অনেক আগে থেকে একটা বিষয় মাথায় স্ট্রাইক করছিল। কিন্তু বলে সাহস পাচ্ছিলাম না। ঐ যে! মধ্যবিত্ত বাঙালির মধ্যবিত্ত মানসিকতা। সাহসটাও তাই মধ্যবিত্ত। আজকাল মনে হয় একটু একটু করে সাহস বাড়ছে। আমি জানি বেশি সাহসের পরিণাম ভাল না। তবুও ইদানীং ভেতরে একটা “কুচ পরোয়া নেহি” ভাব এসে যায়। যাই হোক, কিছুদিন আগে এক জনৈক ফেসবুক সেলিব্রেটির স্ট্যাটাস দেখে বিষয়টি আবার মাথায় এলো। এবং আমার একটি ঘোড়ারোগ আছে। একবার কোনকিছু মাথায় ঢুকলে সহজে বের হয়না। টেপরেকর্ডারের মত সারাদিন ভেতরে বাজতে থাকে।
বিষয়টি হচ্ছে, আমাদের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা” গানটাকে আমার কাছে ভীষণ ছা-পোষা, নির্জীব, অসহায়, একঘেয়ে ও অর্থহীন একটি প্রলাপ সঙ্গীত মনে হয়। এই গানটি শুনলে আপনার রোমকূপে শিহরন হয় কি? হয় না। এই গানটি গাইলে আপনি উজ্জীবিত হন কি? হন না। এই গান আপনাকে প্রেরণা-প্রেষণা দেয় কি? দেয় না। তাহলে কেন এই চরম অনর্থবহ গানটিকে একটি দেশের জাতীয় সঙ্গীত করে রাখা, যে দেশের রয়েছে একটি সোনালী ইতিহাস? যে দেশের মানুষ রক্ত না দিয়ে মায়ের মুখের ভাষাও অর্জন করতে পারেনি? যে দেশের মানুষ দেয়ালে পিঠ থেকে গেলে সবসময় রুখে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু মাথা নোয়ায় নাই?
শুধুমাত্র আকাশ বাতাস, কী শোভা কী ছায়া কী মায়া দিয়ে সমৃদ্ধ একটি গান অসাধারণ দেশের গান হতে পারে, কিন্তু কোনভাবেই জাতীয় সঙ্গীত নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই জাতীয় সংগীতের পরিবর্তন চাই।
(বিঃ দ্রঃ) আমি কোনকালেই রবীন্দ্রবিদ্বেষী ছিলাম না, এখনো নই। রবিঠাকুরের অনেক গান, অনেক কবিতা, অনেক গল্প এখনো আমার কাছে দৈনন্দিন আহারের মত। রবীন্দ্রনাথ আমার কাছে ভাত, আর বাঁকি সবাই তরকারি, সবজি, ভর্তা, ভাজি ও নিমক)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


