somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সভ্য
আমি একজন শখের ব্লগার, ব্লগ লিখছি প্রায় বারো বছর হবে, তবে কোনো ব্লগে বেশীদিন থাকতে পারিনি, কেননা, লেখার কারণে হউক, বা ব্লগের নিয়ম কানুনের কারণে হউক, বার বার থেমে যেতে হয়েছে, ব্লগ লেখার বা হেল্প চাওয়ার কারণে সব কিছু হারিয়েছি।

পুরান চাউল নাকি ভাতে বাড়ে, তেমনি পুরানো লেখায় কমেন্ট বাড়ে কি না একটু টেষ্ট করা যাক, আসলে...

৩০ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ৯:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



(আসলে নতুন একটা লেখা লিখছি, লেখার শিরোনাম "সুন্দরবনকে কেনো বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারখানা বানানো হবে, আর আমরাই বা কেনো চুপচাপ বসে থাকবো, আমরা কি মুখে কুলুপ এটেছি সবাই?" তো, এই লেখা লিখতে লিখতে মাথা আউলাইয়া গেলো, এক বন্ধু এসে যতটুকু লিখেছি ততটুকু পড়ে বললো, পুলিশের গুতানি না খাইতে চাইলে এই লেখা ছিড়া ফেল" তারে বললাম, পুলিশের গুতানি খাইলে আমি খামু তর কি" সে বলে মনে রাখিস পুলিশে ছুইলে ১৮ ঘা আর আরএবি মানে RAB ছুইলে তরে হারামু' কইয়া দিলাম, তার কথাগুলো নিয়া খুব চিন্তায় আছি, সেই চিন্তা গুলোকে হালকা করার জন্য একটা হালকা লেখা যা ফেইসবুকে ছেপেছিলাম, কেউ কেউ পড়েছে..তেমন কমেন্ট পায় নাই, যেহেতু সামুতে লেখাটা ছাপি নাই, তাই এখন মাথা হালকা করার জন্য লেখাটা ছেপে দিলাম, আশা করি আপনারা পড়বেন কিন্তু। যেদিন লিখেছিলাম, সেইদিন ছিলো ২৫শে জুলাই ২০১৬ইং।)



আজ আমার জন্মদিন। ২৫শে জুলাই, ১৯৬৭ সালের এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছিলাম, মুক্তিযুদ্ধের সময় ্আমার বয়স ছিলো মাত্র চার বছর, আমি নাকি খুবই দুষ্টু ছিলাম। এতো দুষ্ট যে পাকিস্হানী মিলিটারীরা যখন আমাদের বযস্কদের সাথে কথা বলছিলো আমি নাকি একজন আর্মির ঝোলানো বন্ধুকের নলের ভিতর চিকন লাঠি ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম, ভাগ্গিস, মা পাশেই ছিলো, আমাকে কোলে করে সরিয়ে না ফেল্লে মেরেই ফেলতো। তো পাকিস্হানী আর্মিরা আমাদের পুরোহিত মশাই সহ আমাদের সবাইকে একে একে চেক করছিলো যে আমরা সত্যিকারের খ্রীষ্টান কিনা?

আমাদের মধ্যে কোনো হিন্দু লুকিয়ে আছে কিনা তাও ভালভাবে কনফার্ম হয়ে চলে গেলো, যাওয়ার সময় শুধু আমার বাপের গালে একটা চড় বসিয়ে উর্দুতে বললো, বাচ্চা ঠিক মতো মানুষ করার জন্য। তো সেই আমি দুষ্টুমির কারনে যুদ্ধের সময় (মে মাসের মাঝামাঝি ১৯৭১ সাল) চট্টগ্রামের সেন্ট মেরীস স্কুলের বাদাম গাছে ঝুলতে গিয়ে হঠাৎ পড়ে গিয়ে আমার বাম হাতের গোড়ালী ভেঙ্গে ফেলি, অবস্হা এমন যে শুধু চামড়ার সাথে হাতটা লেগে আছে, আর আমি কি যে চিৎকার করছি. আমাকে বার বার আমার নানী মানা করেছিলো গাছের ডালে দোল না খেতে. কিন্তু আমি কথা শুনি নি।

যাই হউক তখন কারফিউ'র মাঝে বিদেশী ফাদারের কল্যাণে এক্সরে ছাড়া বিদেশী ডাক্তার আমার হাত বসিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিয়ে ছিলো। ফলে সেই বিদেশী খ্রীষ্টান মিশনারীর ডাক্তার আমার হাত উল্টো লাগিয়ে ছিলো বলে আমার বাম হাতের মাঝামাঝি জায়গাটা এখনও বেশ ফোলা এবং দূরের থেকে দেখলে বোঝা যায় সেই হাতে কোনো সমস্যা আছে। সে যাই হউক, আমাকে অনেক ব্যায়াম করতে দিয়েছিলো, তেল মালিশ করতে বলেছিলো আর ও কত কি যা আমার মা জানে।

