somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসম্পূর্ণতা

২১ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দ্রুত হাঁটতে যেয়ে হোঁচট খেল অভ্র।আজ তার পরীক্ষা।ডিস্ক্রিট ম্যাথমেটিক্স।খুব কঠিন বিষয়।ঘুম থেকে উঠতেও দেরি হয়ে গেসে।হলের সামনে থেকে কোন রিক্সাও আসছে না ডিপার্টমেন্টে। সামনে তাকিয়ে সে খুব অবাক।উপমা দাঁড়িয়ে আছে।তারা একি ক্লাসে পড়ে।তার দিকে তাকিয়েও আছে কড়া চোখে।
- এই ছাগল এই তোর আসার সময়।
অভ্র অবাক।ঘড়ি দেখল।আর মাত্র ৫ মিনিট আছে। জারুলতলা থেকে ডিপার্টমেন্টের তিনতলায় যেতে হলে দৌড়ে যেতে হবে। ফালতু প্যাচাল পাড়ার সময় নেই।
- কিরে পথ আগলে দাঁড়ালি কেন? জানের কি মায়াদয়া নাই? আর তুই এক্সাম হলে নাই কেন?
- আজ পরীক্ষা দিব না আমি।আমার সাথে তুইও দিবি না।
- কেন আমি দিব না কেন,আমার কি বিয়া লাগছে?
- না আমি তোকে এক্সাম দিতে দিবনা।
- এবার এক্সাম না দিলে সাপ্লি খেতে হবে। বলদের মত কথা বলস কেন?
- সাপ্লি খাইলে দুইজনে একলগে খামু।
- তোর কি মাথাটাথা খারাপ হইসে নাকি?
কোন কথার জবাব দিচ্ছে না উপমা।অভ্রকে হিড়হিড় করে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে স্টেশনের দিকে। পরীক্ষা শুরু হয়ে গেসে আবার এদিকে উপমা হাত ছাড়ছে না। আজকেই শেষ এক্সাম এই সেমিস্টারের। আর আজকেই এই কুফা এসে জুটছে কপালে।
- আরে ছাড় আমারে।কি হইতাসে কি?
-তোর হাত দেহি মাইয়াগো মতন নরম।
গা জ্বলে যাচ্ছে অভ্রর।বেহায়ার মত টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাকে।
- আমার সাথে তোকে যেতে হবে একটা যায়গায়।
রাগে অভ্রের গা জ্বলে যাচ্ছে।মাথায় শুধু পরীক্ষা খেলা করছে। স্টেশনে পৌঁছে গেছে তারা। ফিরতি ট্রেন শহর যাবে। তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দ্বিতীয় বগির দিকে। মাঝামাঝি একটা সীটে তাকে নিয়ে বসাল উপমা।
- কি শুরু করলি? কই যাবো? পাগল হয়ে গেছিস নাকি?
-কথা বলতে হবে না।কি করি দেখ।
বিস্ময় আর ক্ষোভের চোটে কথা বেড়োচ্ছে না অভ্রের মুখ দিয়ে। চল্লিশ মিনিট পর ট্রেন ষোলশহরে থামল।দুজনে নামল ট্রেন থেকে।
- এই ছাগল কিছু খাবি? আমি কিছু খাইনি সকালে।
অভ্র কিছু বলছে না।সকাল থেকে তারো খাওয়া হয়নি। গরম গরম পরোটা ভাজছে স্টেশনের পাশে।দুজন গিয়ে বসল।
- এই মামা তিনটা পরোটা,একটা ভাজি আর একটা ডিম দিও।
পরীক্ষা তো লাটে উঠেছেই। ক্ষুধা মিটিয়ে নেই।ভাবল অভ্র। নীরবে খেয়ে নিলো। হাত ধরে টান দিচ্ছে উপমা।অভ্রের আর কিছু বলার শক্তি নাই। দুজনে একটা সি এন জির সামনে দাঁড়ালো।
