
জাফর সাহেব রগচটা মানুষ। খুব অল্পতেই রেগে যান। এমন মানুষদের মুখে হাসি থাকে না, কথাতেও থাকে না নরম সুর। তাঁর এই রাগারাগির কারণেই একদিন স্ত্রী রাগ করে বাসা ছেড়ে চলে গেলেন। সঙ্গে নিয়ে গেলেন তাঁদের তিন মেয়ের মধ্যে দুইজনকে। যে মেয়ে মা’র সঙ্গে যায়নি, সে আর কেউ না — এই গল্পের মূল চরিত্র “তিথি”।
মা চলে যাওয়ার পর তিথিই বাসার সব সামলে নেয়। কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে বাজারের হিসাব—সবই তার ঘাড়ে। এমন সময় একদিন হঠাৎ হাজির হয় গ্রাম থেকে আসা এক ভদ্রলোক, নাম নুরুজ্জামান। কথায় কথায় জানালেন, তিনি ঢাকায় এসেছেন শিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে, গ্রামের একটা স্কুলের ফান্ডিং নিয়ে কথা বলবেন। শুনে সবাই ভাবল, কী ভদ্র, কী দায়িত্ববান মানুষ! কিন্তু পরে বোঝা গেল, ব্যাপারটা তেমন না। তিনি এসেছেন টিভিতে পাতার বাঁশি বাজাতে আর ঢাকার কিছু জায়গা ঘুরে দেখতে।

তিথিদের বাসায় ছোটখাটো কাজও তিনি করে দেন—বাল্ব লাগানো, বাজার থেকে লবণ আনা, আবার কখনো তিথির সঙ্গে বসে গল্প করা। এই গল্পের মধ্যেই একসময় দেখা গেল, তিথির বিয়ের কথা মারুফ নামের এক ছেলের সঙ্গে এগোচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ যেন সবকিছু থমকে যায়, বিয়েটা প্রায় ভেঙে যায়। ঠিক তখনই নুরুজ্জামান এসে যেন অদ্ভুত এক জাদু ছড়িয়ে দেন। তাঁর উপস্থিতিতেই যেন ভাঙা সম্পর্কটা জোড়া লেগে যায়। মনে হয়, নুরুজ্জামান না থাকলে বইটার শেষটা এমন সুন্দর হতো না।
মারুফের কথা আর বিস্তারিত বললাম না। সব বলে দিলে তো বইটা পড়ার মজাই থাকবে না। কিছু রহস্য থাকলেই তো গল্পটা জীবন্ত থাকে।
এক কথায়, “তিথির নীল তোয়ালে” একটা অসাধারণ প্রেমের উপন্যাস। বইটা পড়ে মনটা ভালো হয়ে গেল। মনে হলো, এমন গল্প বারবার পড়তে ইচ্ছে করবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




