somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কথপোকথন!

১৯ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-হ্যালো। হ্যালো.....হ্যালো।
-হ্যালো হ্যালো করছো কেনো। শুনতে পাচ্ছি। বলো।
-তুমি সত্যিই পাল্টে গেছো।
-রাখতে চেয়ে আবার কী শুরু করলে। উফ!
-আরেকটু।
-বল।
-রেখো না। সময় দাও একটু।
-বল তো।
-জানি অনেক কস্ট অভিমান রাগ নিয়ে আছো আমার উপরে। কিন্তু...
-তোমার উপর রাগ। অভিমান। কস্ট। কেনো বলতো?
-হবারই তো কথা।
-তুমি পারোও বটে। ক্লাউন একটা।
-বল। যা খুশি বল।
-তোমাকে কিছু বলতেও চাইনা।
-আমি নিরুপায় ছিলাম। আমার ধারনা এখন তুমিও সেটা বোঝ।
-আমি কিছু বোঝাবুঝির মধ্যে নেই। আর অতীত নিয়ে একদমই ভাবতে চাই না আর।
-হায়দার ভাইয়ের ব্যাপারটা আমি বুঝি নাই। বোঝাবে একটু।
-না বোঝার কী আছে। আর তোমাকে এসব জানাতে বোঝাতে যাবো কেনো বলতো।
-ওহ।
-তোমার মাত্রা বোধ আগের মতই কম রয়ে গ্যাছে। বয়সটাই বাড়লো শুধু তোমার।
-তোমাকে সুখি না হোক, তোমার জীবনটা স্বস্তির হলেও নিজেকে ক্ষমা করতে পারতাম!
-আহ! আমাকে রাখতে হবে।
-প্লিজ।
-উফ!
-হায়দার ভাই এমন করলো কেনো। বল প্লিজ।
-হায়দার কিছুই করেনি। আমিই সেপারেশন চেয়েছিলাম। বিয়ের দিন থেকেই লোকটাকে দেখে আসছি। নিপাট ভদ্রলোক। আর এতো বেশি ফরমাল! বউয়ের সাথেও সব সময় ভদ্রতা করে৷ তাই আর সহ্য হল না৷
-কী!
- অদ্ভুত ব্যাপার হল, বিনা বাক্যে মেনেও নিলো। কী সব ব্যবস্থা করে জার্মানী চলে গেলো৷ বাচ্চাটার কথাও কিছু বললো না।
- তোমার, তোমাদের ভবিষ্যত ভাবলো না!
- তার আজীবনের সব অর্জন রেখে গ্যাছে আমাদের জন্য। তোমার মত না। অন্তত দায়িত্ব জ্ঞানহীন কাপুরুষ না। তবে সে নিপাট ভদ্রলোক। উত্তাপহীন। নির্জলা। তাই আর নিতে পারছিলাম না।
- ও।
- পারবে বাকী জীবনটা একা কাটাতে?
- সে তোমায় ভাবতে হবে না।
- ভাবছি না। বোঝার চেস্টা করছি।
- তোমাকে বুঝতেও হবে না।
- কী জানি।
- হায়দারের নাগাল তুমি কোথায় পেলে?
- হায়দায় ভাইয়ের সাথে তোমার বিয়ের আগে থেকেই আমার জানাশোনা ছিলো। আমাদের ব্যাপারটা জানতো কী না, তা জানি না।
- হায়দার তোমাকে কী জানিয়েছে?
- জার্মানীতে সেটেল করতেছে। একা। এটুকুই।
- সেটা জেনেই তোমার পুরনো প্রেম উথলে উঠা শুরু করলো।
- এভাবে বল না।
- হায়দারের অনুপস্থিতির সুযোগ নিচ্ছো। ছি!
- হায়দার ভাই থাকাতে তোমাকে কল দিই নি আমি?
- কেন দিতে?
- তুমি ধরতে কেনো?
- বাহ। বাহ।
- আমাকে তো ভোল নি এখনো। পারবেও না ভুলতে।
- হা হা। ঘৃণার বস্তু কে ভোলা এতো সহজ?
- মায়মুনা!
- এর চেয়েও বেশি অপমান, ঘৃণা তোমার প্রাপ্য।
- ওহ।
- তাই-ই।
- ঘৃণা করতে হলেও অনুভুতিতে রাখতে হয়। উল্টো করে হলেও। যাক, ঘৃণা হয়ে হলেও বেঁচে তো আছি।
- লজ্জা করে না এসব ন্যাকামো করতে!
- ন্যাকামো কেন হবে? ভুলে তো আর যাও নি। কাউকে ভুলে যাওয়া আর নিজের কাছে সেই মানুষটিকে মেরে ফেলা একই কথা। সেটা তো আর হয়নি। কাউকে ভুলে যাওয়া মানে নিজের কাছে সেই মানুষটি নাই হয়ে যাওয়া। মৃত্যুর চাইতেও বেশি বেদনার কাউকে ভুলে যাওয়া। তোমার কাছে বেঁচে তো আছি।
- আবার শুরু করলে!
- ভুল কী বললাম।
- সঠিক বেঠিক বুঝি না। তোমার এসব ফালতু আতলামো আর নিতে চাই না।
- এক সময় এসবই ভালো লাগতো তোমার।
- সেই দিন আছে? লজ্জা করে না সেসব দিনের কথা তুলতে?
- চাইলেও অতীত পাল্টাতে পারবে না। এটাই ট্রাজেডি মানুষের। তোমারও। আমাকেও ভুলতে পারবে না।
- ঘৃণা তো করতে পারি।
- ঘৃণা করতে হলেও তো মনে রাখতে হয়।
- আবার! সেই খুশি নিয়েই থাকো।
- তোমার কাছে বেঁচে আছি। সেটাই বা কম কী।
- হাহ
- ঢাকায় আসছি সামনের মাসে।
- তো?
- তো কিছু না।
- রাখি।
- প্লিজ
- ছেলেটা পড়তে বসছে। দেখাতে হবে।
- ছেলের বয়স কত?
- জেনে কী করবে? আর জানাবোই বা কেন?
- এমনিই।
- এসব আর ভাল লাগছে না। রাখি তো।
- না।
- আর নিজের কথাটা রেখো।
- কোন কথাটা?
- কল দেবে না আর। সেটা।
- হুম। কল আর দেবো না। ঢাকায় এসে নেই।
- ঢাকা আসার সাথে কলের কী সম্পর্ক। প্লিজ আমাকে আমার মত থাকতে দাও।
- তুমি তো তোমার মতই আছো। আগেও তাই ছিলে।
- আগেও তাই ছিলাম মানে!
- আমি না হয় কাপুরুষ। তুমি কী ছিলে? তুমি কোন চেস্টা করেছিলে সম্পর্কটা রাখতে?
- তোমার নির্লজ্জতায় স্তম্ভিত । এসবের সাথে আমার আমার মত থাকতে চাওয়ার কী সম্পর্ক?
- আছে। আগে বল তুমি চেস্টা করেছিলে সম্পর্কটা রাখতে?
- তুমি ভুলে যাচ্ছো পূর্ণেন্দু তুমি কাকে কী বলছো!
- একদম ভুলিনি।
- ভুলেছো। না হলে তোমার মাথা গ্যাছে। অবশ্য যাবারই কথা। অভিশাপ তো কম মানুষের পাওনি আর।
- এসব বলে নিজের দায়টুকুও এড়িও না।
- দায় এড়াবে কে? আমি? তোমার মাথা ঠিক আছে? আমার দায়ের প্রশ্ন আসছেই বা কেনো?
- তোমার কোন দায় নেই? আমি তো একটা মানুষ নাকি?
- অমানুষ।
- সব দায় আমার। সব চেস্টা আমাকেই করতে হতো?
- তাই তো হয়। তাই তো করার কথা তোমার। দায় না নাও। চেস্টা না কর। কিন্তু না পালালেও পারতে!
- পালিয়েছি। আমি?
- তো কে?
- মায়মুনা! পারছো এভাবে বলতে!
- মিথ্যে বলছি?
- সত্যটা তুমি জানো না?
- সত্য জানি জন্যই তোমাকে চিনেছি।
- চাইলেও আমরা সম্পর্কটা রাখার মত বাস্তবতায় ছিলাম না। এই সত্যটুকু তুমি জানতে?
- আমাকে ছেড়ে চলে গ্যাছো তুমি। এই সত্যিটা জানি আমি।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাবমেরিন, সাংবাদিকতা এবং আনুষঙ্গিক কিছু কথা!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২০ সকাল ১১:২৩



