আক্কেল আলী আজকাল কাউকে বিশ্বাস করেন না,
চায়ের দোকানে বসে শুধু মানুষ দেখেন,
মানুষের মুখ নয়,
মুখের ওপর ঝোলানো মুখোশ দেখেন।
তিনি বলেন,
এই যে লোকটা খুব নীতির কথা বলে,
সুযোগ পেলে সবার আগে
নিজের নীতিটাকেই বিক্রি করে দেবে।
ওই যে ভদ্রলোক,
দেশ নিয়ে যার গলায় আগুন,
বিপদের সময় তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না,
শুধু তার বস্তাপচা বক্তৃতাগুলো
ভাংগা টেপরেকর্ডারের মতো বাজে।
আক্কেল আলী হেসে বলেন,
মানুষ বড় আশ্চর্য প্রাণী,
সামনে এক মুখ, পেছনে আরেক মুখ,
আয়নার সামনে তৃতীয় মুখ,
আর ক্ষমতার দরজায় গিয়ে চতুর্থ মুখটি বের করে।
কেউ প্রগতির পতাকা হাতে হাঁটে,
কেউ ন্যায়ের মশাল জ্বালায়,
কেউ স্বাধীনতার গান গায়,
কেউ আবার সত্যের পাহারাদার সেজে
সত্যটাকেই রাতের অন্ধকারে গায়েব করে দেয়।
যারা বন্ধু বলে পাশে থাকে,
তারা হিসাবের খাতা খোলে।
যারা স্বজন বলে বুকে জড়ায়,
তারা সুযোগ বুঝে দূরত্ব মাপে।
আর যারা দেশপ্রেমের কথা বলে
তারা দেশের মানচিত্রের চেয়ে
নেতার ফোট ফ্রেমটাকেই বেশি ভালোবাসে।
তারপর আক্কেল আলী চুপ করেন।
অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলেন,
দেশটা একদিনে নষ্ট হয়নি,
প্রতিদিন একটু করে আমরাই তাকে নষ্ট করেছি।
একটু মিথ্যা বলে, একটু চুপ থেকে,
একটু সুবিধা নিয়ে, একটু অন্যায়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে।
আক্কেল আলী তাই আজকাল কারও মুখোশ খুলতে যান না।
শুধু আয়নাটা সামনে রেখে বলেন, দেখো।
দেশের সবচেয়ে বড় চোর
হয়তো তোমার পাশের মানুষটি নয়,
হয়তো আয়নার ভেতরের লোকটিই।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


