somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেন আজও হুমায়ূন আহমেদ আমার প্রিয় ...... সুমন ভূইয়াঁ

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ রাত ১২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি অনেক লেখকের বই পড়েছি, কিন্তু একটা সত্য কথা বলতে হবে—খুব কম পাঠকই আছেন যারা হুমায়ূন আহমেদের লেখা পছন্দ করেন না। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। মনে আছে, প্রথম যখন তার বই হাতে নিয়েছিলাম, তখনো বুঝিনি আমি কীসের ভেতর ঢুকতে যাচ্ছি। পড়তে পড়তে মনে হলো, বইয়ের পাতা নয়—আমার আশেপাশেই সবকিছু ঘটছ




বাংলাদেশের সাহিত্যের ইতিহাসে অসংখ্য নাম আছে, সোনার অক্ষরে লেখা। কিন্তু হুমায়ূনের নাম সেখানে আলাদা আলোয় জ্বলে। তিনি শুধু লেখক ছিলেন না, ছিলেন এক অনুভূতির কারিগর। তার কলমে এমন এক জাদু ছিল, যা পাঠককে গল্পের ভেতরে টেনে নিত।
সবচেয়ে অবাক হয়েছি তার ভাষা দেখে। এত সহজ, এত সরল অথচ এত গভীর! কোনো জটিলতা নেই, কোনো অহেতুক ভণিতা নেই। মনে হতো, পাশের বাড়ির কেউ বসে গল্প শোনাচ্ছে। আমার মতো সাধারণ পাঠকের কাছেও সেই গল্প হয়ে উঠত নিজের জীবনের গল্প।
তার চরিত্রগুলো যেন আমার চারপাশেই হাঁটত। হিমু—হলুদ পাঞ্জাবি পরে রাতে শহর ঘুরে বেড়ায়, মিসির আলি ঠান্ডা মাথায় রহস্যের জট ছাড়ায়—এরা আমার কল্পনার বাইরের কেউ নয়, বরং খুব চেনা মানুষ। একসময় মনে হতো, রাস্তায় বের হলেই হয়তো হিমুর সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে।

আমি তার বই পড়ে হেসেছি, আবার চোখের পানি মুছেছি। জীবনের ছোট ছোট আবেগকে তিনি এমনভাবে ধরতে পারতেন যে, মনে হতো—এই তো আমার নিজেরই কথা। নিঃসঙ্গতা, আশা, ব্যর্থতা, ক্ষণিকের আনন্দ—সবকিছু তিনি লিখে ফেলতেন অবলীলায়। এজন্যই মনে হতো, তিনি আসলে আমাকে নিয়েই লিখছেন।

হুমায়ূন শুধু উপন্যাস লিখেই থেমে থাকেননি। অনুবাদে তার আগ্রহ ছিল, ইতিহাস নিয়ে লিখেছেন, বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের কৌতূহল জাগিয়েছেন। এমনকি শুনেছিলাম, তিনি আমাদের নবীজি ﷺ–কে নিয়ে লিখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই কাজ শেষ করতে পারেননি। এটা আমার কাছে আজও এক অপূর্ণতা। ভাবতে খারাপ লাগে—যদি তিনি বেঁচে থাকতেন, হয়তো আমরা নবীর জীবন নিয়ে তার কলমে এক অসাধারণ রচনা পেতাম।

তার শেষ বই “যখন নামবে অন্ধকার” আমি যখন পড়ি, বুকের ভেতর কেমন একটা হাহাকার জন্মায়। মনে হয়েছিল, তিনি যেন নিজের জীবনের শেষ আলাপন পাঠকের কাছে লিখে রেখে গেছেন।

২০১২ সালে তিনি চলে গেলেন। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো—তার লেখা মরে যায়নি। বরং আজও নতুন প্রজন্ম তার বই হাতে তুলে নিচ্ছে। এটা হয়তো তার লেখার সবচেয়ে বড় সাফল্য। তিনি সময়কে অতিক্রম করেছেন।

আমার কাছে হুমায়ূন আহমেদ শুধু একজন লেখক নন। তিনি এমন একজন, যিনি আমার কিশোর বয়সের নির্জন দুপুরে, তরুণ বয়সের একাকিত্বে, আর আজকের ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে ফাঁকেও সঙ্গী হয়ে আছেন। আমি বিশ্বাস করি, যতদিন বাংলা ভাষা থাকবে, হুমায়ূনের বই ততদিন বেঁচে থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ রাত ১২:২১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাজাকার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



'এই জল ভালো লাগে; বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে দিয়েছে চুল-চোখের উপরে
তার শান-স্নিগ্ধ হাত রেখে কত খেলিয়াছে, আবেগের ভরে
ঠোঁটে এসে চুমো দিয়ে চলে গেছে কুমারীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×