somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবনের এলোমেলো কিছু কথা

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মা নিয়ে বেশ কটা লেখা পড়ার পর নিজের মাতৃত্বের ক্ষমতা আর সক্ষমতা নিয়ে বড়ই সন্দিহান হয়ে পড়েছি। এতদিন ভেবেছিলাম বুঝি বেশ ভালভাবেই মায়ের দায়িত্ব পালন করে এসেছি। কিন্তু কিছুদিন যাবত বিভিন্ন মায়ের ত্যাগ তিতিক্ষার কাহিনী পড়ে আর শুনে আমি নিশ্চিত যে আমি এ বিষয়ে ফেল। আসলে সন্তানের প্রতি দায়িত্ববোধের পারসেপশনটার অভাব রয়েছে আমার। সাবলিলভাবে অন্তর থেকে যা আসে তাই করেছি, করছি, আর তাই যদি দায়িত্ববোধের মধ্যে পড়ে যায় তাহলে তা অচেতনভাবেই পালন করেছি। বড় হয়েছি খুব অদ্ভূতভাবে, মাঝে মাঝে মনে হয় খুব অসঙ্গতিপূর্ণ আমার বিভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্যসমূহ। বিয়েই করতে চাইনি। বিয়ে থেকে পালিয়ে পালিয়ে বেঁচেছি বেশ অনেক কটা বছর। কিন্তু শেষে বলা চলে একেবারে জোর করে হাত পা বেধে আমাকে অপরিচিত একটি মানুষের সাথে বিয়ে দিয়ে দেয়া হল। আমি তো ভাই অন্য চিড়িয়া, ঐ লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট টাইট যে আমার কম্ম নয়, বোঝেনি বাছাধন। বড়ই মিইয়ে গিয়েছিল বিয়ের পর পর। ওতে আমার কোনো ভাবান্তর নেই। আমি তো আর যেচে বিয়ে করিনি, আমার কি? কিন্তু বিপত্তি ঘটলো অন্য জায়গায়। নিজেকে যখন সামাজিক নিয়মের একজন বলি হিসাবে সমাজের গুষ্টি উদ্ধার করছি, তখন হঠাৎ মনে হল এ বিয়ে থেকে পালানোর তো কোনো পথ নেই। ব্যাপারটা বেশ পাকাপোক্ত একটা ব্যাপার, আর এ থেকে পালালেও না খেয়ে মরতে হবে। বাপ ভুলেও ঘরে ফিরিয়ে নিবে না। আমার মত বাউন্ডেলে অগোছালো মেয়েকে পার করতে পেরে হাফ ছেড়ে বেঁচেছিল। বিয়ের পর নাকে সরষে তেল দিয়ে টানা তিনদিন ঘুমিয়েছিল নির্ঘাত। এখন আমকে দোরগোড়ায় দেখলেই তো তেলেবেগুনে জ্বলে উঠবে। কিন্তু এই অজানা অচেনা একটা লোকের সাথে সারাটা জীবন কাটিয়ে দিতে হবে? রাগে দুঃখে মাথার চুল ছিড়তে ইচ্ছা করলো। কোনো উপায় নেই কি করবো? তখন আমার এক বান্ধবী যে কিনা আমার বিয়ের সময় ঘরের শত্রু বিভীষণের ভূমিকা পালন করেছিল, আমাকে পরামর্শ দিল বেবি নেয়ার জন্য। আমি আবার বাচ্চা বলতে পাগল। বড়দের থেকে বাচ্চাদের সাথে সময়টা কাটে ভাল। সত্যিকথা বলতে পারতপক্ষে বড়দের ছায়াই মারাই না। এরা বড় পেচুয়া পাবলিক। যাই হোক ঐ বিভীষণ বান্ধবী কথাটা আমার কল্যানের জন্যই বলেছে ভেবে, মনে ধরে গেল বুদ্ধিটা। কিন্তু এই কাজ করতে হলে সেই চিরাচরিত ভয়ঙ্কর পথে পা দিতে হবে এই অচেনা লোকটার সাথে। ছি ছি ছি কি ডিসগাস্টিং! মনে হল মা ধরনী দ্বিধা কর। চোখে পানি চলে এল। যাই হোক একবার যখন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি, আর পিছাব না। কিন্তু আমি বড়ই আনাড়ি মানুষ, এ বিষয়ের কোনো অনুশীলনও নেই, বিপাকে পড়ে গেলাম। শেষমেশ উপায়ন্তু না দেখে আমার বরমশাইয়ের শরণাপন্ন হলাম, আর যাই হোক এর সাহায্য ছাড়া তো সম্ভবও না। এক সময় না এক সময় সব কথা তো খুলে বলতেই হবে। মাথায় বারি মেরে অজ্ঞান করে তো কর্ম সাবাড় করা যাবে না। তাকে বলার পর সিনেমার ভিলেনের মত দাঁত কেলিয়ে হাসতে লাগল। নাসারন্ধ্র বিস্ফোরিত হয়ে কেমন যেন হায়না হায়না ভাব ধারন করল। দেখেই ব্রহ্মতালু জ্বলে উঠল। রাগের চোটে চোখ মুখ খিঁচিয়ে তাকিয়ে থাকলাম। আমাকে দেখেই ফাটা ফানুসের মত চুপসে গেল। মনে মনে ভাবলাম বাছাধন এখনো চেননি আমাকে!