- এই মামা সী বিচ যাবা।
- যামু।
- কত?
- তিনশো টাকা ভাড়া।
- চল।
ফার্স্ট সেমিস্টার চলছে। অভ্র যশোর এর ছেলে। চট্টগ্রামের কোন কিছু তেমন জানেও না।উপমা চট্টগ্রামের মেয়ে। পুরো সি এন জি কোন কথা বলল না কেউ। আগ্রাবাদ জুড়ে জ্যাম।হর্ন,ধোয়া,পরীক্ষা না দেয়া সব মিলিয়ে মনে মনে ফুঁসছে অভ্র।তারা সি বীচ পৌঁছুল বেলা ১১ টায়। বীচের পাশে পাশাপাশি রাখা দুটা ব্লক এ বসল দুজন।
- কিরে ভোম্বল এর মত বসে আছিস কেন? এদিকে তাকা।
অভ্র তাকালো।উপমার গায়ের রঙ ফর্সা। কালো টপ্সের সাথে নীল জিন্স পরেছে। চোখে কাজল দেয়া।অদ্ভূত সুন্দর লাগছে ওকে।
- তুই কি কিছুই বুঝিস না। উপমা বলল।
- কি বুঝব?
মেরুন রঙ এর একটা শার্ট পরেছে অভ্র।চোখে অল্প পাওয়ারের চশমা।
- তোকে কি আমার এখন লেকচার দিতে হবে?
- কি বলছিস তুই?
- আমি তোকে ভালোবাসি।
-কি?
-আমি তোকে ভালোবাসি।
ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল অভ্র।তার মাথা ঘুরছে।কোনদিন কারো মুখে এই কথা শোনেনি সে।ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার এ থাকতে একটা মেয়েকে মনে ধরেছিল কিন্তু ওই পর্যন্তই।
উপমার মুখের দিকে তাকালো সে। অদ্ভুত সুন্দর একটা মায়াময় মুখ।বুকের ভিতরটা কেমন ধকধক করছে।উপমার চোখে জল কেন?
- তুই কাঁদছিস কেন?
- তুই আগে বল আমাকে ভালোবাসিস কিনা?
এমন আবেগমাখা স্বরে উপমা বলছে মনে হচ্ছে তার ভেতরটা ভেঙে চূড়ে যাচ্ছে। এই আবেগ উপেক্ষা করা কঠিন।
উপমার হাত ধরল অভ্র।হাত কঁাপছে তার।এই প্রথম কোন মেয়ের হাত ধরল সে। মৃদু স্বরে বলল
- বাসি।
- সত্যি? কোনদিন আমাকে ছেড়ে যাবিনা তো।
- না যাবনা।
- চল তাহলে বালিতে হাঁটি।
দুজনে জিন্স হাটু পর্যন্ত গুটিয়ে পাশাপাশি হাত ধরে হাটছে দুজন। অভ্রের মনে হচ্ছে তার জীবনের সবচে সুখের দিন এটা।একটু পরপর উপমার চোখের দিকে তাকাচ্ছে সে। হঠাৎ মাথাটা ঝিম ঝিম করে উঠলো। সবকিছু যেন অন্ধকার হয়ে গেলো।

যখন চেতন ফিরল অভ্র পড়ে আছে মাটিতে তার পাশে মানুষের জটলা।একি উপমা কই।পকেটে ফোন ভাইব্রেট করছে। নিঝুম ফোন করেছে।

- কিরে তুই কই? বারোবার ফোন দিলাম তোকে।খবর পেয়েছিস?
-কি খবর?
- উপমা আজ রোড এক্সিডেন্ট এ মারা গেছে। সকালে ট্রেন মিস করায় বাসে আসছিল। বাস অক্সিজেনে একটা ট্রাকের সাথে মুখোমুখি ধাক্কায় উপমা মারা যায়।এক্সাম শুরু হওয়ার এক ঘন্টা পর সবাই জানতে পারে।এক্সাম ও ক্যান্সেল। হ্যালো!

দ্বিতীয় বার মূর্ছা গেল অভ্র।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:০০
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×