মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা আজকাল রাজনৈতিক অর্থেই বেশী ব্যবহৃত হতে দেখা যাচ্ছে।
১.
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলতে গিয়ে আজকাল এক ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরন দেখা যায়। আওয়ামী লীগ ঘরানার মানুষ মনে করেন যেহেতু তারা মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন সেহেতু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার লাইসেন্সিং তাদের একান্তই নিজস্ব। তাদের মতের সাথে না মিল্লেই আরেকজনকে চেতনার বিরোধী বলে দেয়া হয়।
যে "জয়বাংলা " শ্লোগান দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে যেতেন সেই জয়বাংলা শ্লোগান যেনো আওয়ামী লীগের নিজস্ব সম্পততি। আবার জয়বাংলা শ্লোগান দিলেই কিছু মানুষ আওয়ামী লীগার বানিয়ে দেয়। আজব সব ব্যপার।
আবার জয়বংগবন্ধু শ্লোগান না দিলেও সেই ব্যাক্তিকে অনেকসময়ই চেতনার বিরোধী বলা হয়।
ধরা যাক, একজন মুক্তিযোদ্ধা। উনি বামপন্থায় বিশ্বাষ করেন বা কোনো দলই করেন না। উনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে জয়বাংলা বলেন কিন্তু জয়বংগবন্ধু বলেন না। এই জয়বংগবন্ধু না বলার কারনে কি তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী বা রাজাকার মনোভাবসম্পন্ন বলা যাবে ?
২.
৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের কথা একটি চিরন্তন সত্য। ছোট কিছু বামপন্থি দলের ক্ষুদ্র অংশ ( উদাঃ আবদুল হকের পূর্ব বাংলার কম্যুনিস্ট পার্টি ) ছাড়া সব দলের সম্পৃক্তাতেই মুক্তিযুদ্ধ সফল হয়েছিলো। তবে সেই সময় বামপন্থিদের যুদ্ধে অংশগ্রহন করাটা অনেকক্ষেত্রেই দূসাধ্য ছিলো। প্রতিটি ইয়থ ক্যাম্পের দ্বায়িত্বে থাকতেন একজন এম.এন.এ বা এম.এল.এ, যারা মূলত আওয়ামী ঘরানার ব্যক্তি। যারা মুক্তিযোদ্ধা রিক্রটের প্রাথমিক দ্বায়িত্ব পালন করতেন। এসময় অনেকসময়ই দেখা হোতো মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনুচ্ছ ব্যক্তি আওয়ামী লীগ করেন কি না বা পাকবাহিনীর চর কি না। একজন ব্যক্তি আওয়ামী পরিচয় দিতে পারলে যতোটুকু সহজ হতো যুদ্ধে অংশগ্রহন করে ততোটুকুই কষ্টসাধ্য ছিলো বামপন্থায় বিশ্বাষ করলে। সেক্টর ২ তে যতোসংখক বামপন্থায় বিশ্বাষী মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া যায় অন্য সেক্টর গুলোতে সেই সংখ্যায় বামপন্থি মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া যায় না।
এটা বলা হচ্ছে এই ভেবে যে, একজন বামপন্থি আওয়ামী চিন্তা চেতনায় বিশ্বাষী না হলেই বলা যাবে না যে উনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সৈনিক নন।
৩.
অনেকই আছেন যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন ও অন্তরে ধারন করেন কিন্তু রাজনৈতিক বা সামাজিক মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত নন কোনো ভাবেই। এ সম্পৃক্তহীন কারনে তাদের প্রকাশ করার সুযোগ থাকে না বা সম্ভব হয় না। এখন তাদেরকে কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী বলা যাবে ?
এটা বলা হচ্ছে সেই সব মানুষদের কথা ভেবে যারা দেশপ্রেমিক, নিরব যোদ্ধা, সাধারন মানুষ যারা চেতনা ধারন করেন কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে মিশে ঝাঁকের কৈ হতে চান না বা হোন না।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