সন্তান আমার তিনটি। তিনটি ছেলে। বড় দুজন জমজ। বয়স এগার। তার সাড়ে তিন বছর পর ছোটটি। এমনিতে ভালই তবে মাঝে মাঝে যুদ্ধ করে একসাথে। আমার তখন পাগল পাগল লাগে। পাশের ঘরে বসে টিভি দেখি, ডাউনলোড করা প্রিয় প্রিয় সিনেমা। আমার টিভি দেখার ইচ্ছাকে ছাপিয়ে ডোরিমন দেখা এদের কারোই সাধ্যি নেই। “রিমোট ধরিস তো মাইরা ফেলামু তোদের” এই আমার ওদের সাথে কথা বলার ভাষা। বড় দুজন বড় হচ্ছে দেখে মাঝে মাঝেই বলি, “কয়েকদিন পর তোদের এমন হবে যে মেয়ে দেখলেই মাথা ঘুরে যাবে। মনে হবে এই মেয়েরে ছাড়া বাচুম না। খুব সাবধান, সব মেয়েরা ভাল না, তোদের ধোকা দিবে, ‌ ইউস করবে। কোনো মেয়েরে ভাল লাগলে আমারে কইবি, আমি দেইখ্যা শুইন্যা ভাল বুঝলে তারপর আগাবি। তা না হইলে কইলাম থাবড়ে গাল ফাটায় দিমু” আমি আসলে বুঝিও না জানিও না কিভাবে বাচ্চাদের মানুষ করতে হয়। যা মনে আসে তাই করি। মনে ইচ্ছা হল, বললাম, “চল খেলি” “আম্মু কালকে ক্লাস টেস্ট, পড়তে হবে” “পড়া লাগবে না ফেল করবি, চল খেলি” এ কাজ করি মাঝে মাঝে। তবে বড় পরীক্ষাগুলোতে করিনা। আবার মাঝে মাঝে আমার কাছে বকাও খায় ভাল, তাও তিনজনই আমার ঘেষা। বেচারাদের আসলে আরো কয়েকজন মা থাকলে, সবার মধ্যে বেছে নিতে পারত। সেই সুযোগ তো নাই। কিছুক্ষণ পরপরই কোলের মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে আদর নিয়ে যায়। রাগ, দুঃখ, অভিমানের যত কথা সব আমার সাথে তাদের। মন রক্ষা করে এক একটা সমস্যার সমাধান যে কি কঠিন! বাইরের কেউ ওদের কাউকে কিছু বললে বা করলে, যেখানে ওদের দোষ নাই, সাক্ষাৎ কালির রূপ ধারন করি। আবার ওরা কিছু করলে তখন ওদেরও ছেড়ে দেই না, কিন্তু মনে মনে খুব দুঃখ লাগে, বুঝতে পারি এই বদগুনটা পিতৃসূত্রে প্রাপ্ত, ওদের করনীয় কিছুই নেই।
শেয়রিংটা খুব সাংঘাতিক ব্যাপার। কোনো কোনো জিনিস আছে যা সমান তিন ভাগে ভাগ করা যায় না। এই যেমন পিজ্জা, এক্কেবারে মাইক্রোস্কোপের নিচে ফেলে কি তিনভাগ করা সম্ভব? তখন বানরের পিঠা ভাগের মত অবস্থা হয়। আমি সমানে কাটতে থাকি আর খেতে থাকি। বাচ্চাদের কল্যানে হাতি প্রমান সাইজ হয়েছি। ওরা সব খ্যাংরা কাঠি। ওদের বাবা তো বিশাল সাইজ। খেয়ে খেয়ে নিজেকে এ কটা বছর কি যে বানিয়েছে! ও’ অবশ্য দুঃখ হলে খায়। তা বাবা ওর জীবনে দুঃখ আছে বটে! কেন কে জানে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৪৬
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সদয় আচরণ করলে আল্লাহর ভালোবাসা পাবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

১) "দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজ দেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় আচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×