somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হালকা সবুজ, হালকা হলুদ

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চুপি ‍চুপি শীত পড়ছে। শরতের ষষ্ঠ প্রহর, শহরটা কেমন যেন মূর্তিময় । অনিক তখনো বারান্দায়, পরিবারের কারো কারো ধারণা তাকে নাকি জিনে ধরেছে। বন্ধুরা মাঝে মাঝে খোঁচা মারে... ইসস নতুন হিমু, থুক্কু নতুন পাগল। অনিক রাগে না, চোখের নিচটা কিছুটা আঙুলে ঘষে ফেক করে একটু হাসি দেয় । বন্ধুরা ভাবে সত্যিই কি অনিককে জিনে ধরলো ?

গত শ্রাবণে হুজুগের বাঙালির মতো হুমায়ুন স্যারের নুহাশ পল্লি ভ্রমণে যায় অনিক । রিফাত আর নুরও সাথে ছিলো, অনিকের চেয়ে দুজনই বুদ্ধিমান আর ছাত্র ভালো। অনিক সেশন জটে পরে এখনো অনার্সই শেষ করতে পারেনি, একটু ভিতু টাইপের, কারো সাথে তর্কে গেলেই বুড়োদের মতো ধুকধুকানি বেড়ে যায়, হাত পা পৌষের শীতের মতো বরফ হয়ে যায় । তবে তিন বন্ধুর কেউই হুমায়ুন স্যারের নামটা ছাড়া তাঁর কোন সৃষ্টিতেই হাত বুলায় নি। নাটক আর সিনেমার দৃশ্য, বিশেষ করে গাছের ওপর থরে থরে সাজানো ২টি উনো ঘর ই মুল আকর্ষণ তাদের কাছে । টিকেটের উচ্চ মূল্য, কৌশলে কিছুটা কমিয়ে প্রবেশ করলো সেই নুহাশ পল্লিতে । হাতে সেকেন্ড হ্যাণ্ড ডিজিটাল ক্যামেরা গায়ে স্ট্রাইপের শার্ট কেমন যেন হাবাগোবা লাগছিলো অনিককে । রিফাতের গায়ে এশ কালারের পাঞ্জাবি আর নূর পরেছিলো নেভী ব্লু শার্ট ।
ঢুকতেই সুইমিং পুলের মতো কিছু একটা তবে জল নেই সেখানে, ডান পাশে একজন নারী দাঁড়িয়ে একটি শিশু নিয়ে; অফ হোয়াইট রঙের মূর্তি । গিয়েই তড়িঘড়ি করে ছবি তোলা শুরু । আর সব ছবিতেই রিফাতের উপস্থিতি চাই । ক্যামেরা সে মোটেই হাতে নিবেনা । আর নূর ব্যাটা তো ছবি তুলতে একেবারেই উদাসীন, কেমন যেন অদ্ভুত একটা ভাব নিয়ে থাকে। কলিজার বন্ধু আবার কলিজার খোসাও নয় এমন ।
এখানে সেখানে ছবি তুলতে তুলতে, সন্ধ্যা আসি আসি ভাব । সব দর্শনার্থীদের বেরুতে হবে। হুইসেল হচ্ছে । সবার জানা ছিলো তবে ভাবনার উড়োউড়িতে স্যারের মাজার টা দেখার প্রবল ইচ্ছাটি একেবারে শেষ বেলায় এলো যেনো । গেটের কাছে যেতেই চোখের সামনে মাজারের গেট বন্ধ হয়ে গেল । নিজেদের প্রতি বিরক্ত তবে শেষ চেষ্টা স্বরূপ অনুরোধ করলো প্রহরীকে । একটু সম্মতি পেয়েই রিফাত আর অনিক তড়িঘড়ি করে ঢুকে গেলে । অথচ নূর বাইরেই দাঁড়িয়ে; হয়তো ভাবছিলো, ”ইসস.. মন থেকে শ্রদ্ধ্যাটাইতো যথেষ্ট আর বাইরে থেকেওতো দোয়া করা যায় অথবা হয়তো নেতিবাচক কিছু একটা ভাবছিলো, কে জানে!”। তবে সত্যি অনিক আর রিফাত যেন আশ্চর্য কিছু খুঁজে পেলো। সাদা ফক ফকা টাইলসে ঘেরা চারিদিক, স্যারের ঘুমন্ত সমাধি । ঘুমের মধ্যেও কেমন যেন আয় আয় করে ডাকছে । সবুজ ঘাসের ডগায় চোখের আলো জমে শিশিরের মতো দেখাচ্ছিলো। ঘাসের গায়ে কিছু শুকনো পাতা শুয়ে আছে । সন্ধ্যার আঁধার কেমন যেন প্রতিফলিত হয়ে উড়ে বসছে বৃক্ষের শাখায় শাখায় । পায়ের নিচে পৃথিবীটা কেমন যেন মেঘলা মেঘলা অথবা কোন মেঘ হয়তো মাটির গহীনে গিয়ে ঘুমিয়ে আছে । এই উপলব্ধিগুলো কিছু মুহূর্ত কি করে যে চুরি করলো তারা কেউ বুঝতেই পেলো না । নূর এর ডাকাডাকিতে হুশ ফিরে এলো । অবশেষে মোনাজাত ধরল। ঠোঁট পেঁচিয়ে কোন দোয়াই যেন আসছিলনা.. কী অদ্ভুত । তবুও কেমন যেন একটু বির বির করে শেষ করলো । কে যানে এ অভিনয় একে অন্যকে দেখাতে নাকি অলীক অনুভূতিতে তারা সত্যিই বাক রুদ্ধ । জীবনের এই প্রথম হয়তো এমন অনুভূতি উভয়ের । প্রহরীর ইশারায় পিছু না ঘুরে এক পা দু পা করে পিছুতে পিছুতে গেটের অনুকূলে যাচ্ছিলো এমন সময় অনিক কি যেন মনে করে ঘাসের উপর থেকে একটি আধো সতেজ পাতা হাতে তুলেই পকেটে গুজে নিল। কেমন যেন হালকা হলুদ আবার হালকা সবুজ । রিফাত হেসে দিলো । তবুও কেউ কোন কথা না বাড়িয়ে সেদিনের মতো যাত্রা বিরতি দিয়ে যে যার বাড়ি ।

সেদিনের পর থেকেই অনিক আয়নায় নিজেকে কেমন যেন সেই পাতাটির মতো দেখতে পায় । হালকা হলুদ আবার হালকা সবুজ, হয়তো কখনো নিয়ন বাতি কখনো এই শহরের বনসাই বৃক্ষগুলোর প্রতিফলন ।অথবা হয়তো তার মনেরই রঙ বদলে গেছে । হলুদ মগজে একটি প্রশ্নই বাজে তার, “এই দুটি রঙ মিলে, কোন রঙের সৃষ্টি হয় ?”
হয়তো কোন উত্তর আছে..তবুও সে উত্তর পেতে কাউকে প্রশ্ন করেনা কখনো ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট টেলিফোন কম্পানি হলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



গত ব্লগে টেলিফোন নিয়ে বলেছিলাম। মোবাইল থেকে টেলিফোনে কল দেওয়া বা রিসিভ করা যেতো না। শুধু টিএনটি একটিভ করা সিমে টেলিফোনে কল করা যেতো। বা টেলিফোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×