somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিনাজপুরের লিচু এখন বাজারে

১১ ই জুন, ২০১৭ রাত ১১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সবার মন জয় করা অনন্য স্বাদের টসটসে লাল দিনাজপুরী লিচু এখন বাজারে। আর দিনাজপুরী লিচু মানেই অন্যরকম মিষ্টি ও রসালো স্বাদ। বিভিন্ন জাতের লিচুর মধ্যে বেদানা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না-থ্রি আর দেশি লিচু এখন গাছে গাছে। বাগানগুলোতে মৌ মৌ গন্ধ।



লিচু লাভবান ফল হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে লিচুর আবাদ। দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২০০৯ সালে লিচু চাষের জমির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫০০ হেক্টর, ২০১০ সালে ১ হাজার ৭৮০ হেক্টর, ২০১১ সালে ১ হাজার ৯৬৫ হেক্টর। ২০১২ সালে ২ হাজার ৫০০ হেক্টর।
বছরে দিনাজপুর জেলায় ৪ হাজার ১৮৩ হেক্টর জমির ৫ হাজার ২৯৮টি বাগানে ৬ লাখ ৪৫টি গাছে লিচু উৎপাদন হচ্ছে। এ পরিমাণ গাছ থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ২২৭ মেট্রিক টন লিচু। আর একেকটি গাছে গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার লিচু ধরে।

প্রতি বছরই মধু মাসের আগমনে খুশি হয় দিনাজপুরের লিচু চাষি, বাগানি ও ব্যবসায়ীরা তথা সারাদেশের মানুষ। তবে এবারে বৃষ্টি না হওয়ায় এবং প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে শুরুতে লিচুতে দেখা দেয় খোসা পঁচা ও ফেটে যাওয়া রোগ। বালাইনাশক স্প্রে করেও এর প্রতিকার পায়নি কৃষকরা। এতে করে দামের ব্যাপারে এবারে লিচুতে ক্ষতির আশঙ্কা ছিল কৃষকদের। পাশাপাশি যুক্ত হয়েছিল ফরমালিন আতঙ্ক। তবে সেসব আতঙ্ক কাটিয়ে বাজারে পুরোদমে লিচু আনতে শুরু করেছে কৃষক ও বাগান ব্যবসায়ীরা। আর ফরমালিনের যে আতঙ্ক ছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরীক্ষা করেও তা এবারে পাওয়া যায়নি।

দিনাজপুরের নিউ মার্কেট এলাকায় লিচু বিক্রি করতে আসা কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান,খরার কবলে পড়ে এবারে লিচুর দানা ছোট হয়েছে। পাশাপাশি লিচুতে দেখা দিয়েছিল পচা ও ফেটে যাওয়া রোগ। দামের বিষয়ে শঙ্কা থাকলেও ভালো দাম পাচ্ছেন তারা।

কিসামত মাধবপুর থেকে লিচু বিক্রি করতে আসা কৃষক কুদ্দুস আলী ও মোবারক শাহ জানান, লিচুর মোটামুটি দাম ভালো। তবে আরও দাম বেশি হওয়া উচিৎ ছিল, কারণ এবারে লিচু উৎপাদন করতে বেশি খরচ হয়েছে। তারা জানান, খরার কারণে পানি সেচ ও সারের ব্যবহার বেশি হয়েছে। যাতে করে প্রতিটি লিচু গাছে প্রায় ৫ থেকে ৭শ’ টাকা বেশি খরচ হয়েছে।

দিনাজপুরের লিচু বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে ওঠা বোম্বাই জাতের লিচু প্রতি একশ’টি ১৫০ থেকে ২২০ টাকা, মাদ্রাজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, বেদেনা লিচু ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা, চায়না থ্রি ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাধববাটি থেকে আসা লিচু বাগান ব্যবসায়ী তৌহিদুল ইসলাম জানান, বাজারে লিচুর দাম প্রতিদিনই ওঠানামা করছে। যার ফলে তাদেরকে কোনও দিন লাভ আবার কোনওদিন আসল নিয়ে বাড়িতে ফিরতে হচ্ছে। তবে লোকসানের যে আশঙ্কা ছিল তা নেই।

স্থানীয় কিংবা ঢাকা, চট্টগ্রাম বিভিন্ন স্থান থেকে আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে এবার অনেক লিচু আবাদ হয়েছে। যার ফলে লিচুর দাম কম-যার প্রভাব পড়ছে দিনাজপুরের বাজারে। তবে তুলনামূলকভাবে গত বছরের চেয়ে এবারে লিচুর বাজার দাম বেশি।

ময়মনসিংহ থেকে আসা লিচু ব্যবসায়ী শরিফ উদ্দিন জানান, এবারে রংপুর, নওগাঁ, পাবনা, নাটোরেও লিচু আবাদ হয়েছে। যার ফলে এবার দাম কিছুটা কম। তবে তিনি জানান,সব জায়গার চেয়ে দিনাজপুরের লিচুর চাহিদা অনেক বেশি।

ঢাকা থেকে আসা লিচু ব্যবসায়ী দিলদার আলী জানান, দিনাজপুরের লিচুর চাহিদা সবখানেই বেশি। লাভ কম হলেও ব্যবসা ভালো হওয়ার জন্য এখানের লিচুর ব্যবসা করেন।তিনি আরও জানান, এ বছরে লিচুর ব্যবসা করতে কোনও শঙ্কা নেই তার। তাছাড়া আবহাওয়াও মোটামুটি ভালো বিরাজ করছে।

দিনাজপুর হর্টিকালচার সেন্টারের সহকারী উদ্যান উন্নয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরুল আহসান জানান, এবারে খরা আবহাওয়ার কারণে লিচুর দানা কম হয়েছে। তাছাড়া এবারে লিচু মোটাতাজাকরণের হরমোন ব্যবহার না হওয়ায় আকারে লিচু ছোট হয়েছে। যাতে করে আকার অনুযায়ী দাম কম। তাছাড়া রমজান মাসে লিচুর চাহিদা কমে যাবে এই অজুহাতে দাম কম হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এবারে আংশিক হলেও আগামী বছর পুরোপুরিভাবে কোনও প্রকার কীটনাশক ও হরমোন ছাড়াই লিচু আবাদ হবে, যেটি মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য একটি ভালো দিক।


আমার সাথে ফেসবুকে যোগাযোগের লিংক http://www.facebook.com/sunondito
আমাদের দিনাজপুর সম্পর্কে জানতে http://www.facebook.com/BeautifulDINAJPUR
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৭ রাত ১১:৪৬
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ১৭ই মার্চ ১৯২০

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪১




একটা সোনার ছোট্ট ছেলে জন্ম নিলো এই  দিনে,
স্বভাবগুনে স্থান পায় সে কোটি জনতার মনে।

সেই ছেলেটি জন্মেছিল টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।
মুক্তিরই এক বার্তা নিয়ে এলো ধরাধামে।

অন্তরটি তাঁর বিশাল বড়ো,বুক ভর্তি  মায়া,
সব মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে ওঠলাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×