somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দানব শক্তির পরাজয় গণতন্ত্রের বিজয়ে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই

০৯ ই আগস্ট, ২০১৭ সকাল ৯:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অনেকে বলছেন কঠোর দমন নীতির মধ্যে জামায়াত শিবির রীতিমতো গর্তে ঢুকে গেছে। কিন্তু বাঙালি জাতির শোকের মাস আগস্টে সিলেটে সোবহানীঘাটে ছাত্রলীগ নেতা শাহীন আহমদ ও আবুল কালাম আসিফকে দিনদিপুরে চাপাতি দিয়ে যেভাবে কুপিয়েছে তাদের বর্বোরোচিত রাজনীতিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। এই অন্ধকার শক্তি, এই স্বাধীনতা বিরোধী একাত্তরের পরাজিত ঘাতকের দল একসময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের অভয়ারণ্য করেছিল। তাদের রগ কাটা রাজনীতির শিকার হয়ে দুহাত হারিয়েছিলেন তাদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে ছাত্র সমাজ নেতা হামিদ। সেই থেকে কত মুক্তিযুদ্ধের পুক্ষে ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের হাতে নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে, লাঞ্ছিত, অপমানিত হয়েছে। সেই থেকে তাদের রুখতে সকল ছাত্র সংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে চাকসু নির্বাচন ও আন্দোলনে বিজয় অর্জন করেছে।

পাহাড় ঘেরা সূর্যসেন-প্রীতিলতার শত সংগ্রামের পবিত্র ভূমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মায়াবনো পরিবেশ ওরা বিষাক্ত করেছিল। ছাত্রছাত্রীরা বুক ভরে শ্বাস নিতে পারেনি। মুক্ত বিহঙ্গের মতো, মুক্ত চিন্তা ও মননশীলতার তীর্থস্থানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নির্দ্বিধায় পথ হাঁটতে পারেননি। রাত নামলেই যেন ক্যাম্পাস জুড়ে ছিল কারফিউ। ক্যাম্পাসে সেই শিবির শাসন আরো পাকাপোক্ত হয়েছিল ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত মিলে যখন সরকার গঠন করেছিল। যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে যখন তুলে দেয়া হয়েছিল লাখো শহীদের রক্তে কেনা স্বাধীন বাংলার পতাকা। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধু কন্যা ১৯৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় এলেন তখনো তারা চট্টগ্রামে ব্রাশফায়ার করে ছাত্রলীগ কর্মীদের হত্যা করেছিল। অসংখ্য ‍দুর্ধর্ষ ক্যাডার জন্ম দিয়েছিল ছাত্র শিবির।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাকৃতিক নিসর্গ আর ছবির মতো স্থাপত্যশৈলীতে সাজানো ক্যাম্পাসকে বলা হতো এখানকার শান্তি নিকেতন। দেশসেরা সন্তানরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। বহিরাগত শিবির ক্যাডার দিয়ে আশির দশকের শুরুতে ক্যাম্পাস দখল করতে গিয়ে ছাত্র সমাজের প্রতিরোধের মুখে তারা পিছুই হটেনি, তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়েছিল। এই ছাত্র শিবির রমজানের ছুটিতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ছাত্রনেতাদের হাত ও পায়ের রগ কেটে দিয়েছিল।

১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর চির তারুণ্যের এই ক্যাম্পাসকে ভয় আর আতংকের শাসনে পরিণত করেছিল। ছাত্রনেতা রুমু হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে একচ্ছত্র চাপাতি শাসন কায়েম করেছিল। হলে হলে তাদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। ২০০৮ সালে গণরায় নিয়ে ক্ষমতায় আসা বঙ্গবন্ধু কন্যা জনগণকে দেয়া অঙ্গিকার পূরণে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসিতে ঝুঁলিয়েছেন। এই বিচার প্রক্রিয়া স্তব্ধ করে দিতে তাদের মিত্র বিএনপি জামায়াতের কাঁধে ভর করে সহিংস হরতাল অবরোধের পথে রক্তগঙ্গাই বইয়ে দেয়নি, নিজেদের জীবনই দেয়নি, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা রাস্তাঘাট, গাছপালা কেটে ফেলেছে। কতটা হিংস্র হতে পারে তারা ৭১ ই নয়, পরবর্তীতেও দেখেছে বাংলাদেশ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতা ফারুককে নৃশংসভাবে হত্যা করে সেপটিভ ট্যাংকে লাশ ফেলে রেখেছিল। মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে এরা হিংস্র, ধর্মান্ধ চাপাতির বর্বোরোচিত রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ছাত্রলীগ নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। গোটা ছাত্র রাজনীতির আদর্শিক ধারা ফিরিয়ে না আনলে সেই বিতর্ক পিছু ছাড়বে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত জাতির আশা আকাঙ্খার প্রতীক। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম বঙ্গবন্ধুর আদর্শে পথহাঁটা সংগ্রামে। তারই রক্ত ও আদর্শের উত্তরাধিকার শেখ হাসিনাই আমাদের আশ্রয় ও ঠিকানা হয়ে উঠেছিলেন। এখনো তিনিই আমাদের আশার বাতিঘর। অসম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শক্তির পরম আশ্রয়স্থল। তিনিই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত জাতির ঐক্যের প্রতীক।

ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে স্বাধীকার, স্বাধীনতার পথে সুমহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকাই রাখেনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র আঙিনা থেকে জাতির সংকটে, বিপ্লবে, পরিবর্তনে বারবার জেগেই উঠেনি, অতন্ত্র প্রহরীর মতো সজাগ থেকেছে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত ছাত্র শিবির প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসতে পারেনি। কিন্তু তাদের গোপন সাংগঠনিক তৎপরতা যতদূর জানি থেমে নেই, সজাগ-সচল রয়েছে। এই অন্ধকার ধর্মান্ধ শক্তির সঙ্গে দেশজুড়ে যে জঙ্গিবাদের আস্ফালন বা উত্থান ঘটেছিল সেটিও জিরো টলারেন্স নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কঠোর হস্তে দমন করেছেন। এখানে কোনো আপোসের পথ নেননি। যারা আপোসের পথ অতীতে নিয়েছিলেন, গলায় গলায় মাখামাখি করে রাজনীতি ও ক্ষমতা ভাগাভাগি করেছিলেন তারা এখনো এই অপশক্তিকে বুকের মধ্যেই রেখেছেন। এই সম্পর্ক ছিন্ন হবার নয়।

এমনি পরিস্থিতিতে ইতিহাসের স্রোতস্বীনি নদীর মতো বহমান ছাত্রলীগকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সততা ও নীতির পথে, ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হতে হবে। এদেশের গণতান্ত্রিক এমন কোনো আন্দোলন নেই ছাত্রলীগের ছেলেরা জীবন দেয়নি, আত্ন উৎসর্গ করেনি, প্রতিপক্ষের হাতে আক্রমণের শিকার হয়নি, শাসকের জেল জুলুম নির্যাতন সয় নি। বঙ্গবন্ধু নিজেও বলেছেন, ছাত্রলীগের ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাস, ছাত্রলীগের ইতিহাস, বাঙালির ইতিহাস। দেশের তারুণ্যকে আদর্শের পথে ছাত্রলীগকেই টেনে আনতে হবে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ছাত্রলীগ ব্যানারে যেখানে যারা অপকর্ম করছেন, তাদের বিরুদ্ধে যেভাবে সাংগঠনিক শাস্তির খড়গ নামানো হচ্ছে সেটি অব্যাহত রাখতে হবে।

এই রকম একটা পরিস্থিতিতে অন্ধকারে থাকা ছাত্র শিবির যদি প্রকাশ্য দিবালোকে সিলেটের মতো শহরে ছাত্রলীগ নেতাদের কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, তাতে বুঝা যায়; একবার যদি আবার ক্ষমতা অংশীদারিত্ব পায় হত্যা মহোৎসবে তারা মেতে উঠবে। হাত কাটা, পা কাটা, রগ কাটা রাজনীতি দর্শন। এই রাজনীতিকে মাথা তুলতে দেয়া যায় না বলে, আরেকবার জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদের উত্থান ঘটানো যায় না বলে, এমনকি শিক্ষাঙ্গনগুলো একাত্তরের পরাজিত দানব শক্তির উত্তরাধিকারীদের হাতে তুলে দেয়া যায় না বলেই, আগামী জাতীয় নির্বাচন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই ভোটযুদ্ধে ওদের মিত্রদের পরাজিত করে শেখ হাসিনাকেই ব্যালট বিপ্লবে অভিষিক্ত করতে হবে। দানব শক্তিকে পরাস্ত করে গণতন্ত্রের শক্তির বিজয়ে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।
সুত্র
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০১৭ সকাল ৯:০৬
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ১৭ই মার্চ ১৯২০

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪১




একটা সোনার ছোট্ট ছেলে জন্ম নিলো এই  দিনে,
স্বভাবগুনে স্থান পায় সে কোটি জনতার মনে।

সেই ছেলেটি জন্মেছিল টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।
মুক্তিরই এক বার্তা নিয়ে এলো ধরাধামে।

অন্তরটি তাঁর বিশাল বড়ো,বুক ভর্তি  মায়া,
সব মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে ওঠলাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×