মার কান্নাকাটিতে যুদ্ধের পর বাবা আমাকে আবারও ট্রিটমেন্ট করাতে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা পারবে না বলে জানিয়ে দেয়, বরং এখন আবারও যদি ভাঙ্গা হাত খোলা হয় তবে সেই হাত চিরতরে পঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা আছে এই বলে তখনকার মতো মা'কে সান্তনা দিয়েছিলো।

প্রতিবার জন্মদিনের দিন আমি আমার হাত দেখি। হাতের কথা মনে পড়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় যে কষ্ট আমরা পেয়েছি তা আর কোনো খ্রীষ্টান পেয়েছে কিনা আমার জানা নেই। আমার বাবা প্রচুর মার খেয়েছে, আমাদের বসত বাড়ী বিহারীরা জ্বালিয়ে দিয়ে জিনিষপত্র সব লুটপাট করেছিলো। যুদ্ধের পর বাবা আবার সব ঠিক ঠাক করে।

বলছিলাম জন্মদিনের কথা চলে যাচ্ছি যুদ্ধের দিকে, আসলে জন্মদিনের চাইতেও যুদ্ধটা আমাদের বেশী মনে পড়ে, বিশেষভাবে আমার কাছে কারণ এইদিন আমি হাত ভেঙ্গে ছিলাম। আমার জন্মদিনে শুধু একটা শপথ করবো আজকে আর তা হলো যে করেই হউক সুন্দর বনে পাওয়ার প্লান্ট বানাতে দেবো না যেই করে হউক, সরকারকে এই কাজ থেকে সরাতে হবে।

জন্মদিনে এই শপথটি করে আপাতত বিদায় নেবো, কিছু বন্ধু এসেছে ফুলের তোড়া নিয়ে, আগে তাদেরকে রিসিভ করি। সবাইকে আমার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। শুভ কামনা সবার প্রতি, যেখানেই থাকুন না কেনো, ভালো থাকুন, সুস্হ থাকুন এবং নিরাপদে থাকুন। জয় হউক ব্লগারদের।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ৯:১৩
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাসওয়ার্ড রিসেট করতে সমস্যা এবং ওয়েবসাইটে ক্যাপচা এরর (Invalid site key) সংক্রান্ত।

লিখেছেন চারাগাছ, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:১৪


পাসওয়ার্ড রিসেট করতে সমস্যা এবং ওয়েবসাইটে ক্যাপচা এরর (Invalid site key) সংক্রান্ত।


প্রিয় সামু সাপোর্ট টিম,
আশা করি ভালো আছেন। আমি সামহোয়্যার ইন ব্লগের একজন নিয়মিত পাঠক ও লেখক। দীর্ঘদিন ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালবেলার মুগ্ধতা থেকে নবকুমারের গ্ল্যামার দুনিয়ায়

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০



সমরেশ মজুমদার আমার বরাবরই প্রিয় লেখকদের একজন। কৈশোর আর যৌবনের এক বড় অংশ জুড়ে তিনি ছিলেন আমার মনোজগতে। বই কিনে পড়া, পাড়ার লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার যদি ৩% হারে লোন দেয় দেশের প্রতিটি বাড়ীর ছাতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে বিদ্যুের কস্টের অনেকটাই কিছুটা সমাধান হইতে পারে।

লিখেছেন নতুন, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:০৬


দেশে বর্তমানে Net Metering Guideline–2025 অনুযায়ী অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া যায় এবং তা বিলের সঙ্গে সমন্বয় হয়। এটা খুবই ভালো একটা ব্যবস্থা, সরকারের উচিত এটাকে আরো উতসাহিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিরবিদায়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শায়িত ডা. খায়রুল ইসলাম – Regional Director for South Asian Countries, WaterAid UK

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৪




২০ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ফিরে ঘুমাতে ঘুমাতে কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। ফলে সকালে উঠতেও দেরি। আগের দিন দুপুরে বিদ্যুৎ এক ঘণ্টার জন্য চলে যাবার পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আন্দোলনের সময় বেকারদের দরকার ছিল, এখন কি আর নেই?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২০


সারজিস আলমকে দেখে একসময় মনে হয়েছিল, বাংলাদেশের রাজনীতিতে হয়তো সত্যিই নতুন কিছু আসতে যাচ্ছে। কোটা আন্দোলনের আইকনিক মুখ, গর্বিত ঢাবিয়ান, এনসিপির বড় নেতা। শেখ হাসিনার আমলে সকাল বিকাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×