শুরুতেই একটা গল্প বলি, শোনেন। এটা তিন বন্ধুর গল্প।

বাবুল, মিলন আর ভাস্কর তিন বন্ধু। বাবুল আর মিলন ছাপোষা টাইপের মানুষ। ওদিকে ভাস্কর বেশ পয়সাওয়ালা এবং ক্ষমতাশালী। বাবুলের একদিন হঠাৎ শখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অকারনে কেউ কাউকে গুলি করে না

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১২:৩৮

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান
সাবেক সেনা কর্মকর্তা, এখনো বিয়ে করে নি, এত কম বয়েসে অবসরপ্রাপ্ত? নাকি বর্খাস্ত?
কি কারনে চাকরি ছাড়লো বা চাকরি গেল কেউ জানে না। মিলিটারি সিক্রেট।
সে সেনাবাহিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে- ১৭১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১:১০



১। সরকারের ভালো দিকগুলো তুলে ধরলে হয় দালাল আর সরকারের বিপক্ষে কথা বললে প্রতিবাদী!
কী আজিব চিন্তা-ভাবনা!

২। দুনিয়াতে অলৌকিক কিছু ঘটে না।
মানুষের অজ্ঞতার ফলে তারা মনে করে এটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার আসিতেছে ফিরে সামওয়্যারইনব্লগ গল্প সংকলন :)

লিখেছেন মাহমুদ০০৭, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:২৫

আনন্দের সাথে জানাচ্ছি-সামওয়্যারইন ব্লগ গল্প সংকলন পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।ব্লগের নতুন-পুরাতন কিছু ঋদ্ধ ব্লগার এ উদ্যোগে তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় পুলিশ, আপনাদের ইমেজ ভয়াবহ সংকটে পতিত হয়েছে। উদ্ধার পাবার কোন রাস্তা কি খোলা আছে?

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৪:৫৫

সেনাবাহিনীর একজন সাবেক চৌকশ অফিসারকে গুলি করে হত্যা করা হলো। ধরলাম গভীর রাতে পুলিশ সাবেক এই কমান্ডোকে দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলো তাই জীবন বাঁচাতে পুলিশ অফিসার লিয়াকত চার চারটি গুলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×