somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বই রিভিউ : হুমায়ুন আহমেদ এর বই "নবনী"

৩০ শে অক্টোবর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কিছু দিন ধরে যেসব বই পড়ছিলাম, একটাও মনে ধরছিল না। তাই ভাবলাম— এবার হুমায়ূন আহমেদের একটা প্রেমের বই পড়া যাক। হাতে নিলাম ‘নবনী’।

শুরুর অংশটা দারুণ লাগল। নবনীকে তার মা বিকেলের ঘুম থেকে ডেকে তোলে, কারণ আজ তার বিয়ে। ধীরে ধীরে বিয়ের প্রস্তুতির দৃশ্যগুলো খুব সুন্দরভাবে এগোতে থাকে। সেই সঙ্গে গল্পের ফাঁকে ফাঁকে ধরা পড়ে নবনীর অতীতের একটা পুরনো সম্পর্কের ইঙ্গিত। লেখক খুব ধীরে, নরমভাবে সেই গল্পটা বলেছেন—বর্তমান জীবনের সঙ্গে অতীতের টানাপোড়েন মিলেমিশে গেছে বেশ স্বাভাবিকভাবে।
বিয়ের পর নবনীর ছোট সংসার, গরিব স্বামী। পাশে আছে ধনী বন্ধু আর তার কালো কিন্তু সুন্দরী স্ত্রী। গল্পটা সুন্দরভাবে এগোচ্ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গেল—এমনভাবে, যেন মাঝপথে আলো নিভে গেল। মনে হলো, গল্পটা কোথাও গিয়ে থেমে গেছে, অপূর্ণ রয়ে গেল।

যাই হোক, হুমায়ূন আহমেদের অনেক লেখায়ই এমন থাকে—কিছু না বলা কথা, কিছু অন্ধকারে ফেলে রাখা প্রশ্ন। এই বইতেও তেমনটা আছে। তাই হয়তো আমার কাছে বইটা অপূর্ণ মনে হয়েছে। অবশ্য ‘অপূর্ণ’ বলাটা পুরোপুরি ঠিকও নয়। কারণ, হয়তো এটিই লেখকের শিল্প—প্রশ্ন রেখে দেওয়া। কিন্তু পাঠক হিসেবে আমার মনে কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—

নবনী কি সত্যিই মারা গিয়েছিল, নাকি কেবল হারিয়ে গিয়েছিল?

নবনীর স্বামী যখন জানবে, নবনীর একটা মেয়ে আছে—যে বড় হচ্ছে অনাথ আশ্রমে—তখন সে ব্যাপারটা কীভাবে নেবে?

আদৌ কি নবনীর সত্যিই কোনো মেয়ে ছিল?

এই প্রশ্নগুলো মাথার মধ্যে ঘুরছে, আর ঘুরতেই থাকবে—যতদিন না আরেকটা নতুন বইয়ে ডুবে যাই। তাই হাতে নিলাম হুমায়ূন আহমেদের আমার পড়া ১১৮তম বই, ‘তিথির নীল তোয়ালে’

যে বইয়ের নামের উল্লেখ আছে সদ্যপঠিত বই ‘নবনী’-তেই।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:১৫
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×