুইন্স ইউনিভার্সর্িটি, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি, গ্রিণ ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, আমেরিকান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি, কুমিলস্না ইউনিভার্সিটি, পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি এবং বিজিসি ট্রাষ্ট ইউনিভার্সিটি। এদরে মধ্য থেকে বিচারপতির রিপোর্টে বিজিসি ট্রাষ্ট ইউনিভার্সিটিকে বাদ দিয়ে বাকি সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ইউজিসির সুপারিশমালা বহাল রাখা হয়। এই লিষ্টের কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলেও বেশ কিছু অনিয়ম আছে। কিন্তু কথা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে নয়; কথা হচ্ছে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীগুলোকে নিয়ে। তারা এবার কি করবে? খবর নিয়ে জানা গেছে, বেশ কিছু কালো তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা নিজের গরজে অন্যান্য বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের ক্রেডিট ট্রান্সফার করে ফেলে। শুরম্ন হয় কালো লিষ্ট ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রছাত্রীদের বাবা-মার টাকার শ্রাদ্ধ! তারপরেও টাকা ও সময়ের ক্ষতি করেও তাদেরকে তাদের ক্রেডিট ট্রান্সফার করতে হয়েছে। অনেকের পড়া-লেখা বন্ধই করে দিতে হয়েছে। কারণ, অতটা সামর্থ্য তাদের নেই। অনেকে হয়তো বলতে পারেন, এতো কষ্টের কি ছিলো? সরকারতো বলেছিলোই এদের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের সরকার যে কবে এদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন তা বোধহয় একমাত্র খোদাই জানেন। কারন, সরকারের ঢিলেমী আশেপাশে তাকালেই বোঝা যায়। সরকার উক্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যবস্থা নিতে নিতে তারা যে গল্পের "আদু ভাই" হয়ে যাবে তা তাদের কারোরই বুঝতে সমস্যা হয়নি। তারা বোধহয় সরকারের ব্যাপারে ভুল করেনি; কিন্তু সমস্যা হয়ে গেছে অন্য জায়গায়। কালো তালিকায় পড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লিষ্ট পত্রিকায় বের হতেই ওদিকে চালু হয়ে গেছে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কালো ব্যাবসা। উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের তারা জলাশয়ে গিয়ে বক শিকার করার মতো করে শিকার করা শুরম্ন করলো। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়তো প্যাকেজ অফার ছেড়ে দিলো- যারা শেষ বর্ষের ছাত্র তারা যদি 10-15জন চলে আসে তবে সর্বমোট 50 হাজার টাকার মধ্যেই সবাইকে এক সেমিষ্টারের মধ্যে সার্টিফিকেট দিয়ে ছেড়ে দেবে। আর বাদ বাকিরা গণহারে ট্রান্সফার করা কোর্স মেনে নিয়ে সবাইকে ভর্তি করে নিলো। সবার মুখে একই কথা ছিলো, "আরে বাবা, আগে ভর্তি হয়ে দেখই না; কোন ঝামেলা হবে না!" যাই হোক, সবশেষে ছাত্র-ছাত্রীরাও শানত্দ, কর্তৃপক্ষরাও শান্ত। কিন্তু বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলা বোঝা গেল এক সেমিস্টার ঘুরতেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যডমিনিষ্ট্র্যাশনের সুর পাল্টে গেলো। "নাহ্, তোমাদেরতো আরো সাত আটটি কোর্স করতে হবে। নাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট দেয়া যাবে না।" এমনকি, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের সময়, যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা লিখিতভাবে উপযুক্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে উক্ত বিষয়ের নিশ্চিতকরন স্বাক্ষর নিয়ে ভর্তি হয়েছিলো, তাদেরও পর্যনত্দ মুখের উপর এক্সট্রা কোর্স চাপানোর সিদ্ধান্তসেই কর্মকর্তারা নিয়ে ফেললো। যেসব শিক্ষকদের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হয়েছিলো, তারা চিনতে অস্বীকার করা শুরম্ন করলো। এখন কথাতো দূরে থাক লিখিত দলিলও তাদের কাছে কোনরকম ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়! কিছু ছাত্র-ছাত্রী এই নিয়ে তোলপাড় শুরম্ন করতে গেলে, তাদেরকে সাজানো একটি ঘটনায় দোষী করে দিয়ে দেয়া হলো শো'কজ নোটিশ। ধ্বংস হয়ে গেল আরও কিছু ছাত্রের জীবন। উপরোক্ত ঘটনাগুলোতে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেলা যাবে না। কিন্তু এটাও ঠিক এইরকম ঘটনা অহরহ ঘটেছে; বনানীতেই বেশ ক'টা বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে পাওয়া যাবে যারা এই ধরনের দুর্নীতি করছে এবং এসব ভবিষ্যতেও ঘটবে যদি বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রনালয়ের উপযুক্ত কোন কর্মকর্তা এই বিষয়ে কোন ব্যবস্থা না গ্রহণ করেন। কিন্তু সব শেষে একটি কথা থেকে যায়; এখন কি এই সমসত্দ অনিয়ম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চোখে পড়ছে না? এখন কি তাদের একবারও মনে হচ্ছে না, যদি তারা আগে থেকেই উক্ত বিষয়ে ব্যাবস্থা নিয়ে থাকে তাহলে এই সব ছাত্র-ছাত্রীদের মতো আর কোন ছাত্র-ছাত্রীদের ভূক্তভূগী হতে হবে না বা নতুন করে আর কোন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের মতো নোংরা কাজ করতে হবে না? তাই সব শেষে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি অনুরোধ যেই বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি হোন বা ক্রেডিট ট্রান্সফার করম্নন না কেন, ভালোভাবে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর খবর নিয়ে তারপর যেন ভর্তি হোন।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৬ সকাল ৮:৪৫
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাস্তায় পড়ে থাকা একপাটি জুতো

লিখেছেন সাব্বির আহমেদ সাকিল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫২



রাস্তায় চলার পথে এমন দৃশ্য আমার মাঝেমধ্যেই চোখে পড়ে। আজও বাসায় ফেরার সময় ঠিক এমনই একটা দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়ালাম—রাস্তার একপাশে নিথর হয়ে পড়ে আছে একটি শিশুর একপাটি জুতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×