somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বই রিভিউ : হুমায়ূন আহমেদের “তিথির নীল তোয়ালে”

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জাফর সাহেব রগচটা মানুষ। খুব অল্পতেই রেগে যান। এমন মানুষদের মুখে হাসি থাকে না, কথাতেও থাকে না নরম সুর। তাঁর এই রাগারাগির কারণেই একদিন স্ত্রী রাগ করে বাসা ছেড়ে চলে গেলেন। সঙ্গে নিয়ে গেলেন তাঁদের তিন মেয়ের মধ্যে দুইজনকে। যে মেয়ে মা’র সঙ্গে যায়নি, সে আর কেউ না — এই গল্পের মূল চরিত্র “তিথি”।
মা চলে যাওয়ার পর তিথিই বাসার সব সামলে নেয়। কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে বাজারের হিসাব—সবই তার ঘাড়ে। এমন সময় একদিন হঠাৎ হাজির হয় গ্রাম থেকে আসা এক ভদ্রলোক, নাম নুরুজ্জামান। কথায় কথায় জানালেন, তিনি ঢাকায় এসেছেন শিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে, গ্রামের একটা স্কুলের ফান্ডিং নিয়ে কথা বলবেন। শুনে সবাই ভাবল, কী ভদ্র, কী দায়িত্ববান মানুষ! কিন্তু পরে বোঝা গেল, ব্যাপারটা তেমন না। তিনি এসেছেন টিভিতে পাতার বাঁশি বাজাতে আর ঢাকার কিছু জায়গা ঘুরে দেখতে।



তিথিদের বাসায় ছোটখাটো কাজও তিনি করে দেন—বাল্ব লাগানো, বাজার থেকে লবণ আনা, আবার কখনো তিথির সঙ্গে বসে গল্প করা। এই গল্পের মধ্যেই একসময় দেখা গেল, তিথির বিয়ের কথা মারুফ নামের এক ছেলের সঙ্গে এগোচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ যেন সবকিছু থমকে যায়, বিয়েটা প্রায় ভেঙে যায়। ঠিক তখনই নুরুজ্জামান এসে যেন অদ্ভুত এক জাদু ছড়িয়ে দেন। তাঁর উপস্থিতিতেই যেন ভাঙা সম্পর্কটা জোড়া লেগে যায়। মনে হয়, নুরুজ্জামান না থাকলে বইটার শেষটা এমন সুন্দর হতো না।
মারুফের কথা আর বিস্তারিত বললাম না। সব বলে দিলে তো বইটা পড়ার মজাই থাকবে না। কিছু রহস্য থাকলেই তো গল্পটা জীবন্ত থাকে।
এক কথায়, “তিথির নীল তোয়ালে” একটা অসাধারণ প্রেমের উপন্যাস। বইটা পড়ে মনটা ভালো হয়ে গেল। মনে হলো, এমন গল্প বারবার পড়তে ইচ্ছে করবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:৪১
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা খাদক ছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


আজকে সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু একটা এমন তথ্য দিলেন যেটা শুনে বাংলাদেশের আমজনতা রীতিমতো ক্যালকুলেটর হাতে বসে গেল। কথা হচ্ছে শেখ হাসিনার খাবার খরচ নিয়ে। কোন সালে কত টাকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টি বিলাস!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮



বৃষ্টির জন্য খুব বেশি হাহাকার জমেছিল বলেই কিনা,
জমিয়ে বৃষ্টি এসে রীতিমতো আমাদের জমিয়ে রেখেছে-
এখন গৃহ কারাবাস!
বৃষ্টি তুমি কিনা জমিয়ে রেখেছিলে এতটা ক্রোধ!
থামছেই না তোমার চোখ রাঙানি!
অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিলাম

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬

প্রিয়,
মেঘ বালিকা
(আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিলাম ) ।



আজ তোমাকে আমার মনের একটি গোপন ইচ্ছার কথা বলতে ইচ্ছে হলো।
এই বাস্তব পৃথিবীর নিয়ম বড় অদ্ভুত,এখানে সবকিছুর একটা শেষ থাকে।
কিন্তু যখনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেঁপের বেগুনী, কুমড়োর চপ, কাঁঠালের বার্গার, ডিম সিদ্ধ করে ফ্রিজে ও পেঁয়াজ কুচি করে শুখিয়ে সংরক্ষন!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯

উহা পলাতক। যাহা কখনো পালায়না উহাই পালিয়েছে। উহা রান্না করা ভাত তরকারী বাস্প উড়ছে খেতে পারেনি কিন্তু তাতে কি উহা প্রতিদিন ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা প্রতিদিন খেয়েছে! :B#... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের আনন্দের ফুল

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৩ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯



প্রেয়সি হে প্রিয়তমা গিয়েছ কোথায়?
হারায় অমৃত ঘুম খোলা আখি পাত
বিবর্ণ অনেক লাগে জোছনার রাত
তোমায় হারিয়ে প্রিয়া আঁধার জীবন।
আসবে কি ফিরে তুমি সুখের প্রভায়
জীবন রাঙ্গিয়ে দিতে? অপেক্ষার হাত
তোমার পরশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×