somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুলিশের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার লোমহর্ষক কাহিনী

৩১ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ১২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুই পিস বই (নগদ টাকায় কেনা), তিন পিস মালবরো সিগারেট আর একটা ভাঙা দিয়াশলাই নিয়া অবশেষে ধরা খাইলাম পুলিশের হাতে।

রাত সাড়ে এগারটা। হেঁটে বাসায় যাচ্ছি। ল্যাবএইড মোড়ে পুলিশের ভ্রাম্যমান চেকপোষ্টের সামনে পড়লাম। দেশ ও জাতির সেবায় নিবেদিত প্রান একজন মহান পুলিশ সদস্য আমার গতিরোধ করে সামনে দাঁড়ালেন। থানার হাবিলদার টাইপ কেউ হবেন। শরীর স্বাস্থ্য মাশআল্লাহ ব্যাপক। চোখে মুখে সন্দেহের চাপ। বললেন, এতো রাইতে কই যান? আমি কইলাম, বাসায় যাই।
বাসা কই?
-এইতো, সামনে।
হাতে কি?
-বই।
পকেট ফুলা ফুলা লাগতাছে, পকেটে কি?
-সিগারেটের প্যাকেট আর দিয়াশলাই।
দেখি, বাইর করেন......
আমি পকেট থেকে সিগারেট আর দিয়াশলাই বাইর কইরা দিলাম। হাবিলদার সাহেব সন্দেহজনক দৃষ্টিতে খুটিয়ে খুটিয়ে সিগারেটের প্যাকেট দেখলেন, নাকের কাছে নিয়া গন্ধ শুকলেন, ম্যাচ দেখলেন। তারপর বই দুটি হাতে নিয়া পাতা উল্টাইয়া দেখলেন। তিনি মনে হয় আশানুরুপ কিছু পান নাই (বেচারার চোখে মূখে হতাশার চাপ)। বললেন, কিসের বই এগুলা? আমি কইলাম, কাভার পেজে নাম লেখা আছে। (জওহরলাল নেহেরুর লেখা “পৃথিবীর ইতিহাস” অন্যটি বাট্রান্ড রাসেলের “রোডস টু ফ্রিডম”)
হাবিলদার সাহেব বই দুইটা আবার উল্টাইয়া পাল্টায়া দেখলেন। কি যেনো ভাবলেন। তারপর আবার ইন্টারভিউ,
এতো রাইতে বাইরে ঘুরেন কেন?
-ঘুরতাছি না, বাসায় যাচ্ছি।
এতক্ষন কই ছিলেন, কই থিকা আইসলেন?
-শাহাবাগ থেকে।
সেখানে কি?
-আড্ডা দিছি।
এতো রাইত পর্যন্ত আড্ডা দেয়া কি ঠিক! এখন রাস্তাঘাট ফাঁকা, যদি কোন অকারেন্স হয়?
-আপনারা আছেন বলেই তো সাহস পাই (এইটা ১০০% পাম)। আমাদের নিরাপত্তার জন্য রাত জেগে ডিউটি করতাছেন। কতো কষ্ট আপনাদের।
মুখে মৃদু হাসি দিয়ে- এইডাই আমাদের ডিউটি। কষ্ট তো হৈবৈ। বেশি রাইত বাইরে থাইকেন না। সময় ভালো না। যান বাসায় যান।
আমি মিষ্টি হাসি দিয়ে- আচ্ছা, ঠিক আছে। বেশি রাত থাকবো না। যাই, আসসালামুয়ালাইকুম।
১৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

করোনা ভাইরাস নিয়ে মানুষের মনে ইসলামি দৃষ্টিতে যে ভাবনা

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ০১ লা এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:২০


সার্বিয়ার সেনা ক্যাম্পে ধর্ষিতা মুসলিম বোন সামিরা তার বড় আপুর কাছে চিঠিতে লিখেছিল,আপু আমি আর পারছিনা।ওরা আমার গর্ভে কাফের সন্তান জন্ম দিতে চায়,কিন্তু আমি কোন খ্রিষ্টান সন্তান ভুমিষ্ঠ হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলো দাদু আরেকবার সমুদ্দুরে যাই

লিখেছেন জুন, ০১ লা এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৪



এলাকাটি মধ্যবিত্তদের পাড়া বলে চিন্হিত হলেও বিশাল চারতলা বাড়ীটি অত্যাধুনিক ডিজাইনেই তৈরী।তারই এক ঘরে বিধবা আমিনা বেগম শুয়ে আছেন একাকী। সাদা সফেদ শাড়ী পড়া উনাকে দেখলে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

করোনায় তিন টোকা !! (রম্য্)

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ০১ লা এপ্রিল, ২০২০ রাত ১০:১৯

করোনায় তিন টোকা !! (রম্য্)
নূর মোহাম্মদ নূরু



পূজ্যপাদ বা্বাইদা, সৎসঙ্গের শিরোমনি
করোনাতে টোটকা একখান ঘোষণা দেন যিনি।
তিন টোকা দিলে নাকি নিজের টেস্টিক্যালে
করোনা ভাইরাস ধরবেনা তাকে কোন কালে।

হাজার হাজার ডাক্তার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী - ৫০

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২০ রাত ১০:২৫



আজ বাইরে গিয়েছিলাম।
অদরকারে না। দরকারেই বাইরে গিয়েছিলাম। যদিও সারাদিন বাসায় শুয়ে বসে থাকা আমার জন্য মোটেও আনন্দময় কিছু না। ঘরে বাজার সদাই কিছুই নেই। অল্প কিছু বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এসব প্রশ্নের উত্তর কি হতে পারে?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০১ লা এপ্রিল, ২০২০ রাত ১০:৩২



১) আমেরিকা সবচেয়ে ধনী দেশ হওয়ার পরও, তাদের কাছে দরকারী পরিমাণ 'ভেনটিলেটর'এর (শ্বাসযন্ত্র) ৩৩% মতো আছে মাত্র; বেশীরভাগ হাসপাতালে ১ সপ্তাহের কম পিপিই ছিলো, যার বেশীরভাগই করোনার মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×