somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাইয়ূম স্যারকে নিয়ে স্মৃতি-টুকরো

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাইয়ূম স্যারকে নিয়ে স্মৃতি-টুকরো

দেখা হলেই কাইয়ূম স্যার বলতেন, 'তোমার কবিতায় অলঙ্করণ করতে অামার ভাল্লাগে। কিন্তু তুমি কি অামার কভার পছন্দ করো না?' অামি কাচুমাচু হয়ে সেদিন বললাম, 'স্যার, অাপনার কাজ সবসময় অামার জন্যে শিক্ষণীয়, মনোযোগ দিয়ে দেখার। ভালো লাগে।'
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষক-কৃষাণীর গ্রাম-বাংলা রঙে-রেখায় তিনি ক্যানভাসে ধরেছেন। অাঁকায় নিজের একটা স্টাইল দাঁড় করিয়েছেন শক্তভাবে। বাংলাদেশের গ্রাফিক ডিজাইন-বুক কভারে বলা যায় কাইয়ূম স্যারই পথিকৃৎ। পন্চাশের দশক থেকে এক্কেবারে গতসপ্তাহ পর্যন্ত কাজ করেছেন। প্রচুর কাজ করেছেন শিল্পী কাইয়ূম চৌধুরী। ব্যবহারিক শিল্পকলা তাঁর হাতেই সর্বোচ্চ বিকশিত-বিস্তৃত, বলতে পারি স্যারের একজন ছাত্র হিসেবে। তো একদিন বললাম, 'স্যার, অামার প্রধম বইটাই কিন্তু অাপনার করা প্রচ্ছদ।'
স্যার বললেন, 'এরপর তো সব ধ্রুব করে যাচ্ছে, অামি দেখি কিন্তু।'
বললাম, 'স্যার ধ্রুব দা হয়তো বেশি, কিন্তু শিশির ভট্ট, মাসুক হেলাল, উত্তম সেন, সব্য'ও অামার বইয়ের কভার করেছেন।' বললাম, 'স্যার, অাপনি অামার একটা কালেকশনে কভার করে দেবেন।'
স্যার খুশি হয়েই বললেন, 'একদিন ফোন করে বাসায় এসো। শোনো, তোমার কবিতা অামার খুব ভাল্লাগে।'
'অাপনার কবিতাও পড়তিছি স্যার...'
'কই, বলো-টলো না তো কিছু।'
.........
সাম্প্রতিক সময়ে বর্ষীয়ান শিল্পী কাইয়ূম চৌধুরীর কবিতা অামরা পড়ছিলাম, বিশেষ করে 'কালি ও কলম' এবং 'প্রথম অালো'তে। কয়দিন স্যার, অামার ও ইমরান মাঝির কবিতা একসঙ্গে ছাপা হলো প্রথম অালোতে। সেখানে স্যারের করা একটা সুন্দর ইলাস্ট্রেশনও ছিল। এবার বেঙ্গল শাস্ত্রীয় উৎসবে, সম্ভবত উৎসবের দ্বিতীয় রাতে, অার্মি স্টেডিয়ামের মাঠে বুনো, মীর রাব্বি-অামি নানান বিষয়ের অাড্ডায় কী কারণে যেন তরুণ কবি কাইয়ূম চৌধুরীর কবিতা নিয়ে কথায় মেতে উঠলাম। সে রাতে মন্চে উঠে কোনো এক শিল্পীর বাদন শেষে তাঁকে অানুষ্ঠানিক ক্রেস্ট দিলেন কাইয়ূম স্যার। তারপর, পরদিন সন্ধ্যপার হয়ে যাওয়া রাতেই, প্রিয় শিল্পীদের একজন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পাওয়া একজন প্রিয় শিক্ষক, গুণী মানুষ চলে গেলেন। বর্ণাঢ্য স্যারের রঙ-রেখার কর্মময় জীবন, মৃত্যুও কম বর্ণাঢ্য নয়।
মনে পড়ল, গতবছর সৈয়দ হকের ৭৯ তম জন্মদিনের উৎসবে বক্তা হিসেবে অন্যদের মতোই কাইয়ূম চৌধুরীর জন্যে নির্ধারিত ছিল ৫ মিনিট। কাইয়ূম স্যার তাঁর জিগিরি-ইয়ার সৈয়ক হককে নিয়ে বললেন ৪৪ মিনিট। অামাদের অনুষ্ঠানের টাইম-ডিজাইন ভেঙে যাচ্ছিল প্রায়। স্যার এসে তাঁর জন্যে নির্ধারিত চেয়ারে বসলেন। পরবর্তী বক্তার নাম ঘোষণা হলো। সম্ভবত তিনি সেলিনা হোসেন। সেলিনা হোসেন চেয়ার থেকে উঠে ডায়াসের দিকে যাচ্চেন, এর মধ্যে অঅমার ডানপাশের চেয়ারে বসা কাইয়ূম স্যার অামাকে বললেন (অামি ছিলাম হকের ৭৯ জন্মবার্ষিকীর কনভেনর, শিল্পকলা একাডেমি এবং ডিজি লাকী ভাই সাপোর্ট দিয়েছেন), 'অামি অার একটা কথা বলতে চাই।'
বললাম, 'জি স্যার'
এবারও, সঙ্গীত উৎসব মন্চে তিনি নিজের নির্ধারিত বক্তব্য শেষ করে পরের বক্তা অানিসুজ্জামান স্যার যখন কথা বলতে উঠছেন, তখন ৮২ বছর বয়সী সৃজনমুখর শিল্পী কাইয়ূম স্যার অারো একটি না বলা কথা বলতে ঢের ডায়াসের কাছাকাছি গেলেন এবং তিনি একটি বাক্য নয়, শুধু, 'অামি অার একটা কথা বলতে' পর্যন্ত বলেই ঢলে পড়লেন সুর-মূছনার মন্চে।
কী মিল-অমিল একটা ঘটনার!
শিল্পী কাইয়ূম চৌধুরীর কাছে অামাদের অনেক ঋণ থেকে গেল...

অারেকটা কথা, স্যারের মৃত্যু নিয়ে কোনোপ্রকার তর্ক-বিতর্কে অামার সায় নেই। ওরে পাগল, মানুষ তো জন্মায়ই মরার জন্যে। যা দেবার, ঢের দিয়েছেন কাইয়ূম চৌধুরী। এরকম শিল্পী-মানুষের মৃত্যু হয় নাকি? নিজের অাঁকিবুকির খাতায় যেমন, শতসহস্র বাংলাভাষার প্রচ্ছদেই তো অমর হয়ে থাকবেন। শিল্পী না? শিল্পীই তো স্রষ্ঠা, স্রষ্ঠারা অমর...
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ ভোর ৪:০২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট টেলিফোন কম্পানি হলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



গত ব্লগে টেলিফোন নিয়ে বলেছিলাম। মোবাইল থেকে টেলিফোনে কল দেওয়া বা রিসিভ করা যেতো না। শুধু টিএনটি একটিভ করা সিমে টেলিফোনে কল করা যেতো। বা টেলিফোